ETV Bharat / state

বাচ্চা-চাকরি সামলে এত কাজ সম্ভব না ! কমিশনের নয়া নির্দেশিকায় বিক্ষোভ BLO-দের

বিডিও অফিসে বৈঠকে অতিরিক্ত ডাটা এন্ট্রি নিয়ে নতুন নির্দেশিকা দেওয়া হয় বিএলও'দের ৷ এরপর ক্ষুব্ধ বিএলও'রা বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি অভিযোগপত্র জমা দেন বিডিওর কাছে ।

BLOs protest
মেদিনীপুর সদর বিডিও অফিসে বিএলও'দের বিক্ষোভ (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : November 13, 2025 at 6:53 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

মেদিনীপুর, 13 নভেম্বর: সংসার, বাচ্চা ও স্কুল সামলে এত কাজ করা সম্ভব নয় ৷ তাই এসআইআর প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত ডাটা এন্ট্রির কাজ করতে রাজি নন বিএলও'রা ৷ এই দাবি তুলে বিডি অফিসে বিক্ষোভ দেখালেন তাঁরা ৷ যদিও তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন বিডিও । ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর সদরে ৷

এসআইআর-এর এনুমারেশন ফর্ম ফিলাপ ও জমা দেওয়া নিয়ে রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা রয়েছে । বিশেষ করে প্রতিদিন নির্বাচন কমিশনের নতুন নতুন নির্দেশিকায় ধন্ধে পড়েছেন বিএলও'রা । শুরুতে এক ধরনের গাইডলাইন, এরপর ফর্ম বিলির পরে আরেক ধরনের গাইডলাইন, সেই সঙ্গে অতিরিক্ত করে নতুন কাজ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁদের অভিযোগ ৷ তাই এবার আন্দোলনের পথে হাঁটলেন মেদিনীপুরের বিএলও'রা ।

বিডিও অফিসে বিক্ষোভ BLO-দের (নিজস্ব ভিডিয়ো)

মূলত বৃহস্পতিবার বিএলও'দের নিয়ে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছিল মেদিনীপুর সদরের বিডিও অফিসে । এদিন বিএলও'রা সেই অনুযায়ী সেখানে হাজির হন । কিন্তু সেই বৈঠকে নতুন করে ফর্ম ফিলাপ হওয়ার পর তা অনলাইনে এন্ট্রি করে তুলতে হবে বলে বিএলও'দের নির্দেশ দেওয়া হয় ৷ আর সেই নির্দেশিকা পাওয়ার পরই বিডিও অফিসে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিএলও'রা । বিক্ষোভের পর তাঁরা মেদিনীপুর সদরের বিডিওকে তাঁদের অভিযোগপত্র জমা দেন । যেখানে স্পষ্টভাবে নতুন করে ডাটা এন্ট্রির কাজ তাঁরা করবেন না বলে জানিয়ে দেন ।

BLOs protest
বিএলও'রা অভিযোগপত্র জমা দেন বিডিওর কাছে (নিজস্ব ছবি)

ক্ষুব্ধ বিএলও বিধিতা সাউ বলেন, "আমি প্রথমে একজন মা ৷ এরপর আমার সংসারের তাগিদে চাকরি করতে আসা । দেশের স্বার্থে আমরা এনুমারেশন ফর্ম বিলি করা এবং জমা নেব বলে অঙ্গীকার করেছি । কিন্তু দিনের পর দিন কমিশন থেকে যেভাবে একের পর এক নির্দেশিকা চাপিয়ে দিচ্ছে তার ফলে আমাদের সমস্যা হচ্ছে । নতুন করে চাপিয়ে দেওয়া এই ডাটা এন্ট্রির কাজ আমরা কিছুতেই করতে পারব না । তাই আমরা বিডিওকে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছি ।"

আরেক বিএলও সঞ্জিতকুমার ঘনা বলেন, "আমাদেরকে ট্রেনিংয়ের জন্য ডাকা হয়েছিল ৷ কিন্তু ট্রেনিংয়ে এসে দেখলাম নতুন করে আমাদের নির্দেশিকা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে । এমনিতেই আমাদের অনেকেরই বয়স হয়েছে ৷ অনেকেই চাকরি সংসার সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন । তার উপর এই নতুন করে ডাটা এন্ট্রি আপলোড করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করতে হবে আমাদের বিএলও'দের । তাই আমরা এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করব না বলে ঠিক করেছি ।"

অন্যদিকে মেদিনীপুর সদরের বিডিও কাহেকাসান পারভিন বলেন,"বিএলও'রা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন আমাদের কাছে ৷ আমরা শুনেছি ৷ আমরা বিষয়টা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি ৷ ওনারা যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবেন ৷ তবে নির্বাচন কমিশন থেকে যেমন গাইডলাইন আমাদের কাছে আসে আমরা তেমনই জানাই বিএলও'দের ৷ এতে আমাদের কিছু হাত নেই ৷"