ওসমান হাদির হত্যা, মমতার মন্তব্য নিয়ে মামলা ; চরম ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট
ওসমান হাদির হত্যা নিয়ে মমতা যে মন্তব্য করেছেন, তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয় ৷ সেই মামলায় এবার চরম ভর্ৎসনা করল আদালত ৷

Published : September 1, 2026 at 3:56 PM IST
কলকাতা, 1 সেপ্টেম্বর: কেউ কোনও মন্তব্য করলেই তাতে আদালত হস্তক্ষেপ করবে কেন ? প্রশ্ন তুললেন কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ৷ বাংলাদেশের হাসিনা-বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি মন্তব্য করেন, যার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয় ৷
এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাকারীর আইনজীবীকে চূড়ান্ত ভর্ৎসনা করে ৷ মামলাকারী মামলাটি প্রত্যাহার করে নেবেন কি না, তা জানাতেও নির্দেশ দিয়েছে বেঞ্চ ৷
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চের বক্তব্য, "কেউ কিছু মন্তব্য করলেই তাতে আদালত হস্তক্ষেপ করবে কেন ? জনস্বার্থ মামলাকে আপনারা ব্যক্তিগত হাতিয়ার বানিয়ে ফেলেছেন ৷" গত বছরের 12 ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় খুব কাছ থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদিকে গুলি করা হয় ৷ পরে সিঙ্গাুপুরে চিকিৎসা চলার সময় তাঁর মৃত্যু হয় ৷
গত 2 জুন, ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে অন্য কয়েকটি বিষয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ মামলাকারীর অভ্রতনু সরকারের দাবি, এই বিক্ষোভে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য় করেন, ওসমান হাদির খুনে অভিযুক্তরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে এবং পরে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছিল ৷ তাদের আশ্রয় দিয়েছে ভারত সরকার ৷ বাংলার এসটিএফ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে ৷ কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে বিষয়টি গোপন রাখার অনুরোধ জানানো হয় ৷
মামলাকারীর অভিযোগ, মমতার এই ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত সংবেদনশীল । এর জেরে দেশের নিরাপত্তাও লঙ্ঘিত হতে পারে ৷ বিশেষত মন্তব্যকারী নিজে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ৷ অতএব তাঁর কথার অভিঘাত অনেক বেশি । এহেন বিতর্কিত মন্তব্যের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন অভ্রতনু ৷
এদিন মামলাকারীর পরিচয় এবং কী উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি এই মামলা করেছেন সেই প্রশ্ন তোলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ৷ মামলাকারীর তরফে আইনজীবী বলেন, "মামলাকারী ব্যক্তি একজন সচেতন নাগরিক ৷ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যে ধরনের মন্তব্য করেছেন, তাতে জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত ৷" পাল্টা ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, "সচেতন ব্যক্তি আপনাকে যে চিঠি দিয়েছেন, যার ভিত্তিতে আপনি মামলাটি দায়ের করেছেন, সেই চিঠিতে কতগুলি বানান (স্পেলিং) ভুল আছে দেখেছেন ? কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবীদের এই অবস্থা ?"
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল (এএসজি) ধীরজ ত্রিবেদী জানান, এই ধরনের মন্তব্যে ইউএপিএ ধারা লাগু করে এনআইএ তদন্ত করতে পারে না ৷ কারণ, সেরকম কোনও ঘটনা ঘটেনি ৷ রাজ্যের পক্ষ থেকেও বলা হয় এফআইআর করতে গেলে সেখানে আগে কোনও অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা দেখা প্রয়োজন ৷ কিন্তু সেরকম কিছু হয়নি ৷
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, মামলাকারী চাইলে মামলা প্রত্যাহার করে নিতে পারে ৷ না হলে 14 সেপ্টেম্বর এই মামলায় নির্দেশ দেবে কলকাতা হাইকোর্ট ৷
মামলাকারীর দাবি, ওসমান হাদির খুনে অভিযুক্তদের নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ধরনের মন্তব্য করেছেন, তা জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক ৷ এর ফলে বাংলাদেশে থাকা হিন্দুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে ৷ দেশের সার্বভৌমত্বও ক্ষুণ্ণ করতে পারে এই ধরনের মন্তব্য ৷

