নতুন বছরে শুভেন্দু-মিঠুনের জোড়া জনসভায় অনুমতি হাইকোর্টের
আগামী 2 জানুয়ারি দুটি জায়গায় হবে শুভেন্দু অধিকারী ও মিঠুন চক্রবর্তীর সভাগুলি ৷ তবে কিছু শর্ত বেঁধে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট ৷

Published : December 31, 2025 at 7:46 PM IST
কলকাতা, 31 ডিসেম্বর: শর্তসাপেক্ষে মালদার চাঁচলে আগামী 2 জানুয়ারি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পরিবর্তন সংকল্প যাত্রার অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট । পুলিশ অনুমতি না-দেওয়ায় গত 19 ডিসেম্বর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব । বুধবার বিচারপতি বিশ্বরূপ চৌধুরীর অবকাশকালীন বেঞ্চ অনুমতি দিয়ে জানিয়েছে, মিছিল ও সভায় 70টির বেশি মাইক্রোফোন ব্যবহার করা যাবে না ।
2 জানুয়ারি বিজেপির ওই পরিবর্তন সংকল্প যাত্রায় পুলিশের মূল আপত্তি ছিল, নতুন বছরের শুরুতে সাধারণ মানুষ উৎসবের মেজাজে রয়েছে । বিভিন্ন দেশ বিদেশ থেকে ভ্রমণার্থীদের আগমন ঘটে । ফলে 15 হাজার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে এই অনুষ্ঠান করা হলে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের সমস্যা হবে । হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বরুপ চৌধুরী ওই বক্তব্য শোনার পর নির্দেশে জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ 9 হাজার লোক নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে এই যাত্রা করতে পারবে বিরোধী রাজনৈতিক দল ।

অন্যদিকে কোচবিহারে 2 জানুয়ারি বিজেপির আর একটি জনসভায় অনুমতি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট । ওই সভায় উপস্থিত থাকবেন বিজেপি নেতা ও অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী । বিচারপতি বিশ্বরূপ চৌধুরীর বেঞ্চ নির্দেশে জানিয়েছে, সর্বোচ্চ 3000 লোক থাকতে পারবে ওই সভায় । 20টি লাউডস্পিকার, 8টি বক্স, চারটি মাইক্রোফোন থাকবে । পুলিশকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে ।
কোচবিহারে মিঠুন চক্রবর্তীর সভার জন্য 26 ডিসেম্বর অনুমতি চাওয়া হয় জেলা প্রশাসনের থেকে । বেলা 2টো থেকে 6টা 5000 লোক নিয়ে সভা করতে চাওয়া হয় ওল্ড পোস্ট অফিস পাড়া গ্রাউন্ডে ৷ কিন্তু পুলিশ অনুমতি দেয়নি বলে অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিজেপি ।
রাজ্য আদালতে জানায়, যেখানে এই সভা করা হবে সেটা সরকারি জমি । জেলা প্রশাসন অনুমতি দিয়েছে । রাত 8টা 24 মিনিটে পুলিশের থেকে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল । হাইকোর্টের নির্দেশ মতো যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব়্যালি, মিটিং, মিছিলের জন্য আবেদন জানাতে হয় । 15 দিন আগে অনুমতি চাওয়া দরকার ছিল ।

বিরোধী দলের পক্ষে আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য বলেন, "সংবিধানের 19 ধারা অনুযায়ী এটা মৌলিক অধিকার ।" বিচারপতি জানতে চান, "নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করা না-হলে, তা গ্রহণ করার জায়গা কোথায়?" কিন্তু আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য বলেন, "মিঠুন চক্রবর্তী থাকবেন । তিনি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা পান ।"
রাজ্য পালটা আপত্তি করে বলে, "ডিভিশন বেঞ্চের যে নির্দেশের কথা বলা হচ্ছে তা 23 দিন আগে করা হয়েছিল । পুলিশকে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ দেওয়া হল কোথায়? এটা নিয়ম লঙ্ঘন । এটা পাবলিক প্রপার্টি । তাই মৌলিক অধিকারের বিষয়টি কীভাবে বলা হচ্ছে? নিয়ম অনুযায়ী আবেদনই করা হয়নি ।"
কিন্তু বিচারপতি বিশ্বরূপ চৌধুরী সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর সভার করার অনুমতি দিয়েছেন । তবে সমর্থকের সংখ্যা সংগঠকদের দাবি মতো না করে কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি ।

