ইতিহাস বিকৃত করে সবাইকে ভুলিয়ে রাখা হয়েছিল, শ্যামাপ্রসাদের জন্মবার্ষিকীতে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর
ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের 125তম জন্মবার্ষিকী পালনের অনুষ্ঠানে 125 ফুট উঁচু একটি পূর্ণাঙ্গ মূর্তি তৈরির কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যজুড়ে প্রায় 10000 কর্মসূচির আয়োজন করা।

Published : July 6, 2026 at 9:02 PM IST
কলকাতা, 6 জুলাই: রাজ্যের নতুন সরকার ঠিক কোন রাজনৈতিক এবং আদর্শগত দিশায় কাজ করবে, তা এবার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার ছিল ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের 125তম জন্মবার্ষিকী। এই বিশেষ দিনটি উপলক্ষে কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী জোর গলায় জানিয়ে দেন, নতুন সরকার সম্পূর্ণভাবে শ্যামাপ্রসাদের দেখানো পথেই হাঁটবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "বর্তমান রাজ্য সরকার সম্পূর্ণভাবে শ্যামাপ্রসাদের বিচারধারা, দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রবাদী আদর্শে পরিচালিত হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির 'বিকাশ ভি, বিরাসত ভি' (উন্নয়নও হবে, ঐতিহ্যের সুরক্ষাও হবে) মন্ত্রই হবে এই সরকারের আগামী দিনের পথ চলার মূল ভিত্তি।"
গত 9 মে রাজ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানিয়েছেন, সরকার গঠনের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করেছিলেন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের 125তম জন্মজয়ন্তী যাতে গোটা রাজ্যজুড়ে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হয়, সেই নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশ মেনেই সোমবার রাজ্যে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যজুড়ে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট 10 হাজার কর্মসূচির আয়োজন করা হয় এদিন। এছাড়া, ডক্টর মুখোপাধ্যায়ের 125 ফুট উঁচু একটি পূর্ণাঙ্গ মূর্তি তৈরির কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, হুগলি জেলার জিরাটে তাঁর পৈতৃক ভিটের জমিও ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারের তরফে কিনে নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, সেখানে আগামী দিনে একটি আন্তর্জাতিক মানের সংগ্রহশালা ও স্মারক গড়ে তোলা হবে।
বাঙালি হিন্দুদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ তৈরিতে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। এদিন সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে পূর্বতন সরকারগুলিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলার ইতিহাসকে পরিকল্পিতভাবে বিকৃত করা হয়েছে।
এই বিষয়ে পূর্বতন সরকারগুলির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, "1947 সালের 20 জুন ডক্টর মুখোপাধ্যায়ের সুযোগ্য নেতৃত্বেই তৎকালীন আইনসভায় 58-21 ভোটে এই পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। অথচ স্বাধীনতার পর কংগ্রেস, তার পরবর্তী 34 বছরের কমিউনিস্ট জমানা এবং বিগত 15 বছরের তৃণমূল সরকার এই অকাট্য সত্য ও ইতিহাসকে পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দিয়ে বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের কাছ থেকে ভুলিয়ে রাখার কাজ করেছিল।"
পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন নিয়েও বিগত রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন রাজভবনে নরেন্দ্র মোদি সরকারের উদ্যোগেই 20 জুন দিনটিকে মর্যাদার সঙ্গে 'পশ্চিমবঙ্গ দিবস' হিসেবে পালন করা শুরু হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সেই সময় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই আগের সরকার জোর করে পয়লা বৈশাখকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে মানুষের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়। তবে বর্তমান সরকার এই বিকৃত ইতিহাস দ্রুত শুধরে নিতে বদ্ধপরিকর বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
ডক্টর মুখোপাধ্যায়ের বিখ্যাত রাজনৈতিক স্লোগান ছিল, 'এক দেশ মে দো প্রধান, দো নিশান, দো বিধান নেহি চলেঙ্গে'। তাঁর এই ঐতিহাসিক লড়াইকে সম্মান জানিয়েই কাশ্মীর থেকে 370 ও 35এ অনুচ্ছেদ পুরোপুরি বাতিল করেছে কেন্দ্র। এদিনের মঞ্চ থেকে সেই কারণে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রাজ্যবাসীর তরফ থেকে কোটি কোটি প্রণাম জানান মুখ্যমন্ত্রী।

