ETV Bharat / state

সোদপুরে বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার দুই বোনের দেহ ! অনাহারে মৃত্যু ?

খড়দা থানার পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেছে ৷ দেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে ৷

body recovery
বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে দুই বোনের দেহ উদ্ধার (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : December 23, 2025 at 8:23 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

সোদপুর, 23 ডিসেম্বর: বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে মিলল দুই বোনের দেহ । নিহত ওই দুই বোনের নাম সবিতা দত্ত চট্টোপাধ্যায় (63) ও কণিকা দত্ত (57) । ঘটনার জেরে মঙ্গলবার শোরগোল ছড়িয়েছে উত্তর 24 পরগনার সোদপুরে ।

খড়দা থানার পুলিশ দেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে । কীভাবে মৃত্যু? অনাহার, অসুস্থতা নাকি অন্য কিছু? তা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য । তবে প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীদের ধারণা, সম্ভবত দীর্ঘদিন অনাহারে ছিলেন তাঁরা । তার জেরেই এই মৃত্যু ! যদিও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ ।

সোদপুরে বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার দুই বোনের দেহ ! অনাহারে মৃত্যু ? (ইটিভি ভারত)

খড়দা থানার এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, "দু’টি দেহেই কোনও আঘাতের চিহ্ন মেলেনি । তাই, মনে করা হচ্ছে অসুস্থতার কারণেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে । এই নিয়ে নিহতের পরিজনের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে । তদন্ত চলছে ।"

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোদপুরের হরিশচন্দ্র রোডের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন দুই বোন । ফ্ল্যাটের অন‍্যান‍্য আবাসিকদের সঙ্গে খুব একটা মেলামেশা করতেন না তাঁরা । বেশিরভাগ সময়ই ফ্ল্যাটের দরজা বন্ধ থাকত । আবাসিকরা জানান, দু-তিন দিন ধরেই দুই বোনের কোনও সাড়া-শব্দ মিলছিল না । তাঁদের কাউকেই বাইরে বেরতে দেখা না-যাওয়ায় সন্দেহ জাগে । তারই মধ্যে পরিচিত এক মহিলা তাঁদের খোঁজ খবর নিতে এসে দরজা ধাক্কা দিতেই হতবাক হয়ে যান । তিনি ছোট বোনের মৃতদেহ মেঝেয় পড়ে থাকতে দেখে বুঝতে পারেন কিছু একটা হয়েছে !

এরপর ওই মহিলা পাড়ার লোকজনকে বিষয়টি জানান । খবর দেওয়া হয় আত্মীয়দেরও । এর পরেই প্রকাশ‍্যে আসে গোটা ঘটনাটি । খবর পেয়ে খড়দা থানার পুলিশও ছুটে আসে ওই ফ্ল্যাটে । তাঁরা বন্ধ ফ্ল্যাটের সামনের ঘর থেকে ছোট বোন অর্থাৎ কণিকার দেহ উদ্ধার করে । পাশের ঘর থেকে মেলে বড় বোন অর্থাৎ সবিতার দেহ । দু’টি দেহই ঘরের মেঝেতে উপুড় হয়ে পড়ে ছিল, যা ঘিরে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয় এলাকায় ।

body recovery
সোদপুরের ঘটনা (নিজস্ব ছবি)

কিন্তু কীভাবে তাঁদের দু'জনের মৃত্যু হল? এ নিয়ে রহস্য ঘনিভূত হয়েছে । জানা যাচ্ছে, বছর দেড়েক আগে সবিতার স্বামী মারা যান । তারপর থেকেই আর্থিক সংকট দেখা দেয় পরিবারে । আগে কণিকা প্রাইভেট টিউশনি করে কিছু টাকা রোজগার করলেও এখন আর সেটাও করেন না । ফলে একদিকে তীব্র আর্থিক সংকট । অন‍্যদিকে মানসিক সমস্যা, দুই-ই চেপে বসেছিল দিদি-বোনের । যার জেরে বেশিরভাগ সময়ই না-খেতে পেয়ে তাঁদের অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছিল বলে অভিযোগ ।

আর্থিক সংকটের জেরে তাঁদের (সবিতা ও কণিকা) যে ঠিক মতো খাওয়া হতো না, তা মেনে নিয়েছেন পুষ্পাঞ্জলি সেন নামে ওই ফ্ল্যাটের এক আবাসিক । তাঁর কথায়, "সবিতার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই দুই বোনের কোনও রোজগার ছিল না । তাছাড়া দু'জনেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন । ওঁদের এক দাদা এসে মাঝে মধ্যে খোঁজ খবর নিয়ে যেতেন । দুই বোনই কারও সঙ্গে খুব একটা মেলামেশা করতেন না । ওঁরা কথা বললেই তখন কথা হতো । এছাড়া বেশিরভাগ সময়ই ফ্ল্যাটের দরজা বন্ধ করে রাখতেন । না-খেতে পেয়েই হয়তো অসুস্থ হয়ে দু'জনে মারা গিয়েছেন । বাকিটা তো পুলিশের তদন্তের ব‍্যাপার ।"

body recovery
এই ঘরের পড়ে ছিল দেহ দুটি (নিজস্ব ছবি)

এদিকে, সবিতা ও কণিকার মৃত্যু স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন তাঁদেরই আত্মীয় পায়েল দত্ত । তিনি বলেন, "সম্পর্কে ওঁরা আমার পিসি হন । আমরা যতটা পেরেছি, ততটা পাশে দাঁড়িয়েছি । আমাদের বাড়ি থেকে খাবার পাঠানো হলেও ওঁরা সেটা খেত না । ফেলে দিত বলেই শুনেছি । সবিতার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে আর্থিক সংকট তৈরি হয় ওঁদের পরিবারে । মানসিক সমস্যাও ছিল । পুলিশ জানিয়েছে, দু'জনের দেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই । তাই মনে হচ্ছে এক জনের মৃত্যু দেখে আরেকজন অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছে ।"