আইপ্যাকে হানায় সংঘাত চরমে, ইডি-সিআরপিএফের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ মমতার
কলকাতার শেক্সপিয়র সরণি থানায় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর তরফে এই অভিযোগ জমা পড়েছে ।

Published : January 9, 2026 at 12:50 PM IST
কলকাতা, 9 জানুয়ারি: আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) তল্লাশি অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সংঘাত চরমে পৌঁছল । এবার ইডি ও সিআরপিএফ-এর অজ্ঞাতপরিচয় আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সরাসরি থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । কলকাতার শেক্সপিয়র সরণি থানায় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর তরফে এই অভিযোগ জমা পড়েছে । গতকাল যে দুটি অভিযোগ হয়েছিল সেটি নাকি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই । লালবাজার ও বিধাননগর কমিশনারেট সূত্রের এমনটাই খবর ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শেক্সপিয়র সরণি থানায় মোট দু’টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে । একটি অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর তরফে, অন্যটি পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা । পুলিশের অভিযোগে বলা হয়েছে, তল্লাশি চলাকালীন তথ্য চুরি হয়েছে এবং সরকারি কর্মীদের ভয় দেখানো হয়েছে । পাশাপাশি পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে ।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের মূল বিষয় - তল্লাশির সময় গুরুত্বপূর্ণ নথি 'মিসিং' হয়ে যাওয়া এবং সেগুলি চুরি করা হয়েছে । অভিযোগে ইলেকট্রনিক ডেটা, নথিপত্র ও সংবেদনশীল তথ্য বেআইনিভাবে সরিয়ে নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে । যদিও কোনও নির্দিষ্ট আধিকারিকের নাম উল্লেখ না-করে অজ্ঞাতপরিচয় ইডি ও সিআরপিএফ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে ।
শুধু শেক্সপিয়র সরণি থানা নয়, বিধাননগর কমিশনারেটের অধীন ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানাতেও এই সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তবে সেই অভিযোগগুলির বিস্তারিত এখনও সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, কয়লা পাচার মামলার সূত্রে বৃহস্পতিবার ভোরে লাউডন স্ট্রিটে আই-প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেকের সেক্টর ফাইভের অফিসে একযোগে তল্লাশি অভিযান শুরু করে ইডি । তল্লাশি চলাকালীন দুই জায়গাতেই পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোথাও তাঁকে নিজেই নথি হাতে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়, আবার কোথাও তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ নথিপত্র সংগ্রহ করে গাড়িতে তোলে ।
এরপর থেকেই পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে । মুখ্যমন্ত্রী একের পর এক অভিযোগ তুলে বলেন, এটি সম্পূর্ণ 'ক্রাইম'। তাঁর দাবি, নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ কৌশল ও রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি সংক্রান্ত নথি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে । এই ঘটনাকে কেন্দ্রীয় সংস্থার ক্ষমতার অপব্যবহার বলেও কটাক্ষ করেন তিনি ।
অন্যদিকে, ইডির তরফে পালটা বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে । ইডির দাবি, তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য পুলিশের কর্মীরা জোর করে নথি ও ইলেকট্রনিক এভিডেন্স সরিয়ে নিয়েছেন, যার ফলে তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে । কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ও রাজ্য সরকারের এই মুখোমুখি অবস্থান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে । কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা । এই মামলার পরবর্তী আইনি ও রাজনৈতিক রূপরেখার দিকেই এখন নজর রাজ্যবাসীর ।

