শিলিগুড়িতে নদী-বাঁধের উপর তৃণমূলের অবৈধ কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিল বুলডোজার
জনস্বার্থে এই কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে শিলিগুড়ি পুরনিগম ৷ সেখানে অবৈধ পার্কিং জোন তৈরি করে তোলাবাজিও চলত বলে অভিযোগ ৷

Published : July 9, 2026 at 6:08 PM IST
শিলিগুড়ি, 9 জুলাই: দীর্ঘদিনের টালবাহানার অবসান ৷ অবশেষে বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি পুরনিগমের 47 নম্বর ওয়ার্ডে পঞ্চানই নদীর বাঁধের ওপর গড়ে ওঠা তৃণমূলের অবৈধ কার্যালয়টি ভেঙে দিল প্রশাসন । এদিন সকাল থেকেই শিলিগুড়ি পুরনিগমের উদ্যোগে বিশাল পুলিশ বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় বুলডোজার অভিযান চালানো হয় । কোনও প্রকার বড়ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ছাড়াই পুর আধিকারিকদের উপস্থিতিতে অল্প সময়ের মধ্যে এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় । বাঁধের সুরক্ষায় প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ।
এই উচ্ছেদ অভিযানের ইতিহাস নিয়ে সরব হয়েছেন ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক আস্তিক মণ্ডল । তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, 1 নম্বর এবং 47 নম্বর ওয়ার্ডের মিলনস্থলে অবস্থিত এই পঞ্চানই নদীর বাঁধের ওপর 2021 সাল নাগাদ এই বিশাল কার্যালয়টি নিয়মবহির্ভূতভাবে তৈরি করা হয়েছিল । তৎকালীন সময়ে এই বেআইনি নির্মাণ রুখতে বিজেপির পক্ষ থেকে মহকুমাশাসকের অফিসে লিখিত অভিযোগও জানানো হয়েছিল । অভিযোগের ভিত্তিতে তৎকালীন মহকুমাশাসক এসে কাজ বন্ধ করে দিলেও, শাসকদলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ রাতারাতি সেই কাজ সম্পন্ন করে ফেলেন । এর পরের দিনই মেয়র গৌতম দেবকে দিয়ে এই পার্টি অফিসটির উদ্বোধন করিয়ে গত পাঁচ বছর ধরে বেআইনিভাবে এটি চালানো হচ্ছিল ।
এখানেই শেষ নয় ৷ এই পার্টি অফিসের সামনে থাকা একটি ফাঁকা জায়গা পূর্বে এলাকার প্রবীণ মানুষদের বসার ও সময় কাটানোর জন্য একটি সুন্দর পার্ক ছিল । সেই পার্কটিকেও সম্পূর্ণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে তৃণমূলের তৎকালীন নেতারা সেখানে একটি অবৈধ পার্কিং জোন তৈরি করেছিলেন বলে অভিযোগ । সেখান থেকে প্রতিনিয়ত মাসিক ভাড়ার নামে গাড়ি পিছু ব্যাপক তোলাবাজি চালানো হতো বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদী বাঁধের ওপর অনুমতিহীন এই বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে গত 3 জুলাই একটি উচ্ছেদ নোটিশ জারি করা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজেদের উদ্যোগে এটি সরিয়ে নেওয়ার সময় দেওয়া হয়েছিল । সেই নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হতেই এদিন সকালে প্রধাননগর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে কোমর বেঁধে ময়দানে নামে শিলিগুড়ি পুরনিগম । যেহেতু নদী ও সেচ দফতরের অধীনে থাকা নদী বাঁধে যে কোনও ধরনের নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং তা জলনিকাশি ব্যবস্থা ও বাঁধের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক, তাই জনস্বার্থেই এই উচ্ছেদ জরুরি ছিল বলে দাবি করা হয় ।
পুরনিগমের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আগামী দিনেও সরকারি জমি বা নদী বাঁধ দখল করে গড়ে ওঠা যে কোনও অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে এই ধরনের কড়া বুলডোজার অভিযান জারি থাকবে । এই নিয়ে তৃণমূলের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি ৷

