দিল্লিতে বসে থাকলে হবে না, জ্ঞানেশ কুমারকে আসতে হবে কলকাতায়: শমীক ভট্টাচার্য
শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, বিএলওদের সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তাই জ্ঞানেশ কুমারকে আসতে হবে কলকাতায়।

Published : November 29, 2025 at 10:47 PM IST
আসানসোল, 29 নভেম্বর: বিএলওরা আক্রান্ত হচ্ছেন এসআইআরের কাজ করতে গিয়ে। বন্দুক দেখিয়ে তাদের দিয়ে ভুয়ো তথ্য আপলোড করানো হচ্ছে। বিএলওদের রক্ষা করার দায় নির্বাচন কমিশনের। তাই দিল্লিতে বসে থেকে নয় জ্ঞানেশ কুমারকে কলকাতায় আসতে হবে। এমনই মন্তব্য করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শনিবার আসানসোল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় 'পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা'র দলীয় সভায় এসেছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। সেখানেই সভার শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রাজ্যে এসআইআর পরিস্থিতি নিয়ে বলতে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "বিএলও'রা দিকে দিকে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিএলও'দের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। পঞ্চায়েত অফিসে তুলে নিয়ে গিয়ে, তাদেরকে ভয় দেখিয়ে, ক্লাব ঘরে, তৃণমূলের দলীয় অফিসে নিয়ে গিয়ে তাদের উপর আক্রমণ করে, কোনও কোনও ক্ষেত্রে 'গান পয়েন্টে' রেখে তাদের দিয়ে ভূল তথ্য আপলোড করা হচ্ছে। বিএলওদের সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তারা আধিকারিক পাঠাচ্ছেন। কিন্তু, আমরা দাবি করছি, দিল্লিতে বসে থাকলে হবে না। জ্ঞানেশ কুমারকে আসতে হবে কলকাতায়।"
শমীক ভট্টাচার্য আরও বলেন, "সারা ভারতবর্ষের রাজনীতির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির পার্থক্য রয়েছে। এখানে ভোট পরবর্তী হিংসায় 27 দিনের মাথায় 56 জন বিজেপিকর্মীকে খুন করা হয়েছিল। আপনারা বিহার, দিল্লি কিংবা হরিয়ানায় নির্বাচন দেখলেন। সেখানে বুথ দখল, রিগিং নেই, বিরোধীদের কোনও অভিযোগ নেই, রক্তপাত নেই।"
ইতিমধ্যেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিজেপির এই 'পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা'কে কটাক্ষ করা হয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বিজেপির এই 'পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা'কে বিজেপির 'অগস্ত্য যাত্রা' বলে মন্তব্য করেছেন। এদিন তা শুনে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "যা খুশি ওরা বলে বলুক ওদের কথায় কী আসে যায়! যদি রাজ্যে এসআইআর বন্ধ করে দেওয়া হয়, যদি ইডি, সিবিআই, জিএসটি-সহ সমস্ত কেন্দ্রীয় দফতরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়, যদি 2025-এর ভোটার লিস্টে ভোট হয়... তা-ও তৃণমূল হারবে ৷"
এসআইআর আবহে কলকাতা কর্পোরেশনে বার্থ সার্টিফিকেটের শিবির হওয়া নিয়েও একদিন চরম কটাক্ষ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, "ওখানে দাদুর নাতি হচ্ছে। বাবা ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায়। শ্বশুর বাবা হয়ে যাচ্ছে। 'শ্বশুর কেন বাবা' নতুন যাত্রাপালা আসছে। মাত্র তিন বছরের মধ্যে তিন ছেলের বাবা 11 ছেলের বাবা হয়ে গিয়েছে। এই তো পরিস্থিতি রাজ্যে।"

