ক্লাসরুমে উদ্ধার বিএলও'র ঝুলন্ত দেহ, 'কাজের চাপে' নিজেকে শেষ করলেন প্রধান শিক্ষক !
ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের কাজের চাপে নিজেকে শেষ করলেন বিএলও ৷ এই নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷

Published : December 28, 2025 at 7:10 PM IST
রানিবাঁধ, 28 ডিসেম্বর: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাসরুম থেকে উদ্ধার বিএলও'র ঝুলন্ত দেহ ৷ ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার রানিবাঁধ বিধানসভার রাজাকাটা এলাকায় ৷ পরিবারের দাবি, বিএলও-র কাজের চাপ নিতে না পেরেই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক হারাধন মণ্ডল ৷
ঘটনা প্রসঙ্গে সরব হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ মৃত্যুর জন্য বিজেপিকেই দুষেছেন তিনি ৷ অন্যদিকে, মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ৷ বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য জানান, "পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনি পদক্ষেপ করা হবে"।
ঘটনাস্থল থেকে একটি নোট উদ্ধার হয়েছে ৷ তাতে লেখা, "আমি আর চাপ নিতে পারছি না, বিদায় ৷" শেষে লেখা আছে, "সব ঠিক করেও আমি ভুল করলাম ৷ ক্ষমা করো আমাকে ৷" ৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে রানিবাঁধ থানার পুলিশ ৷ পরে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে ৷
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ার রাজাকাটা মাঝেরপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রানিবাঁধ বিধানসভার 206 নম্বর বুথে বিএলও'র দায়িত্বে ছিলেন ৷ তাঁর বুথের কিছু ভোটারের শুনানিতে ডাক পড়েছে ৷ সেই ভোটারদের নথিপত্র জোগাড়ের নাম করে এদিন বেলা দশটা নাগাদ নিজের বাড়ি থেকে বের হন বিএলও হারাধন ৷ এরপর তাঁর আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি ৷ পরে পরিবারের লোকজন তাঁর খোঁজ করতে করতে স্কুলে গিয়ে একটি ক্লাসরুমে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান ৷ পরিবারের দাবি, হারাধন এসআইআরের কাজের চাপ নিতে না-পেরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন ৷ অনেক রাত জেগে কাজ করতেন ৷ তার জেরেই এমন ঘটনা ৷
The death toll keeps mounting. Another BLO appointed and engaged by the @ECISVEEP has taken his own life under the inhuman pressure of a HURRIED, CHAOTIC and POLITICALLY-MOTIVATED SIR process. Shri Haradhan Mondal of 249 Ranibandh AC, Part No. 206, died by suicide. In his suicide…
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) December 28, 2025
এই মৃত্যু নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন অভিষেক ৷ তিনি লেখেন, "মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে চলেছে ৷ নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত আরেকজন বিএলওর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেল ৷ দ্রুত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এসআইআর প্রক্রিয়ায় অমানবিক কাজের চাপে তিনি তাঁর নিজের জীবন শেষ করেছেন ৷ শ্রী হারাধন মণ্ডল, 249 রবীন্দ্রনাথ বিধানসভার পার্ট নম্বর 206-এর কাজ করছিলেন ৷ তিনি নোটে লিখে গিয়েছেন, চাপের কারণে তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে ৷ বিজেপি নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দার কারণে এই ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ করছে ৷ আর এই কাজের আতঙ্ক, চাপ, দুশ্চিন্তার কারণে 50 জনেরও বেশি মানুষের ইতিমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৷"
রাজ্যে গতকাল থেকে এসআইআর-এর শুনানি পর্ব শুরু হয়েছে ৷ তারপর এই মৃত্যুর ঘটনা সামনে এল ৷ এর আগেও বেশ কয়েকবার এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে ৷ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই মৃতের পরিবার থেকে শুরু করে বাংলার শাসক শিবির ঘটনার দায় চাপিয়েছে কমিশনের উপর ৷

