চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম 'বিচারাধীন', মানসিক চাপ সহ্য করতে না-পেরে বিএলও'র মৃত্যু !
একাধিক বুথে সুপারভাইজার হিসাবে কাজ করছিলেন মৃত বিএলও ৷ কী সুপারভাইজ করছিলেন, কে-ই বা দায়িত্ব দিল, তার সদুত্তর মেলেনি ৷

Published : March 2, 2026 at 12:22 PM IST
কামারহাটি, 2 মার্চ: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরের দিনই 'হৃদরোগ'-এ আক্রান্ত হয়ে এক বিএলও'র মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ৷ নিহতের নাম মহম্মদ তাহির (55) ৷ পরিবার অভিযোগ করেছে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ওই বিএলও'র নামের পাশে লেখা রয়েছে 'অ্যাডজুডিকেশন' ৷ তার উপর এসআইআর-এর ক্রমাগত চাপ এবং তালিকা থেকে বাদ যাওয়া ভোটারদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ বাড়ছিল ৷ তার জেরে মানসিক চাপে ভুগছিলেন তিনি ৷ সেই চাপ সহ্য করতে না-পেরেই, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিএলও'র মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করছেন পরিবারের সদস্যরা ৷
প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই, তা নিয়ে নানা বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ৷ কোথাও বাদ গিয়েছে তৃণমূল নেতা, বিধায়কের নাম, তো কোথাও এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত বিএলও এবং বিডিও'র নাম ৷ আবার কোথাও জনপ্রতিনিধি থেকে প্রশাসনের আধিকারিক কোপে পড়েছেন 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন'-এর ৷ 'বিচারাধীন' সেই তালিকায় নাম ছিল বিএলও মহম্মদ তাহিরের ৷ কমিশনের প্রকাশিত ভোটার তালিকায় তাঁর নামের উপরে লেখা রয়েছে 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' ৷ তা দেখেই তিনি মনমরা হয়ে পড়েছিলেন বলে দাবি পরিবারের ৷ তারপর এ দিন মৃত্যু হয়েছে তাঁর ৷ স্বভাবতই বিষয়টিকে দু'য়ে-দু'য়ে চার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে ৷
জানা গিয়েছে, মহম্মদ তাহিরের বাড়ি কামারহাটি পুরসভার 7 নম্বর ওয়ার্ডের আনোয়ার বাগান এলাকায় ৷ স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন তিনি ৷ কামারহাটি বিধানসভার 69 নম্বর বুথের ভোটার ওই ব্যক্তি ৷ তবে, বিএলও-র পাশাপাশি তাঁর উপর 'সুপারভাইজার'-এর মতো অতিরিক্ত দায়িত্ব ছিল ৷ পরিবারের দাবি, পাশের 57 নম্বর বুথ থেকে 64 নম্বর বুথের 'সুপারভাইজার'-এর দায়িত্বে ছিলেন মহম্মদ তাহির ৷ কিন্তু কী সুপারভাইজ করছিলেন, কে বা কারা সেই দায়িত্ব দিলেন, তার কোনও স্পষ্ট জবাব মেলেনি ৷
অন্যদিকে, নিজের ভোটার লিস্টের লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি থাকায় বিএলও মহম্মদ তাহির শুনানিতে প্রয়োজনীয় নথিও দাখিল করেছিলেন ৷ কিন্তু, নথি যাচাই ও নিষ্পত্তি না-হওয়ায় তাঁর নামের উপর 'অ্যাডজুডিকেশন' বা 'বিচারাধীন' লেখা রয়েছে ৷ তাই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ পরিবারের ৷
এই বিষয়ে নিহতের আত্মীয় নিজামুদ্দিন বলেন, "বিএলও'র পাশাপাশি উনি যে বুথের সুপারভাইজারের দায়িত্বে ছিলেন, সেই বুথ থেকে অনেকেরই নাম বাদ গিয়েছে ৷ তার জন্য ওঁকে দায়ী করে অনেকেই ফোন করছিলেন ৷ গালিগালাজও করেছেন ৷ মহম্মদ তাহিরের নিজের নামও 'বিচারাধীন' তালিকায় রয়েছে ৷ এ নিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ৷ তাছাড়া এসআইআর-এর অতিরিক্ত কাজের চাপ তো ছিলই ৷ সেই চাপের জেরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে ৷"
এদিকে, বিএলও'র মৃত্যুর ঘটনা জানতে পেরে এ দিন নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দেন কামারহাটি টাউন তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ ৷ তিনি বলেন, "যতদূর জানতে পেরেছি উনি শারীরিক দিক থেকে সুস্থই ছিলেন ৷ কোনও সমস্যা ছিল না ৷ তবে, ভোটার তালিকায় বিএলও'র নামের পাশে লেখা ছিল 'বিচারাধীন' শব্দটি, তা নিয়ে চাপে ছিলেন তিনি ৷ সেই চাপেই হার্ট অ্যাটাক হয়ে ওঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা আমাদের ৷ বাকিটা তদন্ত সাপেক্ষ বিষয় ৷"

