নিযুক্ত হচ্ছেন কি ভিনরাজ্যের বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা ? SIR-এর নিষ্পত্তিতে বিলম্বের শঙ্কা
28 ফেব্রুয়ারি তালিকা প্রকাশের পর, কতদিনে শেষ হবে নথি যাচাই ও নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া, নিরুত্তর সিইও দফতর ৷

Published : February 25, 2026 at 4:18 PM IST
কলকাতা, 25 ফেব্রুয়ারি: এসআইআর-এর নথি যাচাই ও নিষ্পত্তির জন্য ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে অনুমতি সাপেক্ষে বিচারক এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের নিযুক্ত করা যাবে ৷ এমনই নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট ৷ তবে পুরোটাই নির্ভর করছে প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্তের উপর ৷ আর হাইকোর্ট যদি ভিনরাজ্য থেকে বিচারবিভাগীয় আধিকারিক বা জুডিশিয়াল অফিসারদের চেয়ে অনুরোধ জানায়, সেক্ষেত্রে কতজন বিচারক ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারক আসবেন, আর তাঁরা কাজ কবে শুরু করবেন ? এমনই একাধিক প্রশ্নের স্পষ্ট কোনও জবাব নেই রাজ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে ৷ ফলে ঠিক কবে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ও আনম্যাপড ভোটারদের নথি যাচাই ও নিষ্পত্তির কাজ শেষ হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে ৷
কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নেতৃত্বে রাজ্য ও কেন্দ্রের প্রতিনিধিদল এবং সিইও দফতর পরপর বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছে সাম্প্রতিক সময়ে ৷ সেই বৈঠকের পর মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে একটি স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেয় কলকাতা হাইকোর্ট ৷ সেখানেই জানা যায়, রাজ্য থেকে নিযুক্ত 250 জন বিচারক যদি প্রতিদিন আড়াইশো লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ও আনম্যাপড ভোটারদের নথি যাচাই ও নিষ্পত্তি করেন, তাহলে পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে আশি বা তারও বেশি দিন সময় লাগতে পারে ৷
এরপরেই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চ নির্দেশ দেয় বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়োগের সংখ্যা প্রয়োজন মতো বৃদ্ধি করতে পারবে কলকাতা হাইকোর্ট ৷ এর জন্য কমপক্ষে তিন বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন দেওয়ানি বিচারক (সিনিয়র ও জুনিয়র ডিভিশন)-দের নথি যাচাই ও নিষ্পত্তির কাজে নিযুক্ত করা যাবে ৷
এরপরেই প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ কলকাতা হাইকোর্টকে নির্দেশ দেয়, দেওয়ানি বিচারক নিযুক্ত করার পরেও যদি নথি যাচাই ও নিষ্পত্তির কাজে বিচারবিভাগীয় আধিকারিক নিয়োগের প্রয়োজন পড়ে, তাহলে প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে অতিরিক্ত জেলা বিচারক বা সমান গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের নিযুক্ত করতে পারবে ৷ তবে, এর জন্য ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে বিচারকদের পশ্চিমবঙ্গে পাঠানোর জন্য আবেদন করতে হবে ৷
কিন্তু, এই বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা কবে থেকে কাজ শুরু করবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয় ৷ কারণ, বিচারকদের তালিকা তৈরি করে তাঁদের নিযুক্ত করলেই হবে না ৷ নথি যাচাই ও নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ার ব্যাপারে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের দু’দিনের প্রশিক্ষণ দিতে হবে ৷ এরপর সংশ্লিষ্ট বিচারকদের কমিশনের পোর্টাল ব্যবহারের জন্য আইডি ও পাসওয়ার্ড তৈরি করতে হবে ৷ এই পুরো প্রক্রিয়ার পর তাঁরা কাজ শুরু করতে পারবেন ৷
আর ভিনরাজ্যের বিচারকদের নিয়ে আসার প্রয়োজন পড়লে, প্রথমে আবেদন করতে হবে ৷ তারপর সংশ্লিষ্ট রাজ্যের হাইকোর্ট বিচারকদের তালিকা তৈরি করে, তা পাঠাবে ৷ একইভাবে সেই বিচারকদের প্রশিক্ষণ-সহ অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কাজ শুরু করতে আরও সময় যাবে ৷ ফলে নথি যাচাই ও নিষ্পত্তির এই প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘ হতে চলেছে বলে আশঙ্কা করছে সিইও দফতর ৷
কিন্তু, সমস্যা অন্য জায়গায় হয়েছে ৷ কারণ, সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হাইকোর্টের রিপোর্টে প্রায় 50 লক্ষ লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ও আনম্যাপড ভোটারদের নামের উল্লেখ করা হয়েছিল ৷ কিন্তু, মঙ্গলবারের দিন শেষ হতে-হতে সংখ্যাটা বৃদ্ধি পেয়ে প্রথমে 60 লক্ষ ও পরে 80 লক্ষে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৷ কমিশন সূত্রে খবর, সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে ৷ ফলে দিন-দিন যদি এভাবেই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ও আনম্যাপড ভোটারের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তাহলে সমস্যা আরও বৃদ্ধি পাবে ৷ ফলে 28 ফেব্রুয়ারির পর ঠিক কবে গিয়ে নথি যাচাই ও নিষ্পত্তির কাজ শেষ হবে, তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও সময় কমিশন বলতে পারছে না ৷
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশ অনুযায়ী 28 ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ কোনওভাবেই সম্ভব নয় ৷ তবে, মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, 28 ফেব্রুয়ারি কমিশনকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে ৷ সেই তালিকায় থাকবে 14 ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইআরও-রা যেসব নাম চূড়ান্ত করেছে তাদের এবং 2002 সালের তালিকা অনুযায়ী ম্যাপড ভোটাররা ৷
আর যাদের নাম 28 ফেব্রুয়ারির তালিকায় উঠবে না, তাদের জন্য শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ও আনম্যাপড ভোটারদের যখন যেমন নথি যাচাই ও নিষ্পত্তি হবে, তখন তেমন অতিরিক্ত তালিকা ধাপে-ধাপে বা একসঙ্গে প্রকাশ করবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ৷ সেক্ষেত্রে পরবর্তী ধাপে প্রকাশিত ভোটারদের নাম 28 ফেব্রুয়ারির তালিকাতেই ছিল ধরে নেওয়া হবে ৷ এই নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের 142 নম্বর অনুচ্ছেদের ক্ষমতাকে ব্যবহার করেছে বলেও জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ৷ ফলে নির্বাচনী নির্ঘণ্ট প্রকাশ হয়ে গেলেও, তাঁদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় থাকবে এবং ভোট দিতে পারবে ৷
অন্যদিকে, বুধবার বড়-বড় আবাসনে বুথ তৈরি করা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠকে বসবে সিইও দফতর ৷ যেখানে 300 ও 500-র বেশি ভোটার রয়েছে এমন আবাসনে নির্বাচনী বুথ তৈরি করা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে ৷ যদিও, এই ইস্যুতে আগেই আপত্তি জানিয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ৷ এমনকি জাতীয় নির্বাচন কমিশনও ইঙ্গিত দিয়েছে, নতুন করে বুথ পুনর্গঠন করা হবে না ৷ ফলে এই বৈঠক থেকে কী সিদ্ধান্ত উঠে আসে, সেদিকেও নজর থাকবে ৷
পাশাপাশি, আগামী 1 ও 2 মার্চ দু’দিন রাজ্যে পরিদর্শনে আসার কথা ছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিশেষ প্রতিনিধি দলের ৷ কিন্তু, এসআইআর-এর নথি যাচাই ও নিষ্পত্তি সংক্রান্ত কাজ নির্বিঘ্নে যাতে হয়, তার জন্য আপাতত সফর স্থগিত করেছে কমিশন ৷ পরবর্তী তারিখ কমিশনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে সিউও দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে ৷

