ETV Bharat / state

বারুইপুর কাণ্ডে সুজন-সহ চার সিপিএম নেতার বিরুদ্ধে মামলা, 'হাস্যকর' বলছে বামেরা

উস্কানিমূলক মন্তব্য-সহ একাধিক অভিযোগে সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী-সহ চারজনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Case filed against CPM leaders
বারুইপুর কাণ্ডে সুজনের বিরুদ্ধে মামলা (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : July 8, 2026 at 1:33 PM IST

2 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 8 জুলাই: বারুইপুরে নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন, খুন ও পরবর্তী ঘটনায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, সোশাল মিডিয়ায় ও জনসমক্ষে প্ররোচনা, উস্কানিমূলক মন্তব্য, মিথ্যা খবর ছড়ানো-সহ একাধিক অভিযোগে সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী, লাহেক আলি, মোনালিসা সিনহা এবং সফিউদ্দিন খানের নামে মামলা দায়ের হয়েছে। সৈকত সরকার নামে পেশায় আইনজীবি এবং বিজেপি নেতা এই মামলা দায়ের করেছেন বলে খবর।

এই মামলা নিয়ে পাল্টা কটাক্ষ করেছেন সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। তাঁর বক্তব্য, "বিজেপির প্রতিহিংসার এই রাজনীতি আসলে হতাশার প্রতিফলন। ভয় পাচ্ছে ওরা। তাই ভয় দেখানোর প্রয়াস। বিজেপির এই প্রচেষ্টা হাস্যকর।"

এখানেই থেমে থাকেননি বাম নেতা ৷ আগের শাসকদল তৃণমূলের প্রসঙ্গ টেনে সুজন চক্রবর্তী আরও বলেন, "তৃণমূল আমলে বহুবার মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। এমনকী বারুইপুরে খুনের মামলায় ফাঁসাতে চেয়েছিল মমতা'র সরকার। তৃণমূলের জুতোতে পা গলিয়েই চলবে নাকি বিজেপি ? হাস্যকরই বটে।"

শুধু তাই নয়, গোটা ঘটনাক্রম ও পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সুজন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, "বারুইপুরের ঘটনা নৃশংস। পুলিশের ব্যর্থতায় জনরোষ স্বাভাবিক। বাস্তবকে অস্বীকার করে শুধু রাজনীতি বা জেহাদি রং দিয়ে দেখতে চাইলে তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থীই হবে। কে নির্দোষ, কাকে গ্রেফতার করা হবে, শাস্তি কী হবে-সবই কি মুখ্যমন্ত্রী ঠিক করে দেবেন ? এটা তো স্বৈরশাসনের পদধ্বনি।"

সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও মঙ্গলবার পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা, অপরাধ বৃদ্ধি ও বারুইপুরের ঘটনার বিবরণ টেনে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন। তাঁর কথায়, "বারুইপুরে একটি শিশুকে অপহরণ, নির্যাতন এবং বস্তাবন্দী করে ফেলে দেওয়া হয়েছে, যেখানে আরও একটি মৃতদেহও পাওয়া গিয়েছে। পরিবার ও গ্রামবাসীরা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ করেছে ৷ কারণ, মিসিং ডায়েরি করার পরেও পুলিশ গুরুত্ব দেয়নি। মুখ্যমন্ত্রীকে বারুইপুরে এসপি অফিসে ছুটে যেতে হয়েছে। কড়া আইন, যেমন গুন্ডা দমন আইন থাকা সত্ত্বেও অপরাধ থামছে না। সমস্যা আইন নয়, বরং আইনের প্রয়োগে এবং যাঁরা আইন প্রয়োগ করবে তাদের মধ্যেই ভূত থাকার কারণে।"

সেলিম আরও বলেন, "গ্রামবাসীরা এবং ক্লাবের ছেলেরা মিলে খোঁজাখুঁজির জন্য একটি কমিটি গঠন করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ থেকে অপরাধীকে চিহ্নিত করে। অথচ, স্থানীয় নেতাদের প্রভাবে পুলিশ অপরাধীদের ছেড়ে দিচ্ছে !"

অন্যদিকে, এদিনই এই ঘটনার অন্যতম মূল অভিযুক্ত হিসাবে চিহ্নিত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে ৷ পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরই তাণ্ডবের ঘটনাতেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে পুলিশ ৷ গ্রেফতার করা হয়েছে 20 জনকে ৷