মালদা থেকে ফের কয়েক কোটি টাকার ব্রাউন সুগার বাজেয়াপ্ত ! মধ্যরাতে পুলিশের হানা
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, গত দু’মাসে জেলায় প্রায় 80 কেজি ব্রাউন সুগার উদ্ধার হয়েছে এবং প্রায় 120 জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ।

Published : March 1, 2026 at 1:35 PM IST
মালদা, 1 মার্চ: রাতের অন্ধকারে মাঠের মধ্যে চলছিল ব্রাউন সুগার তৈরির তোড়জোড় । হঠাৎ পুলিশের হানা । ছত্রভঙ্গ হয়ে পালাল কারবারিরা । ধাওয়া করে এক জনকে পাকড়াও করে পুলিশ । ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হল 4 কেজি 649 গ্রাম ব্রাউন সুগার । যার বাজার মূল্য কয়েক কোটি টাকা ! মালদার মোথাবাড়ি থানা এলাকার আমলিতলা মাঠে শুক্রবার গভীর রাতে এই অভিযানে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ।
পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতেই অভিযান চালায় কালিয়াচক ও মোথাবাড়ি থানার যৌথ বাহিনী । সোর্স মারফৎ পুলিশ জানতে পারে, নির্জন মাঠে বসেই তৈরি হচ্ছে ব্রাউন সুগার । সেই খবর মিলতেই পরিকল্পনা করে হানা দেয় পুলিশ । আচমকা পুলিশের উপস্থিতি টের পেতেই অন্ধকারের সুযোগে দৌড় দেয় কয়েক জন । তবে দীর্ঘ ধাওয়ার পর এক কারবারিকে ধরে ফেলতে সক্ষম হয় পুলিশ ।
ধৃতের নাম কাইম শেখ (34) । বাড়ি কালিয়াচক থানার কিসমতপুর এলাকায় । তার কাছ থেকেই বিপুল পরিমাণ ব্রাউন সুগার উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি পুলিশের ।
শনিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে জেলা পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, "ব্রাউন সুগারের কারবার রুখতে মালদা জেলা পুলিশ 'কোনো ছাড় নয়' নীতি নিয়েছে । কালিয়াচক দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কারবারের কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত । সেখান থেকেই অভিযান শুরু হয় । শুক্রবার মধ্যরাতে মোথাবাড়ির আমলিতলা মাঠে হানা দিয়ে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে । ধৃতকে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে মালদা জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছে । তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বাকি পাণ্ডাদের খোঁজ চালানো হবে ।"
পুলিশ সুপারের দাবি, লাগাতার অভিযানের জেরে কারবারিরা ঘাঁটি বদলানোর চেষ্টা করছে । কালিয়াচক ছেড়ে অন্য এলাকায় ডেরা গেড়ে কারবার চালানোর প্রবণতা বাড়ছে । তবে পুলিশ সম্পূর্ণ সতর্ক । গত দু’মাসে জেলায় প্রায় 80 কেজি ব্রাউন সুগার উদ্ধার হয়েছে এবং প্রায় 120 জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, এর আগেও ইংরেজবাজারে ব্রাউন সুগার তৈরির কারখানার হদিশ পেয়েছিল পুলিশ । এবার মোথাবাড়ি এলাকায় সেই চক্রের নতুন ডেরার সন্ধান মিলল । তদন্তকারীদের মতে, ধৃতকে জেরা করলেই সামনে আসতে পারে আরও বড় চক্রের যোগসূত্র । মালদায় মাদক কারবারের শিকড় কতটা গভীর— সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ।

