'আরডিএক্স পোঁতা আছে' ! ই-মেলে হুমকি বিচারকদের, তোলপাড় কলকাতা থেকে জেলার আদালতে
আসানসোল–দুর্গাপুর থেকে কলকাতার নগর ও দায়রা বিচারকের এজলাসে আতঙ্ক! বম্ব স্কোয়াড ও স্নিফার ডগ দিয়ে চলছে চিরুনি তল্লাশি ৷

Published : February 24, 2026 at 2:14 PM IST
|Updated : February 24, 2026 at 2:28 PM IST
কলকাতা/হুগলি/পশ্চিম বর্ধমান, 24 ফেব্রুয়ারি : কলকাতা থেকে জেলা - একযোগে আদালত উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল রাজ্যজুড়ে । মঙ্গলবার বেলা সাড়ে 11টা নাগাদ কলকাতা নগর ও দায়রা আদালতের পাশাপাশি আসানসোল, দুর্গাপুর, চুঁচুড়া-সহ একাধিক জেলা আদালতের বিচারকদের কাছে পৌঁছেছে হুমকি ই-মেল। তাতে দাবি, আদালত চত্বর ও বিচারকের চেম্বারে আরডিএক্স ও আইইডি পুঁতে রাখা হয়েছে ! দুপুর 1টায় নাকি উড়িয়ে দেওয়া হবে !
ফলে কলকাতা থেকে জেলায় জেলায় আদালত চত্বরে তীব্র আতঙ্ক ছড়ায় ৷ খবর পেয়ে তড়িঘড়ি আদালত চত্বরে পৌঁছে যান পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা । আনা হয় বম্ব স্কোয়াড ও একাধিক স্নিফার ডগ । গোটা আদালত চত্বরে শুরু হয়েছে চিরুনি তল্লাশি । তবে এখনও পর্যন্ত কোনও বিস্ফোরক মেলেনি বলে পুলিশ সূত্রের খবর।
এসআইআর-যোগ?
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্যের বেশিরভাগ আদালতের একাংশ বিচারক এসআইআর প্রক্রিয়ার কাজে যুক্ত হয়েছেন ৷ 28 ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৷ স্বভাবতই, এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে এই হুমকি ই-মেলের কোনও সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়েও বিভিন্নমহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে ৷ প্রসঙ্গত, সম্প্রতি রাঁচি, ওড়িশা ও দেরাদুনের আদালতেও একই ধরনের হুমকি-মেল পৌঁছেছিল । পরে তদন্তে সেগুলি ভুয়ো বলেই প্রমাণিত হয় । তবে রাজ্যের একাধিক আদালতে একযোগে এমন বার্তা পৌঁছনোয় উদ্বেগ বাড়ছে বিচারমহলে । ঘটনার তদন্তে নেমেছে সাইবার শাখাও।
বোমাতঙ্কের শুরু
এদিন সকালে বোমাতঙ্কের খবর প্রথম জানা যায় আসানসোল আদালতে ৷ মঙ্গলবার দুপুরে একটি মামলা চলাকালীন জেলা জজের মেইলে আসে হুমকির বার্তা । এজলাসে বসেই বিচারক বিষয়টি জানতে পারেন ৷ সেখানে বসেই তিনি আইনজীবীদের হুমকি ইমেলের কথা জানান ৷ মুহূর্তে তোলপাড় পড়ে যায় । আইনজীবী, কর্মী, বিচারপ্রার্থী— সবাই হুড়োহুড়ি করে আদালত চত্বর ছাড়েন । কার্যত থমকে যায় কাজকর্ম ।
খবর পেয়ে তড়িঘড়ি পৌঁছে যায় আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট-এর উচ্চপদস্থ কর্তারা । আনা হয় বম্ব স্কোয়াড ও একাধিক স্নিফার ডগ । গোটা আদালত চত্বরে শুরু হয় চিরুনি তল্লাশি । কিছু পরেই একই খবর পাওয়া যায় দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে ৷ তারপরেই কলকাতা নগর ও দায়রা আদালতেও জানা যায় বোমাতঙ্কের খবর ৷ কিছু পরে চুচুঁড়াতেও !
আসানসোল আদালতের জেলা ও দায়রা বিচারক দেবপ্রসাদ নাগ বলেন, "হুমকি ই-মেলে লেখা হয়েছে, আদালতে আরডিএক্স এবং আইইডি পুঁতে রাখা রয়েছে, বেলা 1টার সময় নাকি বিস্ফোরণ হবে ! বিষয়টি জানামাত্র সকলের সুরক্ষার স্বার্থে আমরা আদালত চত্বর খালি করে দিয়েছি ৷ বাকিটা পুলিশ প্রশাসন দেখছে ৷"
এ ব্যাপারে আসানসোল আদালতের প্রবীণ আইনজীবী শেখর কুন্ডু বলেন, " আমরা এজলাসে শুনানিতে ছিলাম । সেই সময় বিচারক জানান, একটি উড়ো মেইল এসেছে— তাতে আদালত উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এরপরই আমরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসি ।"
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মেইলে স্পষ্ট করে লেখা ছিল, আদালতের বিভিন্ন অংশে আরডিএক্স ও ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) রাখা হয়েছে। ফলে ঝুঁকি এড়াতে সম্পূর্ণ চত্বর খালি করে তল্লাশি চালানো হয় ।
আতঙ্ক দুর্গাপুরেও
দুর্গাপুর মহকুমা আদালতেও একই ছবি । এসিজেএম আইনজীবীদের সতর্ক করে দ্রুত আদালত খালি করার নির্দেশ দেন । এসিপি সুবীর রায়ের নির্দেশে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয় ।
তালিকায় কলকাতা, চুচুঁড়া, বহরমপুরও
একই দৃশ্য কলকাতার নগর দায়রা আদালত থেকে চুচুঁড়া মহকুমা আদালত চত্বরেও ৷ আদালত সূত্রের খবর, জেলা জজের কাছে আসা ই-মেলে বাংলায় লেখা হয় যে আদালত চত্বরে 15টি আরডিএক্স আছে ! এরপরই আদালতের পক্ষ থেকে দ্রুত চন্দননগর পুলিশ কমিশনার ও পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানানো হয় । দ্রুত আদালত চত্বর খালি করে তল্লাশিতে নামে পুলিশ ৷
জেলা আদালতের আইনজীবী কিশোর মণ্ডল বলেন, "সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারকরা এসআইআর প্রক্রিয়া অংশ নিয়েছেন । যাদের স্বার্থে আঘাত লাগবে তাঁরাই এসব করাচ্ছে । পুলিশ কর্মীরা বিষয়টি দেখছেন । সঠিকভাবে তদন্ত হলেও আসল সত্য সামনে আসবে ৷" একইভাবে এদিন বহরমপুর আদালতেও বিচারকের কাছে পৌঁছেছে হুমকি ই-মেল৷ আতঙ্কের জেরে দ্রুত খালি করা হয় আদালত চত্বর৷
সবমিলিয়ে কলকাতা থেকে জেলায় জেলায় বিভিন্ন আদালতে পৌঁছেছে হুমকি ই-মেল ৷ যার ভিত্তিতে চলছে পুলিশের তল্লাশি অভিযানও ৷ এখনও পর্যন্ত কোথাও বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি ৷ যা থেকে প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতেই এই হুমকি ই-মেল দেওয়া হয়েছে সরাসরি বিচারকদের ৷ সেক্ষেত্রে হুমকি ই-মেল কাণ্ডের সঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ার যোগসূত্রের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না ৷
পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, "হুমকি-ইমেলকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে । কোথা থেকে পাঠানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাক করা হচ্ছে ।" এখন দেখার, পুলিশি তদন্তে কী উঠে আসে ৷

