ETV Bharat / state

কর্মরত অবস্থায় ঠিকা শ্রমিকের মৃত্যু! ক্ষতিপূরণের দাবিতে দুর্গাপুরে দেহ আটকে বিক্ষোভ

অভিযোগ, শ্রমিকদের জন্য ইএসআই বা অন্য কোনও সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই । বছরের পর বছর অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে ।

durgapur
ক্ষতিপূরণের দাবি (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : July 3, 2026 at 6:31 PM IST

2 Min Read
Choose ETV Bharat

দুর্গাপুর, 3 জুলাই: কাজ করতে করতেই আচমকা অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হল এক ঠিকা শ্রমিকের । সেই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি কারখানা চত্বর । মৃতদেহ কারখানার সামনে রেখে বিক্ষোভে সামিল হন পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-পরিজন এবং সহকর্মীরা । তাঁদের দাবি, মৃতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং পরিবারের এক সদস্যকে স্থায়ী চাকরি দিতে হবে । পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কোকওভেন থানার পুলিশ ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কোকওভেন থানার অন্তর্গত ডিপিএল প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন একটি বেসরকারি কারখানায় কর্মরত ছিলেন ওই শ্রমিক । বৃহস্পতিবার কর্মরত অবস্থাতেই তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন । সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন । মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই কারখানার কর্মীদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে ৷ প্রতিবাদে তাঁরা সকলে কারখানার গেটের সামনে জড়ো হন । এরপর মৃতদেহ কারখানা চত্বরে রেখে শুরু হয় বিক্ষোভ ।

কর্মরত অবস্থায় ঠিকা শ্রমিকের মৃত্যু ! ক্ষতিপূরণের দাবিতে দুর্গাপুরে দেহ আটকে বিক্ষোভ (ইটিভি ভারত)

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারের মাধ্যমে কর্মরত অস্থায়ী শ্রমিকদের পর্যাপ্ত সামাজিক সুরক্ষা ছাড়াই কাজ করানো হচ্ছে । ইএসআই, স্বাস্থ্যবিমা-সহ শ্রমিকদের প্রাপ্য একাধিক সরকারি সুবিধা থেকে তাঁরা বঞ্চিত বলেও দাবি করেন আন্দোলনকারীরা । মৃতের আত্মীয় সাগর চৌহ্বানের অভিযোগ, "শ্রমিকদের জন্য ইএসআই বা অন্য কোনও সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই । বছরের পর বছর অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে । আজ একজনের মৃত্যু হয়েছে, কাল আরও কারও হতে পারে ।"

compensation
শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ (নিজস্ব চিত্র)

শ্রমিকরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, এই বঞ্চনা তাঁরা আর মানবেন না ৷ দাবি পূরণ না হওয়া পর্য়ন্ত কারখানার গেটে মৃত শ্রমিকের দেহ রেখে বিক্ষোভ চালানোর হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা ৷ ঘটনার পর কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় আলোচনা শুরু হয় । পরে পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে ৷ তবে এই ঘটনায় প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি কারখানা কর্তৃপক্ষ ।

এই ঘটনাকে ঘিরে ফের প্রশ্ন উঠেছে ঠিকাদারের মাধ্যমে নিয়োগ করা শ্রমিকদের শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আদৌ মানা হচ্ছে কি না । ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে কোকওভেন থানার পুলিশ । পাশাপাশি শ্রমিকের মৃত্যুর নেপথ্যে কর্মস্থলের পরিবেশ বা অন্য কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে ।