বাতিল জুডিশিয়াল অফিসারদের ছুটি, পর্যাপ্ত বিচারক দিয়ে SIR-এ সাহায্যের আশ্বাস প্রধান বিচারপতির
সুপ্রিম নির্দেশের পর শনিবার দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টে দীর্ঘ বৈঠক হয় ৷ বৈঠকে একে অপরকে পারস্পরিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট ও নির্বাচন কমিশন ৷

Published : February 21, 2026 at 6:50 PM IST
কলকাতা, 21 ফেব্রুয়ারি: সুপ্রিম অনুরোধের পর এসআইআর সংক্রান্ত বৈঠকে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল জেলার সব বিচারকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন ৷ সূত্রের খবর, শনিবার দুপুরে এই বৈঠকে জেলার কর্মরত বিচারকদের পাশাপাশি সদ্যপ্রাক্তন বিচারকদের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি ৷ নির্বাচন কমিশনকে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের তথ্যগত অসঙ্গতির কাজে পর্যাপ্ত বিচারক দিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি ৷ কিন্তু ঠিক কত জন বিচারক এই কাজে যুক্ত হবেন, সেই সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করেননি ৷
এদিকে এই বৈঠকের পরেই কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আগামী 9ই মার্চ পর্যন্ত সমস্ত জুডিশিয়াল অফিসারদের ছুটি বাতিল করে নির্দেশিকা জারি করেছেন ৷ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অত্যন্ত জরুরি চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজন ছাড়া আপাতত আর কেউ ছুটি নিতে পারবেন না ৷ যাঁরা ছুটি নিয়েছেন, তাঁরা 23 তারিখের মধ্যে তাঁদের সংশ্লিষ্ট বিচারালয়ে ফিরে আসবেন ৷ বাতিল হয়েছে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের সব ধরনের প্রশিক্ষণ ৷ আগামী 9 মার্চ পর্যন্ত রাজ্যের জুডিশিয়াল অ্যাকাডেমিতে যে প্রশিক্ষণের কথা ছিল, তাও হচ্ছে না ৷
এসআইআর প্রক্রিয়ার জট কাটাতে কলকাতা হাইকোর্টে হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, রাজ্যের সব জেলার দায়রা বিচারকদের এই শুনানির কাজে যুক্ত করা হবে ৷ সূত্রের খবর, প্রায় 150 জন সেশন বিচারক এসআইআর শুনানির কাজে যোগ দেবেন ৷ কলকাতা হাইকোর্ট থেকে অবসর নেওয়া সাত জন প্রাক্তন বিচারপতির নামও চিহ্নিত করা হয়েছে ৷ প্রাথমিকভাবে তাঁদের দায়িত্বে রাখার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে ৷
সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন অনুযায়ী পুরো প্রক্রিয়াটি এগোবে বলে বৈঠকে স্পষ্ট করা হয়েছে ৷ সেশন জজরাও সংশ্লিষ্ট কমিটিতে থাকবেন ৷ কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে প্রয়োজনে আবার বৈঠক হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে ৷
হাইকোর্ট-সহ সব পক্ষকে সমস্ত রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল ৷ এদিন বৈঠকের পর তিনি জানান, জেলাভিত্তিক ও বিধানসভা ভিত্তিক সমস্ত তথ্য কমিশনের তরফে সরবরাহ করা হবে। প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন বা প্রশাসনিক সহায়তার ক্ষেত্রে দিল্লি, ডিইও অফিস বা অন্য যে কোনও স্তর থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে কমিশন প্রস্তুত রয়েছে ৷
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বলেন, "আমরা চাই, ভোটার তালিকা থেকে একজনও যোগ্য ভোটারের নাম যেন বাদ না-যায় ৷ আজ রাত 12টা পর্যন্ত ডিসপোজাল চলবে ৷ এরপর আগামিকাল বোঝা যাবে কোন সংখ্যাটা (বিচারকদের কাছে) যাবে ৷ আদালতের রায় অনুযায়ী জুডিশিয়াল অফিসার দিয়ে সব কাজ হবে ৷ সেই সংখ্যাটা এখনও ঠিক হয়নি ৷ 294টি বিধানসভার জন্য 294 জন ইআরও ৷ আমরা বলেছি, বিচারকদের নিয়োগ বিধানসভা ভিত্তিক হলে ভালো হয় ৷ এবার পুরোটাই আদালতের সিদ্ধান্ত ৷ এদিন প্রধান বিচারপতির সামনে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আমাদের বক্তব্য আমরা তুলে ধরেছি ৷"
হাইকোর্টে বৈঠকের পর কী বললেন নির্বাচনী আধিকারিক
- নির্বাচনী আধিকারিক জানান, 45 লক্ষেরও বেশি নথি ঠিক নেই ৷ কমিশনের পক্ষ থেকে যেমনটা জানানো হয়েছে, আগামিকাল বেলা 12 টা পর্যন্ত যাচাইয়ের কাজ চলবে ৷ তারপর পাকাপাকিভাবে সংখ্যাটি জানা যাবে ৷ এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের নথি যাচাই ও নিষ্পত্তি পুরোটাই হবে আদালতের তত্ত্বাবধানে ৷ যেমন- জন্মের শংসাপত্রের সমস্যা, রক্তের সম্পর্কের শংসাপত্র দিয়েছেন বা ম্যাট্রিকুলেশন সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা গিয়েছে ৷
- প্রত্যেক বিধানসভা থেকে যাতে একজন করে জুডিশিয়াল অফিসার দেওয়া হয়, সেজন্য এদিনের বৈঠকে হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছেন কমিশন ৷ কোর্টের তত্ত্বাবধানে সোমবার থেকে নথি যাচাই ও নিষ্পত্তির কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ৷ যেখানে বসে এই নথি যাচাই ও নিষ্পত্তির কাজ হবে, সেই ঘরের বাইরে এবং ভিতরে সিসিটিভি লাগানো হবে এমনটাই আদালত জানিয়েছে ৷ পুরোটাই হবে আদালতের নজরদারিতে ৷
- সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে মাইক্রো অবজ়ার্ভাররা (আগে যাঁরা কাজ করছিলেন এবং রাজ্য যাঁদের নাম দিয়েছেন) এই জুডিশিয়াল অফিসারদের শুধু সহায়তা করবেন ৷ যদি 28 ফেব্রুয়ারি, তালিকা প্রকাশের আগের দিন পর্যন্ত জুডিশিয়াল অফিসাররা যে সংখ্যক নথির নিষ্পত্তি করতে পারবেন, সেগুলিও 28 তারিখের তালিকায় যুক্ত করে দেওয়া হবে ৷ বাকি তালিকা থাকবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে প্রকাশ করা হবে ৷
- কলকাতা হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে কাজ হওয়ার পরেও যদি কোনও জুডিশিয়াল অফিসার অযোগ্য নথিকে যোগ্য হিসেবে তকমা দেন, কিন্তু পরবর্তীতে যদি প্রমাণিত হয়, নথিটি অযোগ্য ছিল, তাহলে সংশ্লিষ্ট সেই জুডিশিয়াল অফিসারের বিরুদ্ধেও নির্বাচন কমিশন ডিজিটাল ফুটপ্রিন্টের প্রমাণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হতে পারেন ৷
- শনিতে SIR নিয়ে হাইকোর্টে বৈঠকের পর, কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, দুটো হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি হবে ৷ একটা গ্রুপে থাকবেন হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার, পুলিশ কমিশনার, ডিজিপি এবং মুখ্যসচিব ৷ অন্য দিকে, অন্য গ্রুপে থাকবেন প্রত্যেকটি জেলার ডিইও, এপি এবং জেলা বিচারক ৷ মূলত, নথি যাচাই, নিষ্পত্তি ও SIR সংক্রান্ত কাজের সমন্বয়ের জন্য এই হোয়াট্সঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হবে ৷
- বাংলার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে সোমবার বিকেল পাঁচটায় রাজ্যের CEO দফতরে বিশেষ বৈঠক হবে ৷ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল-সহ রাজ্যের CEO দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্তারা এই বৈঠকে থাকবেন ৷ থাকছেন আরও কয়েকজন প্রশাসনিক আধিকারিকরা ৷
গতকাল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর শনিবার বেলা 2টো 30 মিনিট নাগাদ কলকাতা হাইকোর্টে উচ্চস্তরীয় বৈঠক হয় ৷ দীর্ঘ সময় ধরে হওয়া এই বৈঠকে ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল, রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, রাজ্যের ডিজিপি পীযূষ পাণ্ডে, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত এবং অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু ।
প্রায় দু'ঘণ্টা ধরে এই বৈঠক চলেছে ৷ রাজ্য ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের অভাবের কারণে এসআইআর প্রক্রিয়ার তথ্য যাচাই নিয়ে নজিরবিহীন রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট ৷ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ তথ্যগত অসঙ্গতি সংক্রান্ত শুনানি প্রক্রিয়ার কাজে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নামানোর নির্দেশ দিয়েছেন ৷ এই মর্মে কলকাতা হাইকোর্টকে অনুরোধ করেছে তিন সদস্যের বেঞ্চ ৷
এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল আগামী দশ দিন তিনি অন্যান্য বিচারকদের দিয়ে যাতে জেলা আদালতের কাজ চলে, সেভাবে রোস্টার তৈরি করবেন ৷ আগামী 28 ফেব্রুয়ারি ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা থাকলেও তা চূড়ান্ত হবে না ৷ দেশের শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, প্রয়োজনে 28 তারিখের পর আবারও তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন ৷

