অযোগ্যদের তালিকা অসম্পূর্ণ, এসএসসি'কে ফের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের নির্দেশ হাইকোর্টের
ফের স্কুল সার্ভিস কমিশনকে চিহ্নিত অযোগ্য প্রার্থীদের 'সম্পূর্ণ' তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট ৷ এই তালিকায় বেনিয়মের ক্যাটাগরির উল্লেখ করতে হবে ৷

Published : January 7, 2026 at 7:10 PM IST
কলকাতা, 7 জানুয়ারি: অযোগ্য প্রার্থীর স্কুল, জেলা ও কোন ক্যাটাগরিতে সে টেন্টেড, তা উল্লেখ করে ফের বিস্তারিত তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা ৷
গত 19 নভেম্বর, 2016 সালের এসএসসি নিয়োগ পরীক্ষায় 'দাগি' প্রার্থীদের সবিস্তার তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি ৷ সেই নির্দেশ অনুযায়ী 27 নভেম্বর একটি 54 পাতার তালিকা প্রকাশ করে কমিশন ৷ কিন্তু এদিন মামলার শুনানিতে এই তালিকা 'অসম্পূর্ণ' বলে উল্লেখ করে কলকাতা হাইকোর্ট ৷
গত নভেম্বরে বিচারপতি অমৃতা সিনহা অযোগ্য প্রার্থীদের যে তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাতে অযোগ্য প্রার্থীদের নামের সঙ্গে বাবার নাম, বিষয়ের (যে বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছে), প্রার্থীর জন্মের তারিখ, কোন বিষয়ে তিনি শিক্ষকতা করতেন, অভিভাবকের নাম- উল্লেখ করা হয়েছিল ৷ সেখানে 1 হাজার 806 জন 'দাগি' প্রার্থীর নাম রয়েছে ৷
এদিন শুনানিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহা স্কুল সার্ভিস কমিশনের আইনজীবীর কাছে দাগিদের তালিকায় ব়্যাঙ্ক জাম্প, প্যানেলের বাইরে থেকে চাকরি পাওয়া- এগুলি আলাদা আলাদা করে জানতে চান ৷ কিন্তু স্কুল সার্ভিস কমিশনের আইনজীবী সবটা বলতে না-পারায় বিচারপতি বলেন, "আপনারা বলতে পারছেন না মানে তালিকা সম্পূর্ণ নয় ৷"
স্কুল সার্ভিস কমিশনের আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য বলেন, "যারা নিয়োগ পায়নি, তারা টেন্টেড নয় ৷ আরও একটি তালিকা আমরা তৈরি করছি, তাতে যা কিছু যোগ করার সেসব করা হবে ৷" তারপরই বিচারপতি অমৃতা সিনহা নির্দেশ দেন 11 ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে হবে ৷ ওই দিন মামলার পরবর্তী শুনানি ৷
এদিনের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী ওই 'দাগি' প্রার্থী কোন ক্যাটাগরির 'টেন্টেড', তা উল্লেখ করে সম্পূর্ণ তথ্য-সহ নয়া তালিকা প্রকাশ করতে হবে কমিশনকে ৷ দাগি প্রার্থী র্যাঙ্কজাম্প, ওএমআর শিট কারচুপি, অতিরিক্ত নিয়োগপ্রাপ্ত, ম্যানিপুলেটেড অথচ নিয়োগ পায়নি- এরকম সব ক্যাটাগরির অযোগ্য প্রার্থীর উল্লেখ থাকতে হবে তালিকায় ৷
মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলেন, "সম্পূর্ণ তালিকা মানে কী ? টেন্টেড কারা ? কে কোন ক্যাটাগরির, তা উল্লেখ করা হয়নি ৷ তালিকায় নাম, রোল নম্বর, ক্যাটাগরি উল্লেখ থাকা দরকার ৷ যারা ম্যানিপুলেট করেছে, তাদের মধ্যে যাদের নিয়োগ হয়নি তারাও অযোগ্য ৷ এক্সপায়রি প্যানেল থাকবে ৷ বাবার নাম, স্কুল, জেলা থাকবে ৷ কাদের অতিরিক্ত নিয়োগ করা হয়েছিল ? সেই তথ্যও তালিকায় থাকতে হবে ৷" মামলাকারী পক্ষের আরেক আইনজীবী প্রতীক ধর বলেন, "কারা যোগ্য ও কারা অযোগ্য, তা পরিষ্কার হওয়া জরুরি ৷ এরা ছ'সাত বছর ধরে চাকরি করছে ৷"
এদিকে এদিনই 2016 সালের এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কমিশনের খাতায় 'টেন্টেড' বা 'দাগি'রা কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করতে চলেছেন বলে জানা গিয়েছে ৷ তাঁদের কেন এবং কোন নথির ভিত্তিতে 'টেন্টেড' বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, তা জানতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন অযোগ্যরা ৷
এর মধ্যে এসএসসি যে 'দাগী'দের তালিকা প্রকাশ করেছে, তা কোন-কোন নথির ভিত্তিতে এবং সেই নথির কপি চেয়ে আলিপুরে সিবিআই-এর বিশেষ আদালতে মামলা করেছিলেন প্রায় দু’শো জন 'দাগি' চাকরিহারা ৷ কিন্তু গতকালই মামলাকারীদের একাংশের আবেদন খারিজ করে দেয় সিবিআই-এর বিশেষ আদালত ৷
এই প্রসঙ্গে 'দাগি'দের পক্ষে আইনজীবী ঋষভ আহমেদ খান বলেন, "সিবিআই যাঁদের 'টেন্টেড' হিসাবে স্কুল সার্ভিসের তালিকায় চিহ্নিত করেছে, তার ভিত্তিতেই এসএসসি 'দাগী'দের চাকরি বাতিল করেছে ৷ কিন্তু, এঁরা কেউ 'টেন্টেড' নন ৷ এরা একটা সিস্টেমের শিকার ৷ এঁদের চাকরি গেল কোন তথ্যের ভিত্তিতে ? সুপ্রিম কোর্টের এবং হাইকোর্টের নির্দেশে কোথাও 'টেন্টেড' শব্দের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি ৷ সিবিআই মোট তিনটে কেস দায়ের করেছিল ৷ আরসি-2, আরসি-3 ও আরসি-4 ৷ আমরা সিবিআই আদালতে আবেদন জানিয়েছিলাম ৷ কয়েকজনের আবেদন বাতিল হয়েছে ৷ ফের 14 জানুয়ারি সিবিআই আদালতে মামলার শুনানি হবে ৷ তার আগে আমরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হব ৷ সেই প্রক্রিয়া চলছে ৷"

