নাবালিকার সন্মতিতেও যৌনসম্পর্ক আইনের চোখে অপরাধ, অভিযুক্তর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখল হাইকোর্ট
আদালতের পর্যবেক্ষণ, নাবালিকার সন্মতিতেও যৌন সম্পর্ক স্থাপন আইনের চোখে গ্রহণযোগ্য নয়।

Published : December 11, 2025 at 8:48 PM IST
কলকাতা, 11 ডিসেম্বর: নাবালিকার সন্মতিতে বছরের পর বছর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস করে প্রতারণা। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নাবালিকার সন্মতিতেও যৌন সম্পর্ক স্থাপন আইনের চোখে গ্রহণযোগ্য নয়।
নিম্ন আদালতের দেওয়া অভিযুক্তের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি রাজা শেখর মান্থা ও বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তার ডিভিশন বেঞ্চ 2018 সালের 14 মার্চ দেওয়া নিম্ন আদালতের নির্দেশ বহাল রেখেছে ।
কলকাতা হাইকোর্ট সুত্রে জানা যাচ্ছে, কলকাতার নারকেল ডাঙা থানা এলাকার এক নাবালিকার সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যাক্তির দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল ৷ নাবালিকার বয়স যখন 15 বছর 4 মাস ৷ সেই সময় একদিন তার বাড়ি ফাঁকা পেয়ে অভিযুক্ত ব্যাক্তি নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে। নাবালিকার বাবা পেশায় রিক্সা চালক। মা লোকের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত ব্যাক্তির আর্থিক অবস্থা তুলনায় ভালো। এরপর বিভিন্ন সময় খাবার খাইয়ে মেয়েটির সঙ্গে লাগাতার যৌন সম্পর্ক চালিয়ে যায় ঐ ব্যাক্তি। মধ্য কলকাতার একটি হোটেলে নিয়ে গিয়েও তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করে অভিযুক্ত । বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিনের পর দিন এই সম্পর্ক করে ৷ পরে মেয়েটি অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়লে বাড়িতে জানায় বিষয়টি। একই সঙ্গে ছেলেটির পরিবারে জানানো হয়। কিন্তু তারা বিয়ের প্রতিশ্রুতি বিষয়টি অস্বীকার করে। বাধ্য হয়ে নারকেল ডাঙা থানায় অভিযোগ দায়ের হয় পকসো (POCSO) আইনে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার 64 ধারা এবং যৌন অপরাধ থেকে শিশুদের সুরক্ষা আইনের (পকসো) 6 ধারার অধীনে অভিযোগ আনা হয়েছিল ।
2017 সালে এফআইআর দায়ের হয় ৷ কিন্তু অভিযুক্তর পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল FIR দায়ের করতে কেন এত দেরি হল ? কিন্তু আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি। আদালতের বক্তব্য, একটি নাবালিকা যার বয়স 14-15, তারপক্ষে পরবর্তী ফলাফল অনুধাবন করতে ভুল হয়েছে ।
বিশেষত এখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল অভিযুক্ত। কিন্তু পরে যখন ঘটনা সামনে আসে তখন সে অস্বীকার করে ৷ সেই জন্য শিয়ালদা কোর্ট 2018 সালে অভিযুক্তর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং 2 লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল । এদিন হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় অর্থাৎ অভিযুক্তের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ বহাল রাখে ৷ একই সঙ্গে 15 দিনের মধ্যে 2 লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

