পথশ্রী-রাস্তাশ্রী 4: জেলাশাসকদের কড়া নির্দেশ মুখ্যসচিবের, গ্রামোন্নয়নে মহিলাদের অংশগ্রহণে জোর
পথশ্রী-রাস্তাশ্রী 4 শুরুর আগে এই প্রকল্পের প্রচার ও গুণমান নিয়ে জেলাশাসকদের কড়া নির্দেশ দিলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ।


Published : December 7, 2025 at 11:10 AM IST
কলকাতা, 7 ডিসেম্বর: রাজ্যে গ্রামীণ সড়ক পরিকাঠামোর উন্নয়নে আবারও বড়সড় পদক্ষেপ করতে চলেছে সরকার । খুব শীঘ্রই রাজ্যজুড়ে শুরু হতে চলেছে বহুপ্রতিক্ষিত 'পথশ্রী-রাস্তাশ্রী 4' প্রকল্পের কাজ । প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সব কিছু পরিকল্পনা মাফিক এগোলে আগামী সপ্তাহের যে কোনও দিনই এই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা ঘোরানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যাতায়াতের পথ সুগম করাই সরকারের মূল লক্ষ্য ।
প্রকল্পের সূচনালগ্নে যাতে কোনও খামতি না-থাকে, তা নিশ্চিত করতে শনিবারই নবান্ন থেকে জেলাগুলির সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠক করেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। এই বৈঠকে জেলাশাসকদের উদ্দেশে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে । নবান্নের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, শুধু রাস্তা তৈরি করলেই হবে না, এই উন্নয়নমূলক কাজ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে এবং প্রচারে বিশেষ জোর দিতে হবে । সেই মর্মে জেলাগুলিতে পাঠানো হয়েছে বিস্তারিত 'স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর' (SOP)।
এই নির্দেশিকার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিকটি হল, মহিলাদের অংশগ্রহণের ওপর দেওয়া বিশেষ গুরুত্ব । মুখ্যসচিবের নির্দেশ অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর শিলান্যাস অনুষ্ঠানের ঠিক পরেই জেলাশাসকদের উদ্যোগে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে বিশেষ সভার আয়োজন করতে হবে । এই সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পঞ্চায়েত সদস্য এবং সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি সাধারণ গ্রামবাসীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক । প্রতিটি সভায় অন্তত 500 জন গ্রামবাসীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে, যার মধ্যে 50 শতাংশই যেন মহিলা হন - সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।
প্রশাসনের অভিজ্ঞ আমলাদের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে কন্যাশ্রী - রাজ্য সরকারের একাধিক জনমুখী প্রকল্প গ্রামীণ মহিলাদের ক্ষমতায়নে বড় ভূমিকা নিয়েছে । গ্রামীণ রাস্তাঘাট উন্নত হলে মহিলারাও তার প্রত্যক্ষ সুফল পান । তাঁদের যাতায়াত, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কাজ এবং নিত্যনৈমিত্তিক জীবনযাত্রা সহজ হয় । তাই এই উন্নয়নের বার্তা তাঁদের কাছে সরাসরি পৌঁছে দিতেই সভায় মহিলাদের উপস্থিতির ওপর এই বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে । একই ধাঁচে ব্লক, মহকুমা এবং জেলা স্তরেও সভার আয়োজন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।
প্রচারের ক্ষেত্রেও এবার অভিনব পন্থা অবলম্বন করছে রাজ্য । প্রায় আড়াই লক্ষ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে এই প্রকল্প, যা একপ্রকার নতুন রেকর্ড । এই বিশাল কর্মযজ্ঞের কথা মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দিতে মাইকিং, হোর্ডিং এবং ট্যাবলোর ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । প্রতিটি ব্লকে একটি করে সুসজ্জিত ট্যাবলো তৈরি করা হবে, যা প্রতিটি গ্রাম সংসদে ঘুরে ঘুরে প্রচার চালাবে ।
এছাড়া, গত সাড়ে 14 বছরে রাজ্য সরকারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী যে 'উন্নয়নের পাঁচালি' প্রকাশ করেছেন, তা লিফলেট আকারে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে জেলা প্রশাসন । সমীক্ষার কাজে যাওয়ার সময়ই আধিকারিকদের হাতে হাতে এই প্রচারপত্র বিলি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ।
শনিবারের বৈঠকে রাস্তার গুণগত মানের ওপর 'জিরো টলারেন্স' নীতি নেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মুখ্যসচিব । তিনি জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে এবং রাস্তার স্থায়িত্ব বা গুণমান নিয়ে কোনও আপস করা চলবে না । দরপত্র ডাকা থেকে শুরু করে কাজ শেষ হওয়া - পুরো প্রক্রিয়াটি যাতে স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়, সেদিকে জেলা প্রশাসনকে কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে ।

