ETV Bharat / state

বেসরকারি কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ, শ্রমিকদের দেহ লোপাটের অভিযোগ মজদুর সংঘের নেতার

কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, এই বিস্ফোরণে কোনও শ্রমিক আহত-নিহত হয়নি । ভারতীয় মজদুর সংঘের নেতার দাবি, মৃত্যু ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে ৷ সৌমেন বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিবেদন ৷

Durgapur news
বিস্ফোরণের খবর পেতেই কারখানার বাইরে ভিড় (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 27, 2026 at 10:45 AM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

দুর্গাপুর, 27 অগস্ট: কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বেসরকারি কারখানায় পরপর তিনবার ভাটি বিস্ফোরণ । বুধবার রাতের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে দুর্গাপুরের এক নম্বর ওয়ার্ডের কমলপুর, রঘুনাথপুর ও ধোবিঘাট এলাকায় । রাতের অন্ধকারেই কয়েকশো মানুষ কারখানার গেটের বাইরে বেরিয়ে আসেন । পৌঁছয় দুর্গাপুর থানার পুলিশ ।

যদিও কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, এই বিস্ফোরণে কোনও শ্রমিকের প্রাণহানি বা আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি । কিন্তু গভীর রাতে কারখানায় সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখার পর ভারতীয় মজদুর সংঘের নেতা মৃন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক অভিযোগ, "আজ পর্যন্ত বেসরকারি কোনও কারখানায় এভাবে ভাটি বিস্ফোরণের পরে শ্রমিক মৃত্যু অথবা আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি তা হয়নি । এক্ষেত্রেও আমাদের সন্দেহ কমপক্ষে ছয় থেকে সাত জন মারা গিয়েছে । তাদের মৃতদেহ গায়েব করে দেওয়া হয়েছে । সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চেয়েছি । তারা বলছে ডিভিআর পুড়ে গিয়েছে ।"

দুর্গাপুরের কমলপুরে বেসরকারি ফেরো অ্যালয় কারখানা বিগত বাম সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল । কিন্তু কারখানার নাম বদল হয়েছে । এই কারখানায় এর আগেও এইরকম ভাটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে । বুধবার রাতে হঠাৎই বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা । স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায় পরপর তিনবার বিস্ফোরণ ঘটে । বিস্ফোরণের সময় ক্রেইন অপারেটর হিসাবে কাজ করছিল বিহারের সাসারামের বাসিন্দা মুন্না প্রসাদ চৌরাসিয়া ।

বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে তাঁর কাছে সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "তিনবার বিস্ফোরণ ঘটে । নিচে ও উপরে অনেক কর্মী কাজ করছিল । আমরা তিনজন ক্রেইনে ছিলাম । কোনওক্রমে আমরা পালিয়ে যাই । নিচে কী হয়েছে আমরা জানি না ।"

আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্তা বলেন, "বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে পুলিশ যায় । পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে । খতিয়ে দেখা হচ্ছে বায়োমেট্রিক সিস্টেম । সেই সময়ই কারখানায় উপস্থিত শ্রমিকদের জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে । পুলিশ যথাযথ তদন্ত করছে ।"

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এর আগেও এই কারখানায় বহুবার দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে । এবারও কারখানায় বিস্ফোরণের পর কারখানার মূল গেট বন্ধ করে রাখা হয়েছিল । কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি । যদিও বহু মানুষ কারখানায় ঢুকতে চেষ্টা করে দুর্ঘটনার পরে । কিন্তু দুর্গাপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি । রাতে বিএমএসের সমস্ত নেতারা এই কারখানায় যান ।

তবে স্থানীয় বিজেপি ও বিএমএসের নেতারা প্রথমে এই দুর্ঘটনার সম্পর্কে বলতে গিয়ে কোনও কিছুই হয়নি শুধুমাত্র বিস্ফোরণ ঘটেছে । কিন্তু তারপর বিএমএসের নেতা মৃন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখে বলেন, "ছয় থেকে সাত জন মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে এবং মৃতদেহ গায়েব করে দেওয়া হয়েছে । বৃহস্পতিবারের মধ্যে যদি কারখানা কর্তৃপক্ষ সঠিক তথ্য না জানায় তাহলে আমরা শ্রমদফতরের কাছে যাব এবং এই কারখানা আপাতত বন্ধ রাখার কথা জানাব ।"

স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠছে তাহলে দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বিএমএস এবং বিজেপি নেতা কীভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রথমেই জানিয়ে দিলেন বিস্ফোরণ হয়েছে কিন্তু কোনও শ্রমিকের প্রাণহানি বা আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি ? তাহলে কি এক্ষেত্রে সেটিং তত্ত্ব কাজ করেছিল দুর্ঘটনার ঘটার পরই ? এমন প্রশ্ন উঠে আসছে স্থানীয় নেতাদের তড়িঘড়ি কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গ দান করে কথা বলা প্রসঙ্গে ।