'হেরিটেজ' বাফার জোনে বেআইনি নির্মাণ, বিশ্বভারতীর আপত্তিতে বন্ধ করল পুরসভা
বুধবার বিশ্বভারতীর বাফার জোন পরিদর্শন করেন শ্রীনিকেতন-শান্তিনিকেতন উন্নয়ন পর্ষদ ও বোলপুর পুরসভার আধিকারিকরা৷

Published : February 25, 2026 at 6:01 PM IST
বোলপুর, 25 ফেব্রুয়ারি: 'ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ' বিশ্বভারতীর বাফার জোনে 'বেআইনি' নির্মাণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে নোটিশ দিয়ে নির্মাণ কাজ রুখল বোলপুর পুরসভা৷ 'হেরিটেজ' রক্ষা করতে বুধবার বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরজমিনে বাফার জোন পরিদর্শন করেন বোলপুর পুরসভা ও শ্রীনিকেতন-শান্তিনিকেতন উন্নয়ন পর্ষদের আধিকারিকরা।
প্রসঙ্গত, এর আগেও বাফার জোনে রাজ্য সরকারের অনুমতি ছাড়াই বড় বড় কংক্রিটের নির্মাণ শুরু হয়েছিল৷ যা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।

বোলপুর পুরসভার ইঞ্জিনিয়র বাপি বীরবংশী বলেন, "ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ রক্ষা করার দায়িত্ব বিশ্বভারতীর পাশাপাশি বোলপুর পুরসভারও৷ তাই পুরসভার চেয়ারপার্সনের প্রতিনিধি হিসাবে অনুমতি ছাড়া নির্মাণ বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"
বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, "হেরিটেজ বাফার জোনে যা খুশি নির্মাণ করা যাবে না, এই নিয়ম স্পষ্ট। আর রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকেও বৈঠকে সেই সব নিয়ম আমরা জানিয়ে দিয়েছি৷ হেরিটেজ তকমা ধরে রাখতে উভয়কেই এক সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ও কাজ করতে হবে।"

উল্লেখ্য, 2023 সালের 17 সেপ্টেম্বর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'প্রাণের আরাম' শান্তিনিকেতনকে 'ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ' তকমা দিয়েছে ইউনেসকো। বিশ্বের একমাত্র চলমান বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বভারতী এই তকমার অধিকারী। হেরিটেজ কমিটির একাধিক বিধিনিষেধ রয়েছে৷ তার মধ্যে অন্যতম হল হেরিটেজ রক্ষা করতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে, পরিবেশ রক্ষা করতে হবে, ঐতিহ্যবাহী স্থান, ভবন, ভাস্কর্যগুলি সংরক্ষণ করতে হবে, হেরিটেজ সীমানা থেকে 100 মিটার বাফার জোন৷ অর্থাৎ, এই জোনে কোনও বড় কংক্রিটের নির্মাণ করা যাবে না প্রভৃতি।
তাই 'হেরিটেজ' তকমা ধরে রাখতে একাধিকবার বোলপুর পুরসভা, শ্রীনিকেতন-শান্তিনিকেতন উন্নয়ন পর্ষদ, বীরভূম জেলা পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য, কর্মসচিব-সহ অন্যান্য আধিকারিকেরা।

বৈঠকের পর যৌথভাবে বাফার জোন পরিদর্শনও করা হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিক গায়ে শ্রীপল্লীতে রাজ্য সরকারের কোনও দফতরের কোনও অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় কংক্রিটের নির্মাণ হচ্ছে৷ দেখে মনে হচ্ছে ব্যবসায়িক স্বার্থে এই বৃহৎ নির্মাণ চলছে৷ যা নিয়ে আপত্তি তোলে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। আর এই আপত্তির জেরে এদিন বোলপুর পুরসভার তরফে নোটিশ দিয়ে 'বেআইনি' নির্মাণ বন্ধ করে দেওয়া হল৷

নোটিশ থেকে জানা গিয়েছে, পুতুল দেবী ও কাঞ্চন দেবী নামে দু’জন ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ শান্তিনিকেতনের বাফার জোনে এই নির্মাণ করছিলেন৷ তবে এই দু’জনের কোনও বক্তব্য মেলেনি৷

প্রসঙ্গত, এর আগে গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাদা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়ি 'দ্বিজবিরাম' থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে রেস্তরাঁ নির্মাণ করছিলেন বোলপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুশান্ত ভকতের ছেলে বিকাশ ভকত ওরফে বিকি৷ বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ এই নিয়ে আপত্তি তোলায় বোলপুর পুরসভার পক্ষ থেকে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে আশপাশে জমিতে হোটেল, লজ, রেস্তরাঁ, আবাসন, শপিংমল, গেস্ট হাউস, হোম স্টে প্রভৃতি নির্মাণে মরিয়া জমি মাফিয়ারা৷ কারণ, যত দিন যাচ্ছে শান্তিনিকেতনে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে৷ আর তারজন্যই জমির কদর বাড়ছে৷

