সিঙ্গুরে কারখানা না-হওয়ায় টাটাদের 765 কোটি ক্ষতিপূরণ, নির্দেশে স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের
পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আবেদনের ভিত্তিতে এই স্থগিতাদেশের নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায় ৷

Published : May 7, 2026 at 1:09 PM IST
কলকাতা, 7 মে: সিঙ্গুরের জমিতে কারখানা না-হওয়ায় ক্ষতিপূরণ বাবদ টাটাদেরকে 765.78 কোটি টাকা দেওয়ার নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট । আট সপ্তাহের জন্য এই স্থগিতাদেশ দিয়েছেন বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায় । তার মধ্যে রাজ্যকে ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দিতে হবে । রাজ্যে সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল সরকারের আবেদনের ভিত্তিতে কলকাতা হাইকোর্টের এই রায় ।
আদালতের নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে, আট সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে আদালতে তাদের সম্পত্তি অথবা ক্যাস টাকা ডিপোজিট করতে হবে কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে । পাশাপাশি মামলা করার জন্য রাজ্যের শিল্প উন্নয়ন নিগমকে 50 হাজার টাকা জরিমান দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।
মূলত 2023 সালের অক্টোবর মাসে তিন প্রাক্তন বিচারপতির এক সালিসি কমিটি সিঙ্গুরে কারখানা গড়তে না-পারার জন্য টাটা মোটরসকে 765.78 কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেয় । ওই কমিটিতে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ভিএস সিরপুরকার, বিচারপতি অলোক চক্রবর্তী ও বিচারপতি জয়ন্ত বিশ্বাস ৷
কমিটির তরফে এই মূল টাকার সঙ্গে 2011 সালের 1 সেপ্টেম্বর থেকে বার্ষিক 11 শতাংশ হারে সুদ এবং মামলার খরচ বাবদ অতিরিক্ত 1 কোটি টাকা পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগমকে (WBIDC) মেটাতেও নির্দেশ দেওয়া হয় । তৃণমূল সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন জানায় । দীর্ঘদিন ধরে সেই আবেদনের শুনানির পর রায়দান স্থগিত ছিল মামলার । বৃহস্পতিবার টাটাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট ।
উল্লেখ্য, 2016 সালের 31 অগস্ট সুপ্রিম কোর্ট সিঙ্গুরে টাটাদের জন্য করা 997 একর জমি অধিগ্রহণকে 'অবৈধ' বলে ঘোষণা করে । আদালত নির্দেশ দেয়, 12 সপ্তাহের মধ্যে কৃষকদের জমি ফেরত দিতে হবে । আদালতের নির্দেশে রাজ্য সরকার সেই জমি চাষযোগ্য করে কৃষকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করে ৷ যদিও চাষের অনুপযুক্ত জমি নিয়ে কৃষকদের মধ্যে অভিযোগ রয়ে গিয়েছে ।
2006 সালে টাটা গোষ্ঠীর ন্যানো প্রকল্পের জন্য সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণ শুরু হয়েছিল । 2008 সালে তীব্র রাজনৈতিক আন্দোলন ও প্রতিবাদের মুখে রতন টাটা সিঙ্গুর থেকে কারখানা সরিয়ে গুজরাতের সানন্দে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন । 2011 সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর 'সিঙ্গুর ল্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাক্ট' পাস করে জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে । কিন্তু সেই জমি চাষযোগ্য করা যায়নি ।
সম্প্রতি 15 বছরের তৃণমূল সরকারের অবসান ঘটেছে রাজ্যে ৷ ভোটে বিপুল আসন পেয়ে জয়লাভ করে বাংলার মসনদে বসতে চলেছে বিজেপি ৷ আর নতুন সরকারে কাছে সিঙ্গুরের মানুষজনের আশা একটাই, টাটার কারখানার জন্য দেওয়া যে জমিতে আর কৃষি হবে না সেখানে এবার শিল্প হোক ৷

