ভিডিয়ো কলে নগ্ন নাবালিকা ! রেকর্ড করে সোশালে ছড়িয়ে দিল প্রেমিক, তারপর...
গোপনে ভিডিয়ো কলে প্রেমিকার নগ্ন ছবি রেকর্ড করেছিল প্রেমিক ৷ সেই ভিডিয়ো সোশালে দেখতে পেয়ে নিজের জীবন শেষ করার চেষ্টা করে দশম শ্রেণির ছাত্রী ৷

Published : November 9, 2025 at 6:50 PM IST
মুরারই, 9 নভেম্বর: ভিডিয়ো কলের নগ্ন দৃশ্য ছড়িয়ে পড়েছে সোশাল মিডিয়ায় ৷ অপমানে নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করল দশম শ্রেণির এক ছাত্রী। এই ভিডিয়ো সোশালে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে প্রেমিককে। রবিবার অভিযুক্তকে 4 দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন রামপুরহাট মহকুমা আদালতের বিচারক ৷
বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ সিং বলেন, "অভিযোগ পেয়েই মুরারইয়ের ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে ৷ ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ৷"
নাবালিকা ও তার পরিবারের তরফে অভিযোগ, গোপনে ভিডিয়ো কলের নগ্ন দৃশ্য রেকর্ডিং করে রাখে প্রেমিক। তারপর তা সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ৷ এদিকে, সোশালে এমন দৃশ্য দেখে চরম পদক্ষেপ করে দশম শ্রেণির ছাত্রীটি। কিন্তু প্রাণে বেঁচে যায় ৷ ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বীরভূমের মুরারই থানার অন্তর্গত একটি গ্রামে। অভিযুক্তের নাম প্রেমিকা ও তার পরিবারের তরফে জানতে পারে পুলিশ ৷ তারপরই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে মুরারই পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম জাহির শেখ (19) । অভিযোগ, দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ৷ তারপর ফোন নম্বর আদান-প্রদান হয় দু'জনের মধ্যে ৷ এরপরই নাবালিকাকে ভিডিয়ো কল করে অভিযুক্ত ৷ নাবালিকাকে না-জানিয়েই তার আপত্তিকর ছবি ও দৃশ্য রেকর্ড করে। পরে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথাও জানায় জাহির ৷ তাতে প্রেমিকা বাধা দেয় ৷ এরপরই ভিডিয়ো কলের নগ্ন তথা আপত্তিকর দৃশ্য সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয় অভিযুক্ত প্রেমিক ৷
ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে মেয়েটি। অপমান সহ্য করতে না-পেরে শুক্রবার বিকেলে সে নিজের প্রাণ নেওয়ার চেষ্টা করে। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার করে প্রথমে মুরারই গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় ৷ বর্তমানে ওই দশম শ্রেণির ছাত্রী ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন।
মেয়েটির পরিবার মুরারই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত জাহির শেখকে গ্রেফতার করে ৷ রবিবার তাকে রামপুরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে। ছাত্রীর বাবা বলেন, "আমার মেয়ের সঙ্গে ভিডিয়ো কল করে আপত্তিকর ছবি রেকর্ড করে বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছড়িয়ে দেয় গ্রামেরই ওই যুবক। সেই অপমান সহ্য না-করতে পেরে নিজের জীবন শেষ করার চেষ্টা করে আমার মেয়েটি। আমরা থানায় ওই ছেলের নামে অভিযোগ করেছি। জাহিরের শাস্তির দাবি করছি।"

