সংবিধান প্রদত্ত বাক স্বাধীনতা যেন দেশকে দুর্বল করতে না পারে, সংবাদমাধ্যমকে বার্তা শুভেন্দুর
সাংবাদিকরা এখন থেকে দেশের 38 হাজার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে 5 লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ পাবেন ।

Published : September 1, 2026 at 7:49 PM IST
কলকাতা, 1 সেপ্টেম্বর: সরকারের নীতি বা কাজের সমালোচনা করার পূর্ণ অধিকার সংবাদমাধ্যমের রয়েছে। তার জন্য কোনও প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ করা হবে না। কিন্তু দেশের অখণ্ডতা এবং ধর্মীয় ভাবাবেগের প্রশ্নে সাংবাদিকদের আরও কঠোর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। মঙ্গলবার নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে এমনই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তাঁর স্পষ্ট কথা, "আমার সমালোচনা করবেন । আমার দলের করবেন । আমার বক্তব্যের করবেন । আমি মাথা পেতে নেব । তার জন্য প্রতিশোধ নেওয়ার কোনও মানসিকতা আমার থাকবে না। কিন্তু দেশপ্রেমের ক্ষেত্রে আপনারা সবাই একটু কঠোরতা নিয়ে চলবেন । এটুকু আমি বলব।" তিনি মনে করিয়ে দেন, সংবিধান প্রদত্ত বাক্স্বাধীনতা যেন দেশ দুর্বল করার কাজে বা কারও ধর্মীয় আস্থায় আঘাতে ব্যবহৃত না হয় সেটা অবশ্যই দেখতে হবে।
এদিন প্রবীণ সাংবাদিকদের হাতে বর্ধিত পেনশনের চেক এবং সংশোধিত স্বাস্থ্যবিমার কার্ড তুলে দেন তিনি। রাজ্যের সাংবাদিকদের জন্য নতুন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সূচনা করেছে সরকার। সাংবাদিকরা এখন থেকে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’ এবং ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর সুবিধা পাবেন। এর ফলে সারা দেশের 38 হাজার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে 5 লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ মিলবে।
পূর্বতন সরকারের ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্পে এই সুযোগ বাংলার সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে 1700টি হাসপাতালের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "সবচেয়ে বড় কথা আয়ুষ্মান ভারত এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমার আওতায় এইমস থেকে শুরু সিএমসি ভেলোর, মুম্বইয়ের টাটা ক্যান্সার হসপিটাল, চণ্ডীগড় পিজিআই, ডক্টর রেড্ডির হায়দরাবাদের হাসপাতাল বা দেবী শেঠির বেঙ্গালুরুর হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাবে ।"
যে সমস্ত সাংবাদিক আয়ুষ্মান ভারতের তালিকাভুক্ত হতে পারেননি, তাঁরা প্রত্যেকেই মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার কার্ড পাবেন। প্রবীণ ও অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের আর্থিক সুরক্ষাতেও জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। এতদিন অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকরা মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পেনশন পেতেন। সুবিধাভোগীর সংখ্যা ছিল কমবেশি 150। এদিন থেকে এই অঙ্ক একধাক্কায় বাড়িয়ে পাঁচ হাজার টাকা করা হয়েছে। এবার থেকে নিউজ ডেস্কে কর্মরত সাংবাদিকরা, যাঁদের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড নেই, তাঁরাও এই পেনশনের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের পুরনো একটি অনুরোধ রেখেই পেনশনের অঙ্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা, "এই প্রকল্পটি মঙ্গলবার থেকে চালু করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের পেনশনের পরিমাণ আড়াই হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে, দ্বিগুণ করে পাঁচ হাজার টাকা করা হচ্ছে।"

