ETV Bharat / state

রাতে অগ্নিমিত্রার গাড়ি আটকে বিক্ষোভ, উত্তাল আসানসোল

স্থানীয় বাসিন্দা এবং তৃণমূল কর্মীরা অগ্নিমিত্রা পলের গাড়ি আটকে রাখেন বলে অভিযোগ ৷ শেষ পর্যন্ত পুলিশ এসে তাঁকে নিরাপদে গ্রাম থেকে বের করে নিয়ে যান।

AGNIMITRA PAUL
বিধায়ককে দেখতে পেয়েই তাঁরা স্লোগান দিতে শুরু করেন (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : December 11, 2025 at 10:50 AM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

আসানসোল, 11 ডিসেম্বর: 'পাড়ায় পাড়ায় দিদিভাই' কর্মসূচিতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা এবং তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়লেন আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল। বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভার অন্তর্গত রানিগঞ্জ গ্রামীণ এলাকায় টিরাট গ্রামে। অনেক রাত পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দা এবং তৃণমূল কর্মীরা অগ্নিমিত্রা পলের গাড়ি আটকে রাখেন। দীর্ঘসময় ধরে গাড়ির মধ্যে ঠায় বসে থাকেন বিধায়ক । শেষ পর্যন্ত পুলিশ এসে তাঁকে নিরাপদে গ্রাম থেকে বের করে নিয়ে যায় ।

পরে এই ঘটনার প্রতিবাদে গভীর রাত পর্যন্ত আসানসোলে বিক্ষোভে সামিল হন বিজেপির নেতা থেকে কর্মীরা । তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় পথ অবরোধ করে। এদিন বিকেলে আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভার অন্তর্গত টিরাট গ্রামে 'পাড়ায় পাড়ায় দিদিভাই' জনসংযোগ কর্মসূচিতে গিয়েছিলেন অগ্নিমিত্রা পল। সেখানে বেশ কিছু এলাকা ঘোরার পর সন্ধ্যায় যখন তিনি টিরাট গ্রামের গর্গরডাঙায় যান, সেখানে এসআইআর-এর কাজে ব্যস্ত ছিলেন তৃণমূল কর্মীরা। বিধায়ককে দেখতে পেয়েই তাঁরা স্লোগান দিতে শুরু করেন।

দীর্ঘসময় ধরে গাড়ির মধ্যে ঠায় বসে থাকেন বিধায়ক (ইটিভি ভারত)

স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বচসা বেঁধে যায় অগ্নিমিত্রার। তিনি বিধায়ককে প্রশ্ন করেন এতদিন কোথায় ছিলেন ? এর পাশাপাশি গ্রামবাসী মহিলারাও বিধায়ককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অগ্নিমিত্রা পল গাড়িতে গিয়ে বসলে তাঁর গাড়ির সামনে বসে যান এলাকার মহিলারা। দীর্ঘ সময় ধরে অগ্নিমিত্রা পলকে সেখানে আটকে রাখেন গ্রামবাসী এবং তৃণমূল কর্মীরা ৷

অগ্নিমিত্রা বলেন, "স্থানীয় তৃণমূল কর্মী এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে হেনস্তা করেছে। আমাকে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে রেখেছে। পুলিশ এসে আমাকে এখান থেকে নিয়ে গিয়েছে। আমি গাড়ির মধ্যে আটকে বসেছিলাম। গ্রামবাসী ও মহিলাদের নিয়ে এসে আমাদের আটকানো হয়েছে। তবে এরকমভাবে আমাদের আটকে রাখা যাবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি মনে করছেন যে তার তৃণমূল ক্যাডার দিয়ে আমাদের কাজকে থমকে দেবে আমরা কিন্তু দমে যাওয়ার পাত্র নই।"

AGNIMITRA PAUL
তৃণমূল কর্মীরা অগ্নিমিত্রা পলের গাড়ি আটকে থাকেন বলে অভিযোগ (ইটিভি ভারত)

অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা তথা পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, "ওনাকে এতদিন পর্যন্ত দেখতে পাওয়া যায়নি। আমরা এসআইআরের কাজ করছিলাম। শুনলাম বহিরাগত কিছু গুন্ডা নিয়ে উনি এসেছেন। আমরা ওনাকে বসতে বলি। চেয়ার দিই। কিন্তু উনি বসেননি। উল্টে দুর্ব্যবহার করেছেন। বলেছেন, আগের বিধায়ক নাকি কিছু করেননি। অথচ উনি যে রাস্তায় এসেছেন সেটা পূর্ববর্তী বিধায়কের করা, এলাকায় জল থেকে শুরু করে সমস্ত উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু উনি বিধায়ক হওয়ার পর আর এই এলাকায় সাড়ে চার বছর আসেননি। স্থানীয় মহিলারা তাই বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। কিন্তু খুব দুঃখজনক স্থানীয় মহিলাদের বন্দুক উঁচিয়ে ওনার নিরাপত্তারক্ষীরা বলছেন গুলি মেরে দেব।"

বিষয়টি নিয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলার তৃণমূলের সভাপতি তথা বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে প্রশ্ন করা হলে উনি বলেন "এটা কত লজ্জার ব্যাপার যে স্থানীয় বাসিন্দারা বিধায়ক আটকে রাখছে। সাড়ে চার বছর ওনার দেখা নেই এখন উনি কয়লা মাফিয়াদের সঙ্গে নিয়ে 'পাড়ায় পাড়ায় দিদিভাই' করতে যাচ্ছেন। স্বভাবতই মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ বেরিয়েছে। আর তৃণমূল কর্মীরা সব জায়গাতেই থাকে। তারা এসআইআরের কাজে ব্যস্ত ছিল। গ্রামবাসীরা এরকম একটা বিক্ষোভ করছে শুনে তৃণমূল কর্মীরা সেখানে গিয়েছে।"

অন্যদিকে, এই ঘটনার পর গভীর রাত পর্যন্ত আসানসোলে বিজেপি কর্মীরা দফায় দফায় বিক্ষোভ শুরু করে। প্রথমে কালীপাহাড়ি মোড়ে, পরবর্তীকালে ভগৎ সিং মোড়ে বিক্ষোভ এবং পথ অবরোধ হয়। আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ গিয়ে অবরোধকারীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়।