জনসংযোগ কর্মসূচিতে বিজেপি কর্মীদের মারধর! পালটা মদ্যপ অবস্থায় প্রচারের দাবি তৃণমূলের
বিজেপির জনসংযোগ কর্মসূচিতে শাসকদলের বিরুদ্ধে মারধর ও বাধা দেওয়ার অভিযোগ ৷ পালটা তৃণমূলের বিজেপি কর্মীদের মদ্যপ অবস্থায় প্রচারের অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত দুর্গাপুর ৷

Published : February 24, 2026 at 2:44 PM IST
দুর্গাপুর, 24 ফেব্রুয়ারি: ভোটের আগে বিজেপি কর্মীরা দুর্গাপুরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ যাত্রায় যাচ্ছেন । সেসময় তাঁদের প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ । সোমবার সন্ধ্যায় এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায় দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর বি-জোন এলাকায় ।
অভিযোগের তির প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায় জালান ও তাঁর স্বামী সৌগত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ এক তৃণমূল কর্মীর দিকে । অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে বিজোন ফাঁড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখালেন বিজেপি কর্মীরা । ওঁরা নাটক করছে, পালটা প্রতিক্রিয়া দুর্গাপুর নগর নিগমের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায় জালান ও তাঁর স্বামীর ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অশান্তির শুরু সোমবার রাতে । অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা দুর্গাপুর নগর নিগমের স্টিল টাউনশিপের তিন নম্বর ওয়ার্ডের অধীন রামান্যুজম, উইলিয়াম কেরি ও মেঘনাথ সাহা এলাকায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রচার পত্র বিলি করছিলেন, তখন স্থানীয় প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায় জালান ও তাঁর স্বামী সৌগত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দলবল আক্রমণ করে বিজেপি কর্মীদের উপর ৷ এমনকী মহিলা বিজেপি কর্মীরাও রেহাই পাননি বলে অভিযোগ ।
বিজেপির মহিলা নেত্রী মিতালী চট্টোপাধ্যায় বলেন, "আমরা কাল বি-জোন রামান্যুজম অ্যাভিনিউ এলাকায় বাড়ি বাড়ি প্রচারে বেরিয়েছিলাম সাত-আট জন বিজেপি কর্মী । তার মধ্যে দু'জন আমরা মহিলা কর্মী ছিলাম । হঠাৎ তৃণমূল কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী এসে প্রথমে দাদাদের মারধর শুরু করল । তারপর আমাদেরকেও ধাক্কা দিয়ে পাড়া থেকে বের করে দেওয়া হল । অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় আমাদের ।"

দলীয় কর্মীদের উপর চড়াওয়ের ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে আসেন জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় । তিনি বলেন, "আমাদের কার্যকর্তারা যখন বাড়ি বাড়ি প্রধানমন্ত্রীর পত্র নিয়ে জনসংযোগ কর্মসূচিতে বেরিয়েছিলেন, তখন এই ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর এবং তাঁর স্বামী সৌগত বন্দ্যোপাধ্যায় একদল দুষ্কৃতীকে নিয়ে আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে । বিজেপির বেশ কয়েকজন মহিলা কার্যকর্তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন তৃণমূল কংগ্রেসের পুরুষ কর্মীরা ।"
তিনি আরও বলেন, "এই সৌগত বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের স্থায়ী কর্মী হওয়া সত্ত্বেও সে কারখানায় কোনও কাজ করে না । কারখানায় হাজিরা দিয়েই বেরিয়ে যায় ৷ তারপর সে এই এলাকার দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের বিভিন্ন ফাঁকা আবাসনগুলিতে বেআইনিভাবে ভাড়া খাটান । ভগৎ সিং মোড় থেকে চিত্রালয় রোটারি পর্যন্ত দুর্গাপুর স্টিলের জায়গায় বেআইনি দোকানঘর বসিয়ে কাটমানি আদায় করেন । আমরা পুলিশকে বলেছি এর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে তা না-হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাব ।"

ইতিমধ্যে সোশাল মিডিয়ায় এই ঘটনা সংক্রান্ত একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে । যেখানে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, মদ্যপ অবস্থায় প্রচার করছিলেন এক বিজেপি কর্মী ৷ তার প্রতিবাদ করাতেই অশান্তির শুরু । যদিও ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি ইটিভি ভারত ।
বিজেপি এখন ভোটের মুখে নাটক করছে বলে অভিযোগ দুর্গাপুর নগর নিগমের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায় জালান ও তাঁর স্বামীর । তাঁদের কথায়, "বিজেপির বহিরাগত কিছু লোক মদ্যপ অবস্থায় হঠাৎ বেশ কিছু বাড়িতে ঢুকে বিজেপিকে ভোট দিতে হবে বলে দাবি করে ৷ তখন এলাকার মানুষ অপরিচিত ওই যুবকদের দেখে আমাকে ফোন করে । আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি যারা এসেছিল, তারা সবাই বহিরাগত এবং মদ্যপ অবস্থায় । আমরা তাদেরকে অনুরোধ করি এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য । কিন্তু তারাই প্রথমে শুরু করে অসভ্য গালিগালাজ । তারপরে আমরা তাদের আক্রমণ প্রতিরোধ করি ।"
বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ স্থির না-হলেও কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে ৷ সন্ত্রাস পালটা সন্ত্রাসের অভিযোগে নির্বাচনী উত্তেজনার পারদ চড়ছে শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে । এই ঘটনায় বি-জোন ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে ৷ যদি কোনও ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে বিজেপি নেতৃত্ব । এসিপি সুবীর রায় এবিষয়ে বলেন, "আমরা এই ঘটনায় দুটি অভিযোগ পেয়েছি । দুই পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।"

