উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে ভর্তি প্রক্রিয়ায় অশান্তি, মারধরে অভিযুক্ত এবিভিপি
সাময়িক উত্তেজনার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীারে নিয়ন্ত্রণে চলে আসে বলে জানিয়েছেন পুলিশ । ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে নারাজ বিশ্ববিদ্য়ালয় কর্তপক্ষ ।

Published : September 2, 2026 at 5:13 PM IST
শিলিগুড়ি, 2 সেপ্টেম্বর: উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে প্রথম বর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়ার কাউন্সিলিং চলাকালীন চরম বিশৃঙ্খলা। এবিভিপি এবং এআইডিএসও-র সমর্থদের মধ্যে বচসা দ্রুত গড়াল হাতাহাতিতে । এআইডিএসও-র দাবি তারা ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের সহযোগিতার জন্য হেল্পডেস্ক খুলেছিল। কিন্তু আচমকাই দায়িত্বে থাকা ইন্টার্ন এবং চিকিৎসকদের উপর বহিরাগত এবিভিপি সদস্যরা হামলা চালিয়েছে ।
অভিযোগ অস্বীকার করে এবিভিপির পাল্টা দাবি, বৈধ পরিচয় পত্র ছাড়াই ভিতরে ঢুকে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করে এআইডিএসও। সাময়িক উত্তেজনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়েছেন শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি অনির্বাণ মজুমদার ।
পাশপাশি তিনি মনে করেন, এই গোলমালের সঙ্গে জড়িত সকলেই ছাত্র। তাঁদের সেই মতো আচরণ করা উচিত । ভর্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এমন কোনও কাজ করা উচিত নয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস চত্বরে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে অশান্তি নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি অধ্যক্ষ সুজয় মিস্ত্রি।
জানা গিয়েছে, লেকচার থিয়েটারে কাউন্সিলিং চলছিল। থিয়েটার হলের বাইরে হেল্পডেস্ক বসিয়েছিল এআইডিএসও । অভিযোগ, আচমকা কয়েকজন বহিরাগত হলের ভিতর ঢুকে যায়। এআইডিএসওর সদস্যদের প্রথমে হুমকি দেয় । পরে মারধরও করে। ছিনিয়ে নেওয়া হয় মোবাইল। এআইডিএসওর দাবি, হামলাকারীরা সকলেই এবিভিপির সঙ্গে যুক্ত । গোলমালের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মেডিক্যাল ফাঁড়ির পুলিশ। ধীরে ধীরে ক্যাম্পাসে থাকা উত্তেজনা প্রশমিত হয় ।
কলেজের ইন্টার্ন তথা এআইডিএসও'র সম্পাদক ডঃ হিরণ্ময় রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা ফার্স্ট ইয়ারের নবাগত ছাত্রদের অ্যাডমিশনের ব্যাপারে সাহায্য করছিলাম । এবিভিপি ও বিজেপির গুন্ডারা এসে আমাদের উপর আক্রমণ করে । গায়ে হাত তোলে। এমনকী মেয়েদের গায়েও হাত দেয়। চিকিৎসক পৌশালী পাত্র এবং মণীষা সাউ আক্রান্ত হয়েছেন ! পৌশালীর মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়েছে । আমারও মোবাইল আর স্টেথোস্কোপ কেড়ে নিয়েছিল! পুলিশের সামনে আমাদের পরপর লাথি মারল ! পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখল । কিছুই করল না । "
আরেক ইন্টার্ন ডঃ পৌশালী পাত্র বলেন, "আমরা পুলিশকে ফোন করার সুযোগ পর্যন্ত পাইনি ! আমাদের ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। প্রিন্সিপাল স্যারকে বলছি, বাইরের গুন্ডারা এসে আপনার কলেজের ছেলেমেয়েদের মেরে যাচ্ছে । এখানে আপনিই আমাদের বাবা-মা ! আপনি আপনার স্টুডেন্টদের কেন রক্ষা করতে পারছেন না ? উনি অভিযোগ করতে বলছেন । কিন্তু সেই সুযোগ কই ? অভিযোগ করলেও কি বিচার পাব? "

মারধরের যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে এবিভিপি নেতা অভিজিৎ রায়ের পাল্টা দাবি, "কাউন্সেলিংয়ের কাজে সাহায্য করতে কর্তৃপক্ষ 15-20 জন পড়ুয়াকে দায়িত্ব দিয়েছিল। তাদের কার্ডও দেওয়া হয়েছিল । কিন্তু এআইডিএসও-র সমর্থকরা কোনও কার্ড ছাড়াই ভিতরে ঢুকে পড়ে । নিরাপত্তা রক্ষীদের আপত্তিও শুনতে চায়নি তারা । এরপর আমাদের সঙ্গে ওদের বচসা হয় । কিন্তু আমরা কাউকে মারধর করিনি। যাঁদের কাছে বৈধ কার্ড ছিল না তাঁদের ঘর থেকে পুলিশ বের করে দিয়েছে ।
এসিপি অনির্বাণ মজুমদার জানান, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে। ভর্তি প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবেই পরিচালিত হচ্ছে । লিখিত অভিযোগ পেলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অ্যাডমিশন নিতে দূর-দূরান্ত থেকে স্টুডেন্ট ও অভিভাবকরা আসছেন । এদের এই ঘটনার জন্য তাঁরা ঘাবড়ে যাচ্ছেন। এরা সবাই চিকিৎসক হতে পারেন কিন্তু তাঁরা আগে ছাত্র। ছাত্রদের মতো আচরণ করা উচিত। অহেতুক ভর্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাঘাত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।"

