ETV Bharat / state

অভিষেকের অফিসে তৃণমূলের বিলবোর্ড খুলল পুর-কর্মীরা, ক্যামাক স্ট্রিটে পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের ভবনের উপরে তৃণমূলের সাইনবোর্ড খুলে ফেলল কেএমসি'র কর্মীরা ৷ তুলকালাম কাণ্ড বাধল পুলিশ ও তৃণমূলকর্মীদের মধ্যে ৷

TMC Politics
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের ভবন থেকে খোলা হল তৃণমূলের বিলবোর্ড (ছবি: পিটিআই থেকে স্ক্রিনশট নেওয়া)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 27, 2026 at 7:02 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 27 অগস্ট: তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের কার্যালয়ে দলের বিলবোর্ড খুলতে হঠাৎ হাজির কলকাতা পুরনিগমের আধিকারিকরা ৷ সঙ্গে পুলিশ বাহিনী ৷ তৃণমূল সাংসদ অভিষেক কেএমসি'র নির্দেশিকার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ৷ বচসা বাধে দু'পক্ষের ৷ মুহূর্তে সেই বচসা হাতাহাতিতে পরিণত হয় ৷ শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও পুর কর্মীরা ভবনের ভিতরে ঢোকেন এবং অফিসের উপরে লাগানো 'অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস' লেখা বিলবোর্ডটি ছিঁড়ে খুলে ফেলেন ৷

কলকাতা পুরনিগমের অভিযোগ, ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের ভবনের উপরে লাগানো বিলবোর্ডটি অবৈধ ৷ তাই এদিন এই সাইনবোর্ড খোলার জন্য একটি অর্ডার কপি নিয়ে আসে তারা ৷ তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও পুরকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৷

ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসে পৌঁছে ভবনের উপরে লাগানো তৃণমূলের বিল বোর্ড খুলে ফেলল পুরকর্মীরা, সঙ্গে বিশাল পুলিশ (ইটিভি ভারত)

এদিকে অভিষেকের অভিযোগ, পুরনিগমের আধিকারিকরা কোনও আগাম নোটিশ বা বৈধ নির্দেশনামা ছাড়াই বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে তাঁর ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে ঢোকার চেষ্টা করেন ৷ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন খোদ সাংসদ ৷

পুলিশের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এই অভিযানের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি ৷ পুর আধিকারিকদের কাছে সরকারি নির্দেশনামার প্রতিলিপি দেখতে চান তৃণমূল নেতা । পুলিশকে অভিষেক প্রশ্ন করেন, "কোথায় অভিযানের বৈধ অর্ডার ?" নির্দেশনামা দেখানোকে কেন্দ্র করে একসময় পুলিশ এবং অভিষেকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়, যা দ্রুত ধাক্কাধাক্কির পর্যায়ে পৌঁছয় ৷ শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশের এই পদক্ষেপকে 'দাদাগিরি' ও 'জবরদস্তি' বলে আক্রমণ করেছেন অভিষেক ৷ সেই সময় কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েনও ৷ তিনিও পুলিশ এবং পুরকর্মীদের সঙ্গে তীব্র বাগযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন ৷

এই পুরো ঘটনায় পুলিশ ও পুর প্রশাসনের ভূমিকায় ক্ষোভ উগরে দেন অভিষেক ৷ সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বলেন, "আধিকারিকরা অর্ডার কপি দেখাক, তার পর সেই বিষয় নিয়ে দরকার পড়লে কোর্টে যাওয়া হবে ৷ কারও ব্যক্তিগত পার্টি অফিসে সাইনবোর্ড কোথায় লাগানো হবে, তা কি বিজেপি ঠিক করবে ?" পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, "কেএমসি'র যা তাগিদ, তার থেকে পুলিশের তাগিদ বেশি ৷ গ্যাস কাটার নিয়ে ইন্সপেকশন করতে এসেছে ৷ অর্ডারে লেখা রয়েছে ছবি অ্যাটাচড, অথচ ছবি নেই ৷ অভিযোগ কবে হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য নেই ৷ এটা প্রাইভেট প্রপার্টি ৷ আপনারা জবরদখল করে ঢুকে এখানে যা ইচ্ছে তাই করবেন ?" সাধারণ মানুষের করের টাকায় পুলিশ-প্রশাসনের বেতন হয় বলেও মনে করিয়ে দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ৷

এই আচমকা অভিযানের খবর ছড়াতেই কার্যালয়ের বাইরে ভিড় জমান অভিষেক অনুগামীরা ৷ 'জয় বাংলা' স্লোগান তুলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা ৷ বিনা নোটিশে এই হোর্ডিং উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির ৷ বিরোধীদের নিশানা করে অভিষেক বলেন, "এত ভয় কেন ? মানুষের ভোটে যদি নির্বাচিত হন, তবে সভা-মিছিলের অনুমতি দেবেন না কেন ? তৃণমূল ঘাসফুলের দল, যত কাটবেন তত বাড়বে ৷" পরে কালীঘাট তৃণমূলের কয়েকজন কর্মীকে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ ৷ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ বাহিনী ৷

ঘটনার জল ইতিমধ্যেই গড়িয়েছে আইনি পথে ৷ অভিষেকের হুঁশিয়ারি, পুলিশের এই বেআইনি আচরণের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অফিসারদের নাম করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করবেন তিনি ৷ পাশাপাশি, পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে ৷ পুলিশ বা পুরনিগম ফের এলে আইনি পথেই তাঁদের কড়া মোকাবিলা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ৷