ক্রেতা সুরক্ষা নিয়ে বাম-তৃণমূল সরকারকে তোপ শুভেন্দুর
খুচরো বাজারে আগুন, মাপে কারচুপি থেকে অনলাইনে খাবার জালিয়াতি ৷ হগ মার্কেটের মঞ্চ থেকে এরকম বিভিন্ন বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ৷

Published : September 2, 2026 at 10:59 AM IST
কলকাতা, 2 সেপ্টেম্বর: সাধারণ মানুষ রোজ বাজারে গিয়ে ঠকছেন । মাছ বা সবজিতে মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত রং । আবার মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু কিনতে গিয়েও প্রতারণার শিকার হতে হচ্ছে আমজনতাকে । এমনকী অনলাইনে খাবার আনানোর ক্ষেত্রেও চলছে ব্যাপক জালিয়াতি । মঙ্গলবার কলকাতার হগ মার্কেট চত্বরে ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহের উদ্বোধনে এই ভাষাতেই রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ।
একইসঙ্গে বিগত বাম এবং তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি ৷ তাঁর কথায়, এই ধরনের দুর্নীতি রুখতে সরকার এখন থেকে 'জিরো টলারেন্স' নীতি নিয়ে চলবে । আগামী এক সপ্তাহ রাজ্য জুড়ে ক্রেতাদের অধিকার নিয়ে ব্যাপক সচেতনতা প্রচার চালানো হবে । এদিন ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগকে চরম অবহেলার জন্য বিগত সরকারগুলির দিকে সরাসরি আঙুল তোলেন মুখ্যমন্ত্রী । তাঁর কথায়, এই দফতরের সঙ্গে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের সরাসরি যোগ রয়েছে । অথচ আগের সরকারগুলি একে কোনও গুরুত্বই দেয়নি ।
শুভেন্দু বলেন, "আজ থেকে ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের তরফে উপভোক্তা অধিকার সুরক্ষা সপ্তাহ শুরু হচ্ছে । অবহেলিত দফতরের মধ্যে অন্যতম ক্রেতা সুরক্ষা । মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই ধরনের কর্মসূচিতে দেখিনি । এর সঙ্গে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রতিদিনের সম্পর্ক আছে । রাজ্যে যেভাবে সর্বস্তরের দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ও সিলমোহর দেওয়া হয়েছিল, তাতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই প্রতারিত হচ্ছিলেন ।"
নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি নিয়েও এদিন সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী । বিশেষ করে রাজ্যে উৎপাদিত চালের দাম কেন এত বেশি, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি । পাশাপাশি, খাদ্যে ভেজাল এবং ক্ষতিকারক রাসায়নিক মেশানোর বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী । মুনাফা লোটার জন্য অসাধু ব্যবসায়ীরা কীভাবে মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে, সেই বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "হঠাৎ করে চিনি ও আনাজের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে । রিটেলে কিছু দাম বেড়েছে, কিন্তু চালের দাম তো বাড়ার কথা নয়, কারণ রাজ্যে উৎপাদন হয় । বিভিন্ন খাবারের দোকানে রং মেশানোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে । সবজি, মাছ তাজা দেখানোর জন্য যে রং ব্যবহার হচ্ছে, সেটা বিষ । নিষিদ্ধ রং দেওয়া হচ্ছে মিষ্টিতে ৷ কিছু পুলিশ আধিকারিক যুক্ত এর সঙ্গে । কোথাও কনজিউমার অফিসার, ফুড ইন্সপেক্টর যুক্ত থাকতে পারেন এর সঙ্গে । গোটা ব্যবস্থায় পচন ধরেছিল । তাই এক সপ্তাহব্যাপী ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ শুরু হয়েছে ৷ 2019 সালের আগে থেকে কার্যকর হওয়া আইন প্রচারের জন্য এই সপ্তাহ ।"
খাদ্যে ভেজাল বা দাম বৃদ্ধিই শেষ কথা নয়, ক্রেতাদের ওজনে ঠকানো থেকে শুরু করে আবাসন শিল্পে ফ্ল্যাট বিক্রির নামেও যে রাজ্যজুড়ে বড়সড় প্রতারণা চক্র চলছে, সেকথা স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী । এছাড়া প্রযুক্তির যুগে অনলাইনে খাবার ডেলিভারির নামেও যে ভুয়ো চক্র মানুষকে নিঃস্ব করছে, তার একটি টাটকা উদাহরণও তিনি তুলে ধরেন এদিন ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "দাঁড়িপাল্লা উঠে গিয়েছে প্রায় । মাপার আধুনিক যন্ত্র নিয়ে গেলে দেখা যাবে রোজ আনাজ, মাছ কিনতে গিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন বহু মানুষ । রাজ্য জুড়ে ফ্ল্যাট কেনাবেচার প্রতারণা কত বড় মাপের, সেটার সল্টলেকে বিজেপি দফতরে জনতার দরবারে প্রমাণ মেলে । প্রতিদিন বিজ্ঞাপন দিয়ে ফ্ল্যাট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে কতভাবে প্রতারিত করছে, তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা ছিল না । বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট দশদিন আগে নিউটাউনের একটি ঘরে রেড করে দেখেছে, খাবার ডেলিভারি অ্যাপের 120 জন ফলস বুকিং নিয়ে টাকা নিলেও মাল দিচ্ছে না । তাই ক্রেতা, বিক্রেতাকে সুরক্ষিত ও সচেতন করা প্রয়োজন ।"
এই সমস্ত প্রতারণা রুখতে এবার কড়া হাতে মাঠে নামছে রাজ্য প্রশাসন । এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ । মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দিয়েছেন, আনাজ বা মাছে ক্ষতিকারক রং মেশানো এবং মাপে কারচুপি রুখতে রাজ্যজুড়ে প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান চলবে । কোনও অবস্থাতেই দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না ।
শুধু প্রশাসনিক স্তরে ব্যবস্থা নিলেই হবে না, সাধারণ মানুষকেও নিজেদের অধিকার নিয়ে অনেক বেশি সচেতন হতে হবে । মূলত সেই লক্ষ্যেই 1 থেকে 7 সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে । জেলাস্তরে বাউল গান, লিফলেট বিলি এবং সোশাল মিডিয়া প্রচারের মাধ্যমে আমজনতার কাছে এই সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ক্রেতা সুরক্ষা দফতর ।

