LTTE-ISI এর নাম করে ভুয়ো ইমেলে ফের বোমাতঙ্ক আসানসোল আদালতে
মঙ্গলবারও একই ধরনের ইমেল এসেছিল আসানসোল-সহ রাজ্য়ের বেশ কয়েকটি আদালতে৷

Published : February 25, 2026 at 3:49 PM IST
আসানসোল, 25 ফেব্রুয়ারি: ফের উড়ো চিঠিতে বোমাতঙ্ক আসানসোল জেলা আদালতে। মঙ্গলবার রাজ্যের বিভিন্ন আদালতে এই ধরনের ইমেল পাঠিয়ে আরডিএক্স দিয়ে আদালত উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। একই রকমভাবে বুধবারও আসানসোল জেলা আদালতের ইমেল পাঠিয়ে 15 জায়গায় আরডিএক্স রেখে আদালত উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হল।
ইমেলে দাবি করা হয়েছে যে সেটি পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এবং তামিল জঙ্গিগোষ্ঠী এলটিটিই-র তরফে পাঠানো হয়েছে৷ লেখা হয়েছে, বুধবার নামাজ পড়ার পর দুপুরে আসানসোল আদালত আরডিএক্স দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হবে।
গতকালের মতো এদিন আতঙ্ক না-ছড়ালেও ইমেল পাওয়ার পরেই পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ জানতে পেরেই তৎপর হয়ে ওঠে। পুনরায় স্নিফার ডগ নিয়ে এসে আদালত চত্বরে তল্লাশি চালানো হয়। যদিও সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। গতকাল ইমেলটি এসেছিল হটমেল থেকে এবং বুধবার ইমেলটি একটি আউটলুক ইমেল আইডি থেকে পাঠানো হয়েছে। যদিও ইমেলটি কোথা থেকে এসেছে, তার এখনও পর্যন্ত হদিশ করতে পারেনি পুলিশ।
আসানসোল জেলা আদালতের চিফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার ভরত দাস বলেন, "গতকালের মতো আজকেও একটি ইমেল এসেছে। এই ইমেলে লেখা হয়েছে, নামাজ পড়ার পর আদালত আসানসোল আদালত উড়িয়ে দেওয়া হবে। আমরা পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি। পুলিশ তার মতো করে তদন্ত করছে। তবে আমাদের কোথাও মনে হচ্ছে ইমেলে যেভাবে সাম্প্রদায়িক কথাবার্তা লেখা পাঠানো হয়েছে, তাতে আমাদের মনে হচ্ছে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে কোথাও ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।"
অন্যদিকে সরকারি আইনজীবী অয়নজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "দুদিন পরপর ইমেল এল এবং আদালত চত্বরকে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হুমকি দেওয়া হল। আসানসোল আদালতে অনেক বড় বড় মামলা হয় এবং এখানে রয়েছে সিবিআই আদালত থেকে শুরু করে জেলা আদালত। কিন্তু যতটা নিরাপত্তা থাকার দরকার, ততটা নিরাপত্তা আসানসোল আদালতে নেই। আমরা চাইছি পুলিশ যথাযোগ্য নিরাপত্তা দিক। যাতে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারি।"
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার কলকাতার নগর ও দায়রা আদালত-সহ বিভিন্ন জেলা আদালতে বোমা রাখার ইমেল এসেছিল৷ বিষয়টি সামনে আসতেই সংশ্লিষ্ট আদালতগুলিতে আতঙ্ক ছড়ায়৷ বিচারক, আইনজীবী, আদালতের কর্মী ও বিচারপ্রার্থীরা সকলেই আদালত চত্বর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন৷ ঘটনাস্থলে সংশ্লিষ্ট এলাকার উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা যান৷ নিয়ে যাওয়া হয় বম্ব স্কোয়াড, স্নিফার ডগ৷ তবে শেষ পর্যন্ত কোথাও কোনও বোমার হদিশ মেলেনি৷
যেহেতু এখন রাজ্যের বিচারকদের একটা বড় অংশকে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর (SIR)-এর নথি যাচাইয়ের দায়িত্ব দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট৷ তাই এই ভুয়ো বোমাতঙ্ক ছড়ানোর নেপথ্যে এসআইআর সংক্রান্ত কোনও বিষয় জড়িয়ে আছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছিল৷
এদিকে এই নিয়ে মঙ্গলবারই নবান্নে রাজ্য প্রশাসনের তরফে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক৷ সেই বৈঠকে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের শীর্ষকর্তাদের পাশাপাশি প্রশাসনের শীর্ষকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন৷ বৈঠকের পর রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী জানান, আদালতের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাজ্যের। সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না-দেওয়ার আবেদন করেছিলেন মুখ্যসচিব।
অন্যদিকে মঙ্গলবার এই বোমাতঙ্কের বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন যে এর সঙ্গে বাংলাদেশি জঙ্গিরা যুক্ত৷ তাই এই ঘটনার তদন্তভার ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেটিং এজেন্সিকে দেওয়া উচিত বলে দাবি করেছিলেন তিনি৷ শুভেন্দু অধিকারীর মতে, রাজ্য পুলিশকে দিয়ে এই ঘটনার তদন্ত করা যাবে না৷
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বোমাতঙ্ক কারা ছড়িয়েছিল, ইমেল কোথা থেকে এসেছিল, তা নিয়ে তদন্ত চলছে এখনও৷ তার মধ্যেই বুধবার নতুন করে বোমাতঙ্ক ছড়াল৷ তবে মঙ্গলবার যে পরিস্থিতি ছড়িয়েছিল আসানসোল আদালতে, বুধবার তেমন হইচই পড়েনি৷ এখন দেখার পর পর দু’দিনের বোমাতঙ্কের মধ্যে কোনও যোগ আছে কি না!

