ETV Bharat / state

মধ্যরাতে দমদম স্টেশনে বুলডোজার, হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক বাম-কংগ্রেসের

গতকাল রাতে দমদম স্টেশনের হকারদের উচ্ছেদ অভিযান চলে ৷ বিজেপি'র বুলডোজার রাজনীতির বিরুদ্ধে গরিব মানুষের রুটি-রুজি বাঁচানোর ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের আহ্বান বাম কংগ্রেসের ৷

Bulldozer Action in DumDum Rail Station
(বাঁদিক থেকে) দমদম স্টেশনে বুলডোজার, হকার উচ্ছেদের পর স্টেশন (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : May 31, 2026 at 7:01 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 31 মে: তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় সারা রাজ্যে শোরগোল পড়ে গিয়েছে ৷ সেই রাতেই প্রায় বারোটার সময় সামরিক কায়দায় রেল আধিকারিকরা, আরপিএফ, সিআরপিএফ, জিআরপি, কলকাতা পুলিশ তাদের সাঁজোয়া বাহিনী নিয়ে দমদম রেল স্টেশনের নীচে এবং উপরের সমস্ত রেল হকারদের স্টল বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিল ৷

বিজেপির এই বুলডোজার রাজনীতির বিরুদ্ধে গরিব-দুঃস্থ মানুষের রুটি-রুজি বাঁচানোর ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের আহ্বান জানাল বাম-কংগ্রেস ৷ পশ্চিমবঙ্গ রেলওয়ে হকার্স ইউনিয়ন সভাপতি অলকেশ দাস বলেন, "দমদম রেল স্টেশনের নীচে এবং উপরের সমস্ত রেল হকারদের স্টল বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ৷ তার আগে প্রচুর রেল পুলিশ দিয়ে রেলস্টেশন ঘিরে ফেলা হয় ৷ ফলে প্ল্যাটফর্মে বাইরের কারও আসার সুযোগ ছিল না ৷ রেল হকার ও তাদের নেতৃবৃন্দকে কার্যত পুলিশ অবরুদ্ধ করে ফেলে ৷"

মধ্যরাতে দমদম স্টেশনে হকার উচ্ছেদে চলল বুলডোজার (ইটিভি ভারত)

অলকেশ দাস জানান, রেল হকার নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায় আলোচনার আহ্বান জানালেও রেল কর্তৃপক্ষ তাতে কর্ণপাত করেনি ৷ রেল লাইন দিয়ে ট্রলির উপর দিয়ে বড় ক্রেন আনা হয় ৷ রাতে যে সময়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে, সেই সময় রেল পুলিশ ও প্রশাসন স্টেশন সাফ করে দেয় ৷

রেল হকার উচ্ছেদের কাজে রাজ্য সরকারের তরফে প্রচুর রাজ্য পুলিশ পাঠানোর মধ্যে দিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে । সদ্যগঠিত তথাকথিত বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকার গরিব রেল হকারদের রুটিরুজি হরণের সঙ্গী হল ৷

উল্লেখ্য, হকার উচ্ছেদের আগে বিকেলে রেল কর্তৃপক্ষ রাজ্য সরকারের সহায়তা নিয়ে রেল হকারদের স্টলগুলির বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় ৷ ভয়াবহতার আশঙ্কা করেই রেল হকারেরা রেল স্টেশনে একত্রিত হতে শুরু করে ৷

অলকেশ দাস বলেন, "পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পুঁজি হাঙরদের হাতে রেল স্টেশন তুলে দেওয়ার স্বার্থেই রেল পুলিশ এই মরিয়া ভূমিকা গ্রহণ করে ৷ দমদম স্টেশন ম্যানেজারের ভয়ঙ্কর অত্যাচারী ভূমিকা গ্রহণ করতে দেখা যায় ৷ রেল কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য সরকারের কাছে আমাদের আবেদন দ্রুততার সঙ্গে রেল হকার, রেল কর্তৃপক্ষ, রাজ্য সরকারের ত্রিপাক্ষিক সভা করে সমাধান সূত্র খুঁজে বিকল্প ব্যবস্থা করুন ৷"

পশ্চিমবঙ্গ রেলওয়ে হকার্স ইউনিয়ন সহ-সভাপতি গার্গী চট্টোপাধ্যায় বলেন, "পশ্চিমবঙ্গ রেলওয়ে হকার্স ইউনিয়ন (সিআইটিইউ)-এর পক্ষ থেকে দমদম স্টেশনের এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি । আজ এবং আগামিকাল সর্বত্র প্রতিটি রেল স্টেশনে সকল রেল হকার একত্রিত হয়ে অবস্থান, বিক্ষোভ, যুক্ত মিছিল সংগঠিত করবে ও উপযুক্ত পুনর্বাসন ছাড়া রেল হকার উচ্ছেদ করা যাবে না- এই দাবিতে স্টেশন ম্যানেজারকে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে ৷"

তিনি আরও বলেন, "রেল হকারদের রুটিরুজির উপর যাবতীয় আক্রমণের প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে, যতক্ষণ না উপযুক্ত বিকল্প পুনর্বাসন দেওয়া হয় ৷ রেল কর্তৃপক্ষ এই ধরনের আক্রমণ শিয়ালদা ডিভিশনের যে কোনও প্লাটফর্মে সংঘটিত করতে পারে ৷ এর আগে শিয়ালদা, সোনারপুরে রাতের অন্ধকারে এই ঘটনা ওরা ঘটিয়েছিল ৷ রেল হকারদের সতর্ক থাকতে হবে ৷ রাত প্রহরা দিতে হবে ৷"

পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, "রাজ্যের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই চলছে বুলডোজার রাজনীতি ৷ পুনর্বাসন না-দিয়ে হকার উচ্ছেদ, এলাকা ও সম্প্রদায় টার্গেট করে বেআইনি নির্মাণ ভাঙা- সবই চলছে একতরফা সিদ্ধান্তে ৷ এভাবে গরিব মানুষের জীবিকা কেড়ে নেওয়া, ঘর ভেঙে দেওয়া কোনওভাবে মেনে নেওয়া যায় না ৷ বুলডোজার দিয়ে নয়, আলোচনা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমেই সমাধান হওয়া উচিত ৷ এর সাম্প্রতিক উদাহরণ রাতের অন্ধকারে দমদম স্টেশনে হকার উচ্ছেদ ৷"

কংগ্রেস নেতাও উপযুক্ত পুনর্বাসন ছাড়া এ ধরনের উচ্ছেদকে সম্পূর্ণ অমানবিক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন । তাঁর কথায়, "যে হকাররা দমদম স্টেশনের ফুটপাথে থেকে শুরু করে রাজ্যের প্রতিটি স্টেশন, বাজার, রাস্তার ধারে সারাদিন খেটে পরিবারের রুটি-রুজি জোগাড় করেন, তাদের উচ্ছেদ করা মানে তাদের জীবন-জীবিকার উপর সরাসরি আঘাত । একটা ঝুপড়ি ভাঙা মানে শুধু কাঠ-টিন ভাঙা নয়, একটা পরিবারের স্বপ্ন, সন্তানের পড়াশোনা, দু'বেলা ভাতের ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া ।"

শুভঙ্কর সরকার বলেন, "রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যখন বিরোধী দলনেতা ছিলেন তখন তিনি হকার উচ্ছেদের বিরোধিতা করেছিলেন এবং যে কোনও মূল্যে হকার উচ্ছেদের বিরোধিতার ডাক দিয়েছিলেন ৷ আজ তিনি ক্ষমতায় ৷ এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে তিনি নীরব কেন ? কেন তিনি এই উচ্ছেদকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন ? বিরোধী দলনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর কি গরিব মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা বদলে যায় ? এই বিষয়ে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট অবস্থান ও বক্তব্য আমরা জানতে চাই ৷"

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জানান, বিজেপি-আরএসএস বিরোধী সমস্ত মানুষ, সমস্ত মত ও দলের উচিত গরিব খেটে খাওয়া মানুষের রুটি-রুজির লড়াইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে আনা ৷ কারণ, হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে লড়াই কোনও দলের লড়াই নয়, এটা পেটের ভাতের লড়াই ৷"