কনস্টেবল নিয়োগের প্রশ্নপত্র পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষাধিক টাকার প্রতারণা, গ্রেফতার সিভিক ভলান্টিয়ার
কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। এবার বসিরহাটে পুলিশের জালে সিভিক ভলান্টিয়ার।

Published : November 30, 2025 at 6:01 PM IST
বসিরহাট, 30 নভেম্বর: গঙ্গারামপুরের পর বসিরহাট। ফের রাজ্য পুলিশের কনস্টেবলের চাকরির প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়ার নাম করে টাকা তোলার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন সিভিক ভলান্টিয়ার। ধৃতের নাম গণেশ বাছার। শনিবার, গভীর রাতে বসিরহাটের তাঁতিপাড়ার বাড়ি থেকে পাকড়াও করা হয়েছে এই সিভিক ভলান্টিয়ার-কে।
পুলিশ সূত্রে খবর, রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পরীক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ধৃত গণেশের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে জেলার পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগও এসেছিল। এরপরই দেরি না-করে অভিযুক্তকে হাতে-নাতে ধরার উদ্যোগ নেয় বসিরহাট থানার পুলিশ। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনার সঙ্গে আর কারও যোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বসিরহাট জেলার পুলিশ সুপার হোসেন মেহেদি রহমান।
পুলিশ সুপার বলেন, "অভিযোগ পেয়ে ইতিমধ্যে ওই ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর পিছনে কোনও চক্র রয়েছে কি না, সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ধৃতকে রবিবার বসিরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে। তাই, এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।"
আজ পুরো রাজ্যের সঙ্গে উত্তর 24 পরগনার বসিরহাটেও রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তার আগে কনস্টেবলের সেই চাকরির প্রশ্নপত্র পরীক্ষার্থীদের কাছে আগেভাগে জানিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসতেই কার্যত শোরগোল পড়ে গিয়েছে বসিরহাট থানা এলাকায়। জানা গিয়েছে, বছর তিরিশের গণেশ বসিরহাট পুরসভার 5 নম্বর ওয়ার্ডের তাঁতিপাড়ার বাসিন্দা। বসিরহাট থানায় তিনি সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা অভিযোগ আসছিল পুলিশের কাছে। পুলিশও নিজস্ব সূত্র মারফত খোঁজ খবর চালাতে শুরু করে এই সিভিক ভলান্টিয়ার সম্পর্কে। অভিযোগ, তখনই পুলিশের কাছে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, বসিরহাটের কয়েক জন পুলিশ নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগেভাগে পেয়ে গিয়েছিলেন। পুলিশ ওই পরীক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ বসিরহাট থানার ওই সিভিক ভলান্টিয়ারের নাম জানতে পারে।
ওই পরীক্ষার্থীদের আগেই কনস্টেবল নিয়োগের চাকরির প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়ার টোপ দিয়ে গণেশ টাকা নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। কিন্তু, টাকা দেওয়ার পরেও প্রশ্নপত্র পাননি ওই পরীক্ষার্থীরা। এ নিয়ে বহুবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও পরীক্ষার্থীরা কোনও প্রশ্নপত্র কিংবা টাকা চেয়েও ফেরত পাননি বলে জানা গিয়েছে। এরপরেই ওই সিভিক ভলান্টিয়ার-কে গ্রেফতার করে বসিরহাট থানার পুলিশ। সূত্রের খবর, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে থানার এক কনস্টেবলকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না বিরোধী শিবির। তাদের দাবি, এই সিভিক ভলেন্টিয়ারদের নিয়োগ করা হয়েছে শুধুমাত্র টাকা তোলার জন্য। বেআইনি কাজেও সিদ্ধহস্ত এরা। আদালতে বারবার এই সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু, তার পরেও বহাল তবিয়তেই রয়েছে এরা। আর তা স্পষ্ট এই ঘটনাতেই। যদিও শাসক শিবির অবশ্যই পুরো বিষয়টি আইনের ওপর ছেড়ে দিয়েছে।

