সংখ্যাটা এখন 2300, লক্ষ্য পাঁচ হাজার; বিশ্বজুড়ে বটবৃক্ষ রোপণ শ্যামল স্যরের
লক্ষ্য পাঁচ হাজার বটবৃক্ষ রোপণ। বটবৃক্ষই কেন বেছে নিয়েছেন শ্যামল জানা, ব্যখ্যা দিলেন ইটিভি ভারতকে ৷ অরণ্য সপ্তাহের প্রাক্কালে অভিষেক দত্ত রায়ের বিশেষ প্রতিবেদন ৷

Published : July 7, 2026 at 9:16 PM IST
বোলপুর, 7 জুলাই: বাংলার নানা কোণে বটগাছের চারা রোপণ করেছেন। কখনও রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলায় তো কখনও আবার জঙ্গলমহলে ৷ কাঁথির শিক্ষক বৃক্ষরোপণ করেছেন কলকাতা শহরেও ৷ তাঁর ইচ্ছে, শুধু রাজ্যের মধ্যেই সীমাবন্ধ থাকেনি, দেশ, বিশ্বজুড়ে তিনি বটবৃক্ষ রোপণ করে চলেছেন ৷ সামনেই অরণ্য সপ্তাহ, আগামী 14 থেকে 20 জুলাই বাংলায় অরণ্য সপ্তাহ তথা 'বন মহোৎসব' পালন হবে দিকে দিকে ৷ ইটিভি ভারত তুলে ধরল শ্যামল জানার কর্মকাণ্ড ৷
5,000 বটবৃক্ষ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এখনও পর্যন্ত 2310টি জাতীয় বৃক্ষ রোপণ করেছেন শ্যামল জানা ৷ 2000 সাল থেকে তিনি এই কাজ করে চলেছেন, এত বছর ধরে পেশায় শিক্ষক এই ব্যক্তি পশ্চিমবঙ্গের 23টি জেলার পাশাপাশি, ভারতের 28টি রাজ্য ও 6টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বটবৃক্ষ রোপণ করেছেন ৷
শুধু দেশের মধ্যে নয়, প্রতিবেশী নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশে গিয়েও বটবৃক্ষ রোপণ করে এসেছেন ৷ এবার কবিগুরুর বোলপুরে এসে বৃক্ষরোপণ করলেন ৷ বটবৃক্ষই কেন বেছে নিয়েছেন, শ্যামল জানা তার ব্যখ্যাও দিলেন ইটিভি ভারতকে ৷

পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির বাসিন্দা শ্যামল জানা। 2012 সাল থেকে কাঁথি কুলাই প্রদিমা জুনিয়র বেসিক স্কুলে শিক্ষকতা করছেন তিনি ৷ স্ত্রী ও এক কন্যা সন্তান নিয়ে তাঁর সংসার ৷ বাড়ছে পরিবেশ দূষণ, হারাচ্ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য, হচ্ছে বৃক্ষ ছেদন প্রভৃতি নাড়া দিয়েছিল শ্যামলকে। সেই খামতি কিছুটা পূরণ করতে 2000 সাল থেকে তিনি বটবৃক্ষ রোপণ যাত্রা শুরু করেছেন ৷

অনেকে তাঁকে সেই সময় 'পাগলের ডাক' বলেও কটাক্ষ করেছেন ৷ সে সব উপেক্ষা করে পশ্চিমবঙ্গের 23টি জেলা-সহ ভারতবর্ষের 28টি রাজ্য ও 6 কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে বট গাছ রোপণ করেছেন ৷ শুধু রোপণ করেছেন তাই নয়, পরবর্তীতে বহু জায়গায় রোপণ করা গাছগুলি কত বড় হল তাও দেখতে গিয়েছেন বারে বারে ৷ এছাড়াও, প্রতিবেশী দেশ নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ গিয়েও বটগাছ রোপণ করে এসেছেন শ্যামল মহাশয় ৷

5,000টি বটবৃক্ষ রোপণের সংকল্প নিয়েছেন তিনি ৷ এই প্রথমবার তিনি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোলপুরে সরপুকুর ডাঙায় এসে বৃক্ষরোপণ করেন ৷ এটি তাঁর 2 হাজার 310তম বট গাছ রোপণ। এই কাজের জন্য তাঁকে বহু মানুষ বটগাছ রোপণকারী ভ্রাম্যমাণ পুরুষ হিসাবেই চেনেন ৷

তবে তিনি কেন শুধুমাত্র বট গাছই রোপণ করার জন্য বেছে নিয়েছেন? এই প্রশ্নে ইটিভি ভারতে শিক্ষক শ্যামল জানা বলেন, "বটবৃক্ষ হল আমাদের জাতীয় বৃক্ষ। আর এই গাছের কাঠ দিয়ে তেমন আসবাবপত্র হয় না, জ্বালানির কাজেও ব্যবহার হয় না ৷ পাশাপাশি, শতকের পর শতক ধরে বেঁচে থাকে, অন্যান্য গাছের তুলনায় প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন দেয়, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। এমনকী, এই গাছকে ঘিরে গড়ে ওঠে একটা জীব-বৈচিত্র্য। তাই বটবৃক্ষ রোপণকেই জীবনের অঙ্গ হিসাবে বেছে নিয়েছি আমি ৷"

তিনি আরও বলেন, "পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে, এই রকম নানা ঘটনা আমাকে নাড়া দিয়েছিল ৷ তাই সংকল্প নিয়েছি, 5 হাজার বটগাছ লাগাব ৷ সেই মতো কাজের ফাঁকে ফাঁকে বেরিয়ে পড়ি গাছ লাগাতে ৷ অনেকেই ব্যঙ্গ করেছিলেন প্রথম দিকে ৷ এই প্রথম কবিগুরুর বোলপুরে বৃক্ষরোপণ করে অন্য এক অনুভূতি হচ্ছে ৷ রাজ্যের জেলাগুলি, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গিয়ে বটগাছ লাগিয়েছি, 3 প্রতিবেশী দেশেও গিয়েছি গাছ লাগাতে ৷ বহু মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। তাদেও বলেছি গাছ লাগাতে, আর এই বার্তা ছড়িয়ে দিতে।"

ওয়েস্ট বেঙ্গল বায়োডাইভার্সিটি বোর্ডের বীরভূম জেলার সমন্বয়ক অরূপ থান্দার বলেন, "বহুদিন থেকে ওনার লক্ষ্য 5 হাজার বটগাছ রোপণ করার ৷ শুধু রোপণ নয়, বাঁচিয়ে তোলার। ওনার এই কাছে আমরা সকলেই খুব অনুপ্রাণিত। পশ্চিমবঙ্গ জীব-বৈচিত্র্য পর্ষদ শ্যামল স্যরকে সম্মানিতও করেছেন ৷ গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর ফলে জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে, এই সময় ওনার সংকল্পই রক্ষা করতে পারে আমাদের ৷ তিনি আমাদের শেখালেন কেন বট গাছই রোপণ করা বেশি জরুরি।"

