অনুপ্রবেশের দায়ে জেল, CAA আবেদনের পর জামিনে মুক্ত মাথাভাঙার গৃহবধূ
জন্ম বাংলাদেশে হলেও শৈশব থেকে বড় হওয়া ধূপগুড়িতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে ৷ কিন্তু বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যে অনুপ্রবেশের দায়ে জেল হয় তাঁর ৷

Published : February 18, 2026 at 5:37 PM IST
মাথাভাঙা, 18 ফেব্রুয়ারি: বিয়ের এক বছরও হয়নি ৷ অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের দায়ে গৃহবধূকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ ৷ পরে তাঁকে জেল হয় ৷ এদিকে সিএএ-তে আবেদন করতে 6 মাস বাদে জামিনে ছাড়া পেলেন কোচবিহারের মাথাভাঙার গৃহবধূ জবা রানি সরকার ৷ গতকাল তিনি সংশোধনাগার থেকে মুক্তি পান ৷
বুধবার দীর্ঘ ছ'মাস পর বাড়ি ফেরেন তিনি ৷ স্বভাবতই স্ত্রীকে কাছে পেয়ে খুশি আনন্দিত স্বামী দেবাশিসও ৷ তিনি বলেন, "স্ত্রীর মুক্তির জন্য সিএএ-তে আবেদন করি ৷ এরপর সেই নথি কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ জলপাইগুড়িতে জমা দিই ৷ তার ভিত্তিতে স্ত্রীকে জামিন দিয়েছে আদালত ৷ এতদিন পর স্ত্রীকে পেয়ে ভালো লাগছে ৷"
জামিনে মুক্ত হয়ে জবা সরকার বলেন, "বাংলাদেশে হিন্দু মেয়েরা সুরক্ষিত নয় ৷ এটা ভেবেই 6 বছর বয়সে বাবা আমায় ধূপগুড়িতে রেখে যান ৷ এখানেই বড় হয়ে ওঠা ৷ তারপর মাথাভাঙায় বিয়ে ৷ এরপর হঠাৎ একদিন পুলিশ এসে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় ৷ জেলে ছিলাম ৷ মুক্তি পেয়ে ভালো লাগছে ৷"
জবার বাড়ি বাংলাদেশের লালমনিরহাট এলাকায় ৷ 6 বছর বয়সে তারা বাবা জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়িতে জেঠুর বাড়িতে তাকে রেখে যান ৷ এরপর জেঠুর বাড়িতেই তাঁর বড় হয়ে ওঠা ৷ পরে 2024 সালে মাথাভাঙার শীতলকুচি এলাকার যুবক দেবাশিসের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয় ৷
এর মধ্যে এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা পুলিশে অভিযোগ করেন, জবা বাংলাদেশের নাগরিক ৷ এরপর পুলিশ জবাকে গ্রেফতার করে ৷ বাংলাদেশি স্ত্রীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে দেবাশিসকেও গ্রেফতার করে ৷ ঘটনার একমাস পর তাঁর স্বামী দেবাশিস জামিনে মুক্ত হলেও জবা ছাড়া পাননি ৷ তাঁকে প্রথমে কোচবিহারে ও পরে আলিপুরদুয়ার জেলে রাখা হয় ৷
এরপরই দেবাশিস সিএএ-তে ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদন জানান ৷ সেই নথি জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে জমা করলে মঙ্গলবার জেলমুক্তি হয় জবার ৷ এদিন রাতেই তিনি তাঁর স্বামীর হাত ধরে শীতলকুচির বাড়িতে ফেরেন ৷ পুরো বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে তৃণমুল ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে ৷
বিজেপি নেতা বরেন চন্দ্র বর্মন বলেন, "সিএএ করলে যে ভারতীয় নাগরিকত্ব মেলে এটা তার প্রমাণ ৷ তাই বাংলাদেশের থেকে ধর্মীয় কারণে যাঁরা বিতাড়িত হয়ে ভারতে এসেছেন, তাঁরা সিএএ-তে আবেদন করলেই নাগরিকত্ব পাবেন ৷" অন্যদিকে কোচবিহার জেলা তৃণমূল চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মন বলেন, "জামিনে মুক্ত হয়েছেন, এটা বড় কথা ৷ এটা দু'দেশের আইনগত ব্যাপার ৷" তিনি আর কিছু বলতে চাননি ৷

