ETV Bharat / state

আদালতে ফের ধাক্কা রাজ্যের, দাঁড়িভিটের স্কুলে দুই ছাত্রর মৃত্যুতে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ বহাল

সাত বছরেরও বেশি সময় আগে দাঁড়িভিট হাইস্কুলে পুলিশের গুলি-লাঠিচার্জে দুই ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল ৷ এই মামলায় রাজ্যের আবেদন খারিজ করল হাইকোর্ট ৷

Calcutta High Court
কলকাতা হাইকোর্ট (ফাইল ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : January 6, 2026 at 9:05 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 6 জানুয়ারি: দাঁড়িভিটের স্কুলে দুই ছাত্রর মৃত্যুর মামলায় তদন্ত চালিয়ে যাবে এনআইএ ৷ রাজ্যের আবেদন খারিজ করে এ কথাই জানাল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ৷ দাঁড়িভিট কাণ্ডে সিঙ্গল বেঞ্চের এনআইএ তদন্তের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য সরকার ৷ মঙ্গলবার রাজ্যের আবেদনে কোনও অন্তর্বতী স্থগিতাদেশ দিল না আদালত ৷

মামলার দীর্ঘ শুনানির পর, এদিন রাজ্যের আবেদন খারিজ করেন বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি সুপ্রতীম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ ৷ তাঁদের পর্যবেক্ষণ, "এনআইএ তদন্ত করছে, তাতে হস্তক্ষেপ করবে না আদালত ৷"

শুনানির টাইমলাইন

এই ঘটনার পর সাত বছরেরও বেশি সময় কেটে গিয়েছে ৷ 2018 সালের 20 সেপ্টেম্বর, উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর-এর দাঁড়িভিট হাইস্কুলে দু'টি বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে ছাত্র বিক্ষোভ তৈরি হয় ৷ পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ গুলি ও লাঠিচার্জ করে এবং তাতে রাজেশ সরকার ও তাপস বর্মন নামে দুই ছাত্রের মৃত্যু হয় ৷ পুলিশ গুলি চালানোর কথা অস্বীকার করেছিল ৷ দাবি করা হয়, রবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছাড়া পুলিশ কিছু ব্যবহার করেনি ৷ উত্তর দিনাজপুরের তৎকালীন পুলিশ সুপার সুমিত কুমার জানিয়েছিলেন, এই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশ বন্দুক বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে না ৷

ঘটনার পাঁচ বছর পর 2023 সালে কলকাতা হাইকোর্ট এই মামলায় এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল ৷ সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য ৷ সে সময় এনআইএ তদন্তের নির্দেশ বহাল রাখলেও কয়েকটি বিষয়ে শুনানির জন্য মামলাটি সিঙ্গল বেঞ্চে ফিরিয়ে দেয় প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ ৷ এরপর মামলাটি যায় বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে ৷ আর পরে শেষমেশ মামলাটি আসে বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি সুপ্রতীম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে আসে ৷ এই বেঞ্চই রাজ্যের আবেদন খারিজ করে দিল ৷

মৃত দুই যুবকের পরিবারের আইনজীবী পার্থ ঘোষ আদালতে জানান, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হলে ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র রাজেশ সরকার তার বোনকে উদ্ধার স্কুলে পৌঁছয় ৷ সেখানে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় তার ৷ অন্যদিকে, ওই ঘটনায় সংলগ্ন একটি মিষ্টির দোকানে দাঁড়িয়ে থাকা যুবক তাপস বর্মনের মৃত্যু হয় পুলিশের গুলিতে ৷ ঘটনার সঙ্গে পুলিশ আধিকারিকরা যুক্ত থাকায় সঠিক তদন্ত হচ্ছে না ৷ 2024 সালের এপ্রিল মাসে দাঁড়িভিট মামলায় বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার সিঙ্গল বেঞ্চ দুই ছাত্রের পরিবারকে 20 লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয় ৷ কিন্তু রাজ্য সরকার 2 লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে গেলে তা নেয়নি ক্ষতিগ্রস্ত দুই পরিবার ৷

এরপর দু’জনের মৃত্যুর ঘটনায় এনআইএ তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের নির্দেশ কার্যকর না করার জন্য তৎকালীন মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও এডিজি সিআইডিকে তলব করে কলকাতা হাইকোর্ট ৷ তাঁরা কেউ হাজিরা না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত ৷ রাজ্য প্রশাসনের এই তিন শীর্ষকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা উচিত বলে মন্তব্য করেছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা ।