ETV Bharat / state

পেটে খাবার পাওয়া কি নাগরিকের অধিকারের নয় ? হকার উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ কলকাতা হাইকোর্টের

বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই রাজ্যের বিভিন্ন রেল স্টেশনে হকার উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ ৷ এর বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ দিল আদালত ৷

high court on hawker eviction
হকার উচ্ছেদ নিয়ে হাইকোর্ট (ফাইল ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : July 2, 2026 at 7:21 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 2 জুলাই: পেটে খাবার পাওয়াও কি নাগরিকের অধিকারের মধ্যে পড়ে না ? মধ্যমগ্রাম স্টেশনে 13 জন হকারকে দেওয়া রেলের উচ্ছেদ নোটিশ ঘিরে মন্তব্য কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চের ৷ বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে রেলের তরফে যুক্তি দেওয়া হয় সুপ্রিম কোর্টের একাধিক নির্দেশ রয়েছে, ফুটপাথে হাঁটাচলা করতে পারাও নাগরিকের অধিকার ৷

এর পাল্টা ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন করে, "পেটে খাবার দেওয়া কি রাষ্ট্রের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না ? আর তাদের খাবার পাওয়াও কি অধিকার নয় ?" এদিন ওই 13 জনের দায়ের করা মামলায় দাবি করা হয়েছে, সিঙ্গল বেঞ্চ তাঁদের 13 জনকে ইতিমধ্যে রক্ষাকবচ দিয়েছে ৷ আপাতত রেল তাঁদের উচ্ছেদ করতে পারবে না ৷ কিন্তু ওই নোটিশ দেখিয়ে আশপাশের সব হকারের দোকান উচ্ছেদ করছে রেল কর্তৃপক্ষ ৷ এই উচ্ছেদের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা ৷

রেলের তরফে আইনজীবী আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদীর যুক্তি, রেলের উচ্ছেদ আইন অনুযায়ী, নোটিশ দেওয়া বাধ্যতামূলক নয় ৷ আর যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে তার জেরেই আশপাশের দখল উচ্ছেদ করতে পারে রেল ৷ আইনজীবী বলেন, "এই ধরনের মামলার জন্য জনস্বার্থ মামলা করা যেতে পারে ৷ বেআইনি উচ্ছেদ প্রতিরোধ করার নামে যে প্ল্যাটফর্ম দখল করে বসে রয়েছে, তাকে সেখানে রাখার জায়গা নেই তার জন্য, যার লাইসেন্স নেই তার জন্য, এখন রাজ্যে যে যেখানে আছে সবাইকে তোলা চলবে না বলে আর্জি জানানো হচ্ছে ৷"

তারপরেই বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, ওই প্ল্যাটফর্ম ও রেলের জমিতে বসে থাকা 433 জনের ক্ষেত্রেই রক্ষাকবচ দেওয়া হল ৷ আগামিদিনে সিঙ্গল বেঞ্চ সিদ্ধান্ত নেবে রেল কোন আইনে উচ্ছেদ কাজ চালাতে চায় ৷ সেই পর্যন্ত ওই স্টেশনে উচ্ছেদ বন্ধ থাকবে ৷

অন্যদিকে, শিয়ালদা ফ্লাই ওভারের নীচে হকার উচ্ছেদের নোটিশের উপর আপাতত 9 জুলাই পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট ৷ কারণ, যে নোটিশ জারি করা হয়েছে, সেটা কলকাতা পুরনিগমের পক্ষ থেকেই এই নোটিশ জারি করা হয়েছে কি না, সেটাই স্পষ্ট নয় বলে আদালতে জানিয়েছেন মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ৷ সে জন্য পুরনিগমের মতামত জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ ৷ পুরনিগমের বক্তব্য শোনার পর ফের এই মামলার শুনানি হবে ৷

যদিও এদিন কলকাতা পুরনিগমের পক্ষ থেকে অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতে বলেন, "পুর প্রশাসক সম্ভবত এই নোটিশ জারি করেছেন ৷ এই ধরনের মামলা আসলে বেআইনি দখলদার দখলে মদত দেওয়ার জন্যই করা হয়েছে ৷ তবে একই সঙ্গে তিনি আদালতে মৌখিকভাবে আশ্বাস দেন, আপাতত আদালতের নির্দেশ না-পাওয়া পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ করা হবে না ৷"