'ইসকনকে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি', রাজ্যের বক্তব্যে হলফনামা তলব হাইকোর্টের
কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড-ডে সরবরাহ করবে ইসকন ৷ বাজেটে এই ঘোষণার পর জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয় ৷ রাজ্যের বক্তব্য এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি ৷

Published : July 8, 2026 at 1:57 PM IST
কলকাতা, 8 জুলাই: কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলে পরিবেশন করবে ইসকন ৷ রাজ্য বাজেটে প্রথমে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এবং পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ঘোষণা করেন ৷ কিন্তু বিষয়টি এখনও প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে বলে জানালেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র ৷
বুধবার এই সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি হয় কলকাতা হাইকোর্টেের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায়ের বেঞ্চে ৷ এই ঘোষণা সম্পর্কে চার সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যের বক্তব্য হলফনামা দিয়ে জানাতে নির্দেশ দিল বেঞ্চ ৷
গত 22 জুন বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেন, কলকাতার স্কুলগুলির মিড-ডে মিলের দায়িত্ব এবার থেকে ইসকনকে দেওয়া দেওয়া হল ৷ সুতরাং এবার থেকে শহরের সব স্কুলে মিড-ডে মিল খাওয়ানোর দায়িত্ব এই প্রতিষ্ঠানের ৷ তবে ইসকন মিড-ডে মিল সরবরাহ করলে সেখানে শিশুদের পাতে ডিম থাকবে না বলেই খবর ৷ পাশাপাশি ইসকন এই দায়িত্ব নিলে কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল রান্না ও পরিবেশনের দায়িত্বে থাকা বহু মহিলা চাকরি হারাবেন বলেও আশঙ্কা ৷ এই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে ৷
এদিনের শুনানিতে অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র জানান, "এই বিষয়টি এখনও পর্যন্ত প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে ৷ কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি ৷ ফলে এখনই এই মামলার প্রয়োজন নেই ৷" এর পালটা মামলাকারী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "তাহলে রাজ্য হলফনামা দিয়ে জানাক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় এই ধরনের কথা বলেননি ৷ কারণ, কলকাতার কয়েক লক্ষ মহিলা যাঁরা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের স্বার্থের সঙ্গে বিষয়টি জড়িয়ে রয়েছে ৷" আদালত এদিন 6 সপ্তাহের মধ্যে দু'পক্ষের বক্তব্য হলফনামা দিয়ে জানাতে নির্দেশ দিয়েছে ৷ ইতিমধ্যে যদি রাজ্য কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তাহলে তা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আদালতের গোচরে আনার নির্দেশ দিয়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ ৷
মিড-ডে মিল নিয়ে আদালতের শুনানি
মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "ইসকনকে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়ার বিরুদ্ধেই এই মামলা ৷ বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠী এই কাজ করত ৷ তাদের বাদ দিয়ে কোনও টেন্ডার ছাড়াই সরাসরি ইসকনকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে ৷ মিড-ডে মিল সফল হওয়ার জন্য কমিউনিটি পার্টিসিপেশন প্রয়োজন ৷ পাশাপাশি স্কুল চত্বরেই মিড-ডে মিল রান্না করার কথা ৷ যদি কোথাও জায়গার অভাব থাকে, তাহলে একাধিক স্কুল নিয়ে একসঙ্গে রান্নার ব্যবস্থা করা যেতে পারে ৷"
পাল্টা ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, "এগুলো সব আগের কথা ৷ আপনার আপত্তি কোথায় সেটা বলুন ?" এই প্রসঙ্গে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "ইসকনকে দায়িত্ব নিলে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির ভূমিকাই থাকছে না ৷ রাজ্যের এই সিদ্ধান্ত ওয়েস্ট বেঙ্গল ফাইনানন্সিয়াল রুলস-এর বিরুদ্ধে ৷" এজি সুরজিৎ নাথ মিত্র আবারও বলেন, "সম্পূর্ণটাই এখন প্রস্তাবিত বিষয় ৷ এখনও কিছু হয়নি ৷ এটা প্রিম্যাচিওর বিষয় ৷ কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি ৷
আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাহলে মুখ্যমন্ত্রী কি বিধানসভায় কোনও কথা বলেননি এই বিষয়ে ? ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, এটা জুডিশিয়াল ফোরাম ৷ এখনও কিছু হয়নি ৷ আদালত কীভাবে পদক্ষেপ করবে ? আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "তাহলে রাজ্য হলফনামা দিয়ে বলুক, এটা মুখ্যমন্ত্রী বলেননি ৷"
আদালতের নির্দেশ- এই বিষয়ে রাজ্য চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাবে সরকার ৷ তার দু'সপ্তাহের মধ্যে জবাব দেবে মামলাকারী ৷ ইতিমধ্যে যদি রাজ্যের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়, সে ব্যাপারে মামলাকারীর আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আদালতে আবেদন করে বিষয়টি গোচরে আনতে ৷

