দিন চূড়ান্ত না-হলেও ঝাড়খণ্ড-ওড়িশার বিচারকরা এলে সহযোগিতার আশ্বাস কমিশনের
বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল বিচারকদের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে রাজ্য ও নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন৷

Published : February 26, 2026 at 4:53 PM IST
কলকাতা, 26 ফেব্রুয়ারি: সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের বিচারকদের নির্দেশে রাজ্যে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর (SIR)-এর লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির কাজে কর্মরত বিচারকদের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে বৃহস্পতিবার ফের এক দফা বৈঠক করলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল।
এদিন দুপুর দেড়টায় কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল, রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডে, কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি সুব্রত গুপ্ত উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে সুব্রত গুপ্ত বলেন, "আজকে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে ঝাড়খণ্ড ও বিহারের বিচারকরা এলে তাঁদের সহযোগিতা করা হবে।" তবে কবে নাগাদ ওই বিচারকরা আসবেন, তা এখনও ঠিক হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিন বৈঠকে যে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেগুলি হল -
- এদিন সন্ধের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের বাকি জুডিশিয়াল অফিসারদের আইডি তৈরি করে দেওয়া হবে।
- ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে যেসমস্ত জুডিশিয়াল অফিসাররা আসছেন, তাঁদের কোথায় রাখা হবে, তাঁদের খাওয়া-দাওয়ার কী ব্যবস্থা হবে।
- 14 ফেব্রুয়ারির মধ্যে যে সমস্ত নথি জমা পড়েছে, কিন্তু আপলোড হয়নি, সেগুলিকে আজ ও আগামিকালের (শুক্রবার) মধ্যে কমিশন আপলোড করবে।
- প্রতিদিন নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বিধানসভাভিত্তিক জুডিশিয়াল অফিসারদের কাজের রিপোর্ট কমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে কলকাতা হাইকোর্টকে।
উল্লেখ্য, এসআইআর নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি নির্দেশ দেয় যে লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সিগুলি খতিয়ে দেখার কাজ করবেন রাজ্যের বিচারক ও জুডিশিয়াল অফিসাররা৷ পুরো বিষয়টির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালকে দেওয়া হয়৷ রাজ্য পুলিশ-প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে এই নিয়ে সহযোগিতা করতে বলা হয়৷ সেই মতো রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষকর্তা এবং নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি৷
এদিকে কয়েক লক্ষ নথি যাচাই করতে হবে৷ হাতে সময়ও কম৷ এর প্রেক্ষিতে রাজ্যের সিভিল বিচারকদের এই কাজে ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট৷ তবে ওই বিচারকদের অন্তত তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত৷ পাশাপাশি প্রয়োজনে ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশা থেকে বিচারকদের এনে এই কাজ করানো যাবে বলেও নির্দেশে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট৷
প্রসঙ্গত, গত নভেম্বর থেকে রাজ্যে এসআইআর শুরু হয়েছে৷ প্রথম নির্দেশিকা অনুসারে 7 ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল৷ পরে সেই দিন বদলে 14 ফেব্রুয়ারি করা হয়৷ তার পর আবার বদল করা হয়৷ এখন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের নির্ধারিত দিন আগামী শনিবার (28 ফেব্রুয়ারি)৷ যদিও সেদিন পুরো তালিকা হয়তো প্রকাশিত করতে পারবে না নির্বাচন কমিশন৷
এখন দেখার আগামী কতদিনের মধ্যে রাজ্যে সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয় এবং কবে বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন!

