9.66 কোটির জাতীয় প্রকল্পে যাদবপুরে 'ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা' গবেষণা কেন্দ্রের সূচনা
আয়ুষ মন্ত্রকের অধীনে CCRAS এই গবেষণা প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে ৷ যেখানে আয়ুষ শাস্ত্রের বিভিন্ন উপাদনগুলির ভালো ও খারাপ গুণাগুণ নিয়ে হবে গবেষণা ৷

Published : January 3, 2026 at 8:09 PM IST
কলকাতা, 3 জানুয়ারি: দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতির বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, এবার গবেষণা হবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৷ শনিবার সেই উদ্দেশ্যে যাদবপুরে উদ্বোধন হল Centre for Evaluation of Traditional Medicine (TradMed-CoE) ৷ যার অর্থ হল, আয়ুর্বেদিক ভেষজ ওষুধের টক্সিকোলজি ও সুরক্ষা সংক্রান্ত জাতীয় মানে একটি বৃহৎ গবেষণা প্রকল্প ৷
এ দিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য এই ঘোষণা করলেন ৷ সেই সঙ্গে জানালেন, এই গবেষণা প্রকল্প শুরু করতে কেন্দ্রীয় সরকার 9.66 কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে ৷ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেন্ট্রাল কাউন্সিল ফর রিসার্চ ইন আয়ুর্বেদিক সায়েন্সেস (CCRAS)-এর ডিরেক্টর বৈদ্য রবিনারায়ণ আচার্য, আয়ুষ মন্ত্রকের উপদেষ্টা চিকিৎস কৌস্তুভ উপাধ্যায়, অধ্যাপক পুলককুমার মুখোপাধ্যায়-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট গবেষক এবং আধিকারিকরা ৷
আয়ুষ মন্ত্রকের অধীন CCRAS এই গবেষণা প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে ৷ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল আয়ুর্বেদিক ভেষজ ও বিভিন্ন ফর্মুলেশনের নিরাপত্তা, বিষক্রিয়া এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলি বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা করা ৷ কোন ভেষজ ওষুধ মানব শরীরের জন্য কতটা নিরাপদ, তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে যাচাই করা হবে বলে জানানো হয়েছে ৷
এই গবেষণা প্রকল্পের প্রেক্ষিতেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে তোলা হয়েছে TradMed-CoE ৷ এটি একটি আন্তঃবিভাগীয় গবেষণা কেন্দ্র বলে জানিয়েছেন উপাচার্য ৷ এখানে ভেষজ ওষুধের গুণমান যাচাই, মান নির্ধারণ, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং গবেষণালব্ধ তথ্য সংরক্ষণের কাজ হবে ৷ বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কেন্দ্র ভারতীয় জ্ঞানতন্ত্র বা ইন্ডিয়ান নলেজ সিস্টেম (IKS)-কে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে ৷
যাদুপুর বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, "পূর্ব ভারতের মধ্যে এই ধরনের গবেষণা কেন্দ্র এই প্রথম ৷ ফলে ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা গবেষণার ক্ষেত্রে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছল ৷ দেশ ও বিদেশে আয়ুর্বেদিক ওষুধের ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে-সঙ্গে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক তথ্যের চাহিদাও বেড়েছে ৷ সেই প্রেক্ষিতেই এই কেন্দ্রের কাজ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল ৷"
এই কেন্দ্র ও গবেষণা প্রকল্পের নেতৃত্বে রয়েছেন অধ্যাপক পুলককুমার মুখোপাধ্যায় ৷ তাঁর সঙ্গে কাজ করছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, পল্লবকান্তি হালদার, ড. নীলাঞ্জন ঘোষ, ড. শোভনলাল গায়েন-সহ একাধিক গবেষক ৷ পাশাপাশি CCRAS, নয়াদিল্লির বিজ্ঞানীরাও এই প্রকল্পে যুক্ত রয়েছেন ৷
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই কেন্দ্র ভবিষ্যতে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শমূলক কাজেও যুক্ত হবে ৷ ছাত্রছাত্রী, গবেষক এবং শিল্প সংস্থাগুলির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে ৷ প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, গ্রহণযোগ্য ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপাচার্য ৷

