অন্তঃসত্ত্বাকে নির্যাতনে সদ্যোজাতের মৃত্যু, নিষ্ক্রিয় পুলিশ ! আদিবাসীদের উত্তরকন্যা অভিযানে ধুন্ধুমার
প্রায় আট থেকে দশজন আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ গোটা এলাকায় থমথমে পরিবেশ বজায় রয়েছে ।

Published : February 26, 2026 at 7:16 PM IST
শিলিগুড়ি, 26 ফেব্রুয়ারি: নারী ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের সুরক্ষার দাবিতে জনজাতি সুরক্ষা মঞ্চের তরফে উত্তরকন্যা অভিযানের ডাক দেওয়া হয় ৷ বৃহস্পতিবার সেই কর্মসূচিকে ঘিরে ধুন্ধুমার কাণ্ড শিলিগুড়ির তিনবাত্তি মোড়ের এশিয়ান হাইওয়েতে । পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা ।
তির-ধনুক, তরোয়াল হাতে মিছিল করতে দেখা যায় আন্দোলনকারীদের । পালটা পুলিশের তরফে চলে জল কামান ৷ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাস । শেষে লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয় পুলিশ । এদিকে পুলিশকে লক্ষ্য করে আন্দোলনকারীরা পাথর ছোড়ে । সড়কের একাধিক জায়গায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয় । এসবের কারণে দীর্ঘক্ষণ ব্যাপক যানজটে স্তব্ধ হয়ে থাকে গোটা এলাকা-সহ এশিয়ান হাইওয়ে । পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ ।
প্রসঙ্গত, 2025 সালের 23 ডিসেম্বর শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফাঁসিদেওয়া ব্লকের জালাস নিজামতারা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এক গর্ভবতী আদিবাসীর উপর আক্রমণের অভিযোগ ওঠে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যুবকদের বিরুদ্ধে । ওই ঘটনায় পুলিশি গাফিলতির অভিযোগ ওঠে । নির্যাতিতা 7 জানুয়ারি এক সন্তানের জন্ম দেয় । কিন্তু কিছুদিন পরেই ওই নবজাতকের মৃত্যু হয় । এরপর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসতে থাকে আদিবাসী সমাজ ।

পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের শাখা সচিবালয় উত্তরকন্যা অভিযানের ডাক দেওয়া হয় জনজাতি সুরক্ষা মঞ্চের তরফে । এদিন জনজাতি সুরক্ষা মঞ্চের ওই কর্মসূচিকে ঘিরে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয় তিনবাত্তি মোড় এলাকায় । নামানো হয় র্যাফ । প্রস্তুত রাখা হয় জলকামান ও বজ্র । জলপাইমোড় থেকে নৌকাঘাট মোড় হয়ে আন্দোলনকারীরা মিছিল করে তিনবাত্তি মোড়ে পৌঁছলে পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয় আন্দোলনকারীদের ।

পুলিশের ব্যারিকেডে আন্দোলনকারীদের মিছিল আটকে যায় । এরপর আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে যান । এতে পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা । পুলিশ বাধা দিলে তাদেরকে লক্ষ্য করে আন্দোলনকারীরা জলের বোতল ও পাথর ছুড়তে শুরু করেন । রাস্তায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয় । পালটা পরিস্থিতি সামাল দিতে জল কামান চালায় পুলিশ । তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না-এলে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় এবং আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জও করে পুলিশ ।

ঘটনায় প্রায় আট থেকে দশজন আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার করা হয়েছে । ঘণ্টাখানেক পর আন্দোলনকারীদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় । এদিনের ওই মিছিলে পা মেলাতে দেখা যায় ফাঁসিদেওয়ার বিজেপি বিধায়ক দুর্গা মুর্মু, ডাবগ্রাম ফুলবাড়ির বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়-সহ অন্যান্যদের । ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় থমথমে পরিবেশ বজায় রয়েছে ।

বিধায়ক দুর্গা মুর্মু বলেন, "আমি একজন আদিবাসী বিধায়ক । একটা জমি দখলকে কেন্দ্র করে যেভাবে এক আদিবাসী জনজাতির গর্ভবতীর উপর আক্রমণ করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে আমাদের এই আন্দোলন । ওই মহিলার নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে । পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি । আমরা এর তীব্র বিরোধিতা জানাই ।"

বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় বলেন, "পুলিশ কোনও কাজ করছে না । আর আমরা শান্তির সঙ্গে মিছিল করতে গেলে পুলিশ পালটা আক্রমণ করছে । একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী থাকতেও রাজ্যের মহিলারা সুরক্ষিত নয় ।"

