'ভুল প্রচার বন্ধ হোক', যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে সরব পড়ুয়া থেকে অধ্যাপকরা
বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্কে ভুল প্রচার বন্ধ হওয়াই বাঞ্ছনীয়, বলছে যাদবপুরের শিক্ষক সংগঠন জুটা ৷

Published : August 29, 2026 at 10:08 AM IST
কলকাতা, 29 অগস্ট: বন্দে মাতরম অনুষ্ঠানে গিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ৷ তারই পাল্টা সরব হন পড়ুয়া থেকে অধ্যাপকরা ৷
শুভেন্দু বলেন, "ফ্রি প্যালেস্টাইন কেন, লিখুন ফ্রি পিওকে, লিখুন পাক অধিকৃত কাশ্মীর চাই। আপনারা কীসের আজাদি চান ? হেরোইন খাওয়ার আজাদি ? গাঁজা খাওয়ার আজাদি ? 1947 সালে দেশ স্বাধীন করে গিয়েছেন ক্ষুদিরাম বসু, নেতাজীরা। আবার কীসের আজাদি ? জানি তো কে, কোথায়, কী করছে... ড্রোন ওড়াব। আমি জঞ্জাল সাফাই করতে জানি। নন্দীগ্রাম থেকে বামেদের সাফাই করেছি, জঙ্গলমহল থেকে কিষেণজিকে সাফাই করেছি। মহরমে অস্ত্র নিয়ে বেরনো বন্ধ করেছি। হয় এরা থাকবে, না-হয় আমরা থাকব।"
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এষণা সেন বলেন, "যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনতা সংগ্রামের আঁতুড় ঘর। সেখানে এসে যদি বাইরে থেকে বহিরাগত ঢুকিয়ে ভুল তথ্য ছড়িয়ে যদি তাঁরা ভাবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কালিমালিপ্ত করা যায়, তাহলে সেটাকে কীভাবে ধুলিস্যাৎ করতে হয় সেটা আমরা জানি। আমি এমন একটা দেশে বাস করি যেখানে পিতৃতান্ত্রিক সমাজ, মনুবাদ-পুঁজিবাদের থেকে আজাদি চাইব। আমাদের ভারতবর্ষে থেকে যে যে আমাদের ন্যায়সম্মত দাবি, সেগুলি চেয়ে নেওয়ার জন্য আজাদি চাইব।"

অন্যদিকে, যাদবপুরের শিক্ষক সংগঠন জুটার তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্তরাধিকার বহন করছে। স্বদেশি আন্দোলনের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম। রাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এর সঙ্গে আমাদের সকলের সম্মান জড়িয়ে আছে।এখানে আমরা-ওঁরা'র কোনও জায়গা নেই । বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্কে ভুল প্রচার বন্ধ হওয়াই বাঞ্ছনীয়।
আবুটা (All Bengal University Teachers Association, Jadavpur University Chapter)-র সাধারণ সম্পাদক গৌতম মাইতি প্রেস বিবৃতি দিয়ে জানান, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তাঁরই রাজ্যের একটি প্রথিতযশা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের 'বেয়াদব', 'টুকরে টুকরে গ্যাং' বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, তিনি পুলিশমন্ত্রী, জঞ্জাল সাফাই করতে জানেন... ৷ তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষকদের উপর নজরদারির হুমকি দিয়েছেন এবং 'জঞ্জাল সাফাই'-এর মতো ভাষার ব্যবহার করেছেন। ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে যে ভঙ্গিতে এবং যে ভাষায় তিনি কুৎসিত আক্রমণ করেছেন, তা উদ্বেগজনক এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। যাদবপুরের ছাত্র- শিক্ষকদের তিনি যেভাবে দেশবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তা বিভ্রান্তিকর ও চরম উদ্বেগের।

