শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে মামলায় পুলিশের সঙ্গে যৌথ তদন্তে না, হাইকোর্টের দ্বারস্থ সিবিআই
রাজ্য পুলিশ অতীতে তদন্তে সহযোগিতা করেনি, অভিযোগ সিবিআইয়ের ৷ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে হওয়া একাধিক এফআইআরের তদন্ত একাই করতে চেয়ে আদালতে পৌঁছল সংস্থা ৷

Published : January 8, 2026 at 1:47 PM IST
কলকাতা, 8 জানুয়ারি: রাজ্য পুলিশের সঙ্গে কোনও মামলায় যৌথ তদন্ত করা সম্ভব নয় ৷ অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হল সিবিআই ৷
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে থাকা রাজ্য পুলিশ যে 26টি এফআইআর করেছিল, তার মধ্যে প্রায় সবগুলি খারিজ করে অবশিষ্ট চারটি এফআইআরের বিরুদ্ধে যৌথ সিট গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত ৷ গত অক্টোবর এই নির্দেশে বিচারপতি জানিয়েছিলেন, রাজ্য পুলিশ ও সিবিআই- উভয়ের প্রতিনিধি নিয়ে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করতে হবে ৷
এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের এর অনুমতি চাইল সিবিআই ৷ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, রাজ্য পুলিশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একযোগে তদন্ত করা সম্ভব নয় ৷ সিবিআই স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা ৷ এছাড়া রাজ্য পুলিশ অতীতে বরাবর তদন্তে অসহযোগিতা করেছে ৷ তাই এই নির্দেশ খারিজ করে চারটি এফআইআর-এর বিরুদ্ধে তদন্তে সিবিআইকে এককভাবে দায়িত্ব দেওয়া হোক ৷
বৃহস্পতিবার এই মামলাটি দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ ৷ 2021 সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে আগে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে রাজ্যের একাধিক থানায় দায়ের হয়েছিল 26-27টি এফআইআর ৷ তাঁকে হেনস্থা করার উদ্দেশ্যে রাজ্য পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে বলে অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা ৷
বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার এজলাসে তাঁর তরফে আইনজীবী বক্তব্য ছিল, শুভেন্দু অধিকারী রাজনৈতিক দল বদল করার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিহিংসাপরায়ণ আচরণ করছে রাজ্য পুলিশ ৷ অকারণ হয়রান করার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক এফআইআর দায়ের করা হচ্ছে ৷
বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা নির্দেশ দিয়েছিলেন, আদালতের অনুমতি ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর করা যাবে না ৷ স্বাভাবিকভাবে বড় স্বস্তি পেয়েছিলেন বঙ্গ বিজেপির অন্য়তম শীর্ষ নেতা শুভেন্দু অধিকারী ৷ এরপর সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল ৷ কিন্তু শীর্ষ আদালত সেই মামলা ফিরিয়ে দেয় কলকাতা হাইকোর্টে ৷
এই নির্দেশকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল ৷ সেই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল, যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকলে বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে এফআইআর করা যাবে ৷ যদিও শেষ পর্যন্ত সেই নির্দেশ টেকেনি ৷ নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ককে কলকাতা হাইকোর্ট যে সামগ্রিক সুরক্ষা কবজ দিয়েছিল, তা বহাল ছিল ৷
পরে বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর বেঞ্চে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই মামলার শুনানি চলে ৷ গত অক্টোবর মাসে পুজার ছুটির পরেই বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত নির্দেশ দেন মোট 20টি মামলার মধ্যে 15টি খারিজ করা হচ্ছে ৷ বাকি মানিকতলা থানায় টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় সিট গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয় ৷ পরে বাকি চারটি মামলায় সিটকেই তদন্তভার দেয় হাইকোর্ট ৷

