হাসপাতালে দালালরাজ রুখতে স্বাস্থ্যভবনে লাইভ কন্ট্রোল রুম, সরাসরি নজরদারির নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
স্বাস্থ্যভবনের নতুন কন্ট্রোল রুম মূলত, হাসপাতাল চত্বর থেকে দালাল দৌরাত্ম্য নির্মূল করা এবং সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি কমানোই এই নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।

Published : July 9, 2026 at 3:46 PM IST
|Updated : July 9, 2026 at 3:51 PM IST
কলকাতা, 9 জুলাই: রাজ্যের চিকিৎসা পরিষেবা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং হাসপাতালগুলিতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা সুনিশ্চিত করতে বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার সল্টলেকের স্বাস্থ্যভবনে অতর্কিত পরিদর্শনে আসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবনির্মিত অত্যাধুনিক লাইভ কন্ট্রোল রুমটি ঘুরে দেখার পাশাপাশি স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ আধিকারীকদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও করেন তিনি ৷ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই পরিদর্শনে ছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ৷
মূলত হাসপাতাল চত্বর থেকে দালাল দৌরাত্ম্য নির্মূল করা এবং সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি কমানোই এই নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য। স্বাস্থ্যভবনের এই নতুন কন্ট্রোল রুমের কার্যকারিতা মুখ্যমন্ত্রীকে ঘুরিয়ে দেখান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। বর্তমানে রাজ্যের 15 থেকে 16টি বড় সরকারি ও জেলা হাসপাতাল এই কেন্দ্রীয় লাইভ মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় চলে এসেছে। আগামী 30 জুলাইয়ের মধ্যে মহকুমা স্তরের হাসপাতালগুলিকেও এই নজরদারি ব্যবস্থার অধীনে নিয়ে আসার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, আউটডোর, প্রতিটি ওয়ার্ড এবং অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। হাসপাতালে অপরিচিত ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের প্রবেশ রুখতে এই কন্ট্রোল রুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "প্রতিটি হাসপাতালে কোন বিভাগে কোথায় কী সার্জারি হচ্ছে, তা যেমন দেখা যাবে, তেমনই অপরিচিত কেউ ওয়ার্ডে ঢুকছে কি না, বা দালালরা ছদ্মবেশে ঘুরছে কি না, তাও এই কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে ধরা পড়বে।" তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, "কোনও ব্যক্তি যদি নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রতিদিন হাসপাতালের আউটডোর কিংবা ইউএসজি সেন্টারের সামনে ঘোরাঘুরি করেন, তবেই তাঁকে চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ কোনও সাধারণ রোগীর রোজ রোজ হাসপাতালে আসার প্রয়োজন পড়ে না।"
সরকারি হাসপাতালগুলির পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার উপরও বিশেষ জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "সরকারি হাসপাতালগুলির নাম আমরা দিয়েছি 'আয়ুষ্মান মন্দির'। মন্দিরের মতোই এর গরিমা ও পবিত্রতা রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।" হাসপাতাল চত্বরে ছদ্মবেশী দালালদের চিহ্নিত করতে এবং রোগীদের বিভ্রান্তি এড়াতে চিকিৎসা কর্মীদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকাও দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে নার্স, নিরাপত্তারক্ষী, ট্রলি চালক এবং অন্য কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট রঙের ল্যামিনেটেড পরিচয়পত্র ও বিশেষ ব্যাজ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এর ফলে কোনও বহিরাগত বা দালাল হাসপাতালের কর্মীর ছদ্মবেশ ধারণ করতে পারবে না। রোগীদের পরিষেবার মান বাড়াতে পরিকাঠামোগত বেশ কিছু বড় সংস্কারের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, হাসপাতালে রোগীদের দৈনিক খাবারের বাজেট 54 টাকা থেকে বাড়িয়ে সরাসরি 110 টাকা করা হয়েছে । পাশাপাশি বড়সড় বিপর্যয় মোকাবিলায় হাসপাতালগুলিতে আধুনিক 'ট্রমা কেয়ার ইউনিট' গড়ে তোলা হবে, যেখানে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে অন্তত 250 জন রোগীকে জরুরি চিকিৎসা প্রদান করা সম্ভব হবে। এছাড়া, এসএসকেএম হাসপাতালে দুর্গাপুজোর আগে আরও 250টি নতুন শয্যা যুক্ত করা এবং আইসিইউ বেড 112 থেকে বাড়িয়ে অন্তত 200 করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নবান্নের তরফে।
দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের পরিজনদের থাকার জন্য প্রতিটি বড় হাসপাতালে 25 লক্ষ টাকা খরচে আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার নির্দেশ। একই সঙ্গে নিউটাউনে আদানি গোষ্ঠীর উদ্যোগে 2,000 শয্যার একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল গড়ে উঠছে, যার অর্ধেক অর্থাৎ 1,000টি শয্যা দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য সম্পূর্ণ সংরক্ষিত থাকবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মূলত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত ও রোগীবান্ধব করে তোলাই এই নতুন উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

