ETV Bharat / state

বেআইনি মাটি কাটা বন্ধ ! রাজ্যের সব জেলা শাসককে সার্কুলার জারির নির্দেশ হাইকোর্টের

হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে আগামী দু'সপ্তাহের মধ্যে সার্কুলার জারি করে সেই কপি আদালতে পেশ করতে হবে।

CAL HC ON MANUAL DIGGING
বেআইনি মাটি কাটা বন্ধ করা নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নিল কলকাতা হাইকোর্ট (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : January 9, 2026 at 1:17 PM IST

2 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 9 জুলাই: বেআইনি মাটি কাটা বন্ধ করা নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নিল কলকাতা হাইকোর্ট ৷ দু'সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করতে জেলাশাসকদের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ দু'সপ্তাহের মধ্যে সার্কুলার জারি করে সেই কপি আদালতে পেশ করতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি তিন সপ্তাহ পর।

নদিয়ার তেহট্ট থানা এলাকায় জলঙ্গি নদীর পাশে বেআইনি মাটি কাটার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন একটি মানবাধিকার সংগঠনের কর্মী। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী শমীক বাগচি আদালতকে জানান, প্রতিদিনি 70 থেকে 100 ফুট গভীর করে মাটি কাটা হচ্ছে। তার ফলে এলাকায় 2 থেকে আড়াই হাজার ফুট গর্ত হয়ে গিয়েছে। এমতাবস্থায় মামলা দায়ের করা ছাড়া আর কোনও পথ খোলা ছিল না ৷ কুমির মারি ড্যাম থেকে শুরু করে চাপড়া-সহ কয়েকটি এলাকায় এই ধরনের ঘটনা ঘটছে ৷

আবেদনকারীর দাবি, ইটভাটার মালিকদের একাংশ স্থানীয় থানা ও প্রশাসনের সঙ্গে অবৈধ যোগসাজশ করে মোটা টাকার বিনিময়ে রমরমিয়ে এই কাজ করে চলছেন। ফলে এলাকার মানুষের চাষজমির পাশাপাশি বসতভিটের পর্যন্ত ক্ষতি হচ্ছে। এ নিয়ে প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও কোন সুরাহা মেলেনি । বাধ্য হয়ে মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে। আর সেই মামলাতেই এমনই কড়া নির্দেশ দিল আদালত ৷

এর আগে 2025 সালে কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যকে অন্য একটি মামলায় একই নির্দেশ দিলেও রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলে এদিন আদালতে জানান। ফলে রাজ্য প্রশাসনের উদাসীনতা রয়েছে বলেই মামলাকারীর পক্ষে উল্লেখ করা হয়।

মামলাকারী নদিয়ার তেহট্ট এলাকার বাসিন্দা তথা মানবাধিকার সংগঠনের সিপিডিআরের প্রেসিডেন্ট। 2025 সালের 12 জুন স্থানীয়দের একাংশ তাঁর কাছে স্মারকলিপি দিয়ে জানান, জলঙ্গি নদীর কামারখালি ড্যামের দু'দিক থেকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে প্রতিদিন 25 থেকে 30 ফুট গর্ত করে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে । ড্যামের দুদিকে ইতিমধ্যে কয়েক হাজার ফুট গর্ত হয়ে গিয়েছে। গত বছর ডিসেম্বর মাসে নদিয়ার জেলাশাসকের কাছে তিনি লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। মামলার পরবর্তী শুনানিতে হাইকোর্ট কী নির্দেশ দেয় সেটাই এখন দেখার বিষয় হতে চলেছে ৷

আর মাত্র কয়েক মাস বাদে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন ৷ তার আগে দুর্নীতির মতো বিষয়কে হাতিয়ার করে শাসক শিবিরকে লাগাতার আক্রমণ করছে বিরোধী শিবির ৷ এরইমধ্য়ে দুর্নীতির নয় অভিযোগ নিয়ে নতুন মামলা দায়ের হওয়া তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ ৷