দোলের দিন বিজেপির কর্মীদের মারধর-সন্ত্রাস ! কাঠগড়ায় তৃণমূল
তারকেশ্বরে পুলিশের সামনে বিজেপির কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে ৷ পাশাপাশি খানাকুলে তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঝামেলার সৃষ্টি হয় ৷

Published : March 4, 2026 at 2:17 PM IST
তারকেশ্বর (হুগলি), 4 মার্চ: নির্বাচনের আগেই দোলের দিন বিজেপির উপর হামলার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে । ঘটনাটি ঘটেছে হুগলি জেলার তারকেশ্বরের ভীমপুর এলাকায় । মঙ্গলবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত দফায় দফায় বিজেপিকর্মীদের মারধর ও তাঁদের উপর তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা আক্রমণ চালায় বলে অভিযোগ । ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন বিজেপিকর্মী ৷
এরপর রাতে তারকেশ্বর থানায় লিখিত অভিযোগ জানাতে যান বিজেপিকর্মীরা ৷ সেখানও মারধর করা হয় বিজেপিকর্মীদের বলে অভিযোগ । যদিও এই ঘটনা অস্বীকার করছে তৃণমূল । পরে থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয় বিজেপির তরফে ।
বিজেপি কর্মীদের বেধড়ক মারধর
বিজেপির অভিযোগ, দোলের দিন দুপুর 2টোর দিকে প্রথমে তারকেশ্বরের ভীমপুরে বিজেপিকর্মী নন্দন ভাণ্ডারীর বাড়িতে হামলা চালায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা । খবর পেয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীরা আক্রান্ত নন্দন ভাণ্ডারীর বাড়িতে যান ৷ সেই সময় তাঁদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ । পরে বিজেপি নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে পুলিশের সহযোগিতায় কর্মী-সমর্থকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ অভিযোগ, সেখানেও বিজেপি কর্মীদের উপর আক্রমণ চালায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা ।
এমনকি পুলিশের সামনেই বিজেপি কর্মীদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ । চিকিৎসা করার পর সন্ধ্যায় থানায় অভিযোগ জানাতে যান বিজেপিকর্মীরা । সেখানেও পুলিশের সামনেই বিজেপি নেতা-কর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে । রাত পর্যন্ত তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে গন্ডগোল চলে । ঘটনাকে ঘিরে দোলের দিন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে তারকেশ্বর ৷
বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য
আহত বিজেপিকর্মী সুনীল পোড়েল বলেন, "প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ করছে না ৷ তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা আমাদের প্রচুর মারধর করেছে ৷ আমাদের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ আছে ৷ হাসপাতালে গেলে সেখানেও মারধর করা হয়েছে ৷"
আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সম্পাদক তারকনাথ সাউ বলেন, "আমাদের বুথ সভাপতি ঘরে ঢুকেছে তৃণমূলের গুন্ডারা । পার্টিগত আক্রোশের কারণেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে তৃণমূল । মণ্ডল সভাপতি সাহেব মাঝি উদ্ধার করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয় । তারকেশ্বর থানার পুলিশের সামনে মারধর করা হয় । তারকেশ্বরে জঙ্গলরাজ চলছে । কোনও আইনের শাসন নেই । এর বিচার চাই । না-হলে আন্দোলন হবে ।"
বিজেপি নেত্রী পর্ণা আদক বলেন, "মঙ্গলবার দুপুর দুটো থেকে আড়াইটের মধ্যে ঘটনাটা ঘটেছে ৷ আমাদের দলের বুথ সভাপতির বাড়িতে যায় তৃণমূলের কিছু দুষ্কৃতী ৷ ওঁকে প্রচুর মারধর করে ৷ স্ত্রী ও বাবাকে মারধর করা হয় ৷ আমাদের দলের কর্মীরা ওঁদের চিকিৎসা করানোর জন্য আনতে গেলে তাদেরও মারধর করা হয় ৷ পুলিশের উপস্থিতিতে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা আমাদের কর্মীদের মারধর করছে, হুমকি দিয়েছে ৷"
তৃণমূলের বক্তব্য
যদি তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মানে নারাজ শাসকদল ৷ তৃণমূলের তারকেশ্বর ব্লক সভাপতি প্রদীপ সিংহ রায় বলেন, "বিজেপি লোকজন জড়ো করে আমাদের কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছিল । বিজেপির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ।"
তৃণমূল-বিজেপির মারামারি খানাকুলে
এদিকে হুগলির খানাকুলে জয় শ্রীরাম ও জয় বাংলা স্লোগানকে কেন্দ্র করে তৃণমূল-বিজেপির মারামারি হয় । ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার দোল পূর্ণিমার দিন খানাকুলের চিংড়া পঞ্চায়েতের দিকবাঁধ এলাকায় ৷ খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বিজেপির পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি অরুণ মহিষ দেখেন তাঁর ছেলেকে বেধড়ক মারধর করছে ৷ ছেলেকে বাঁচাতে গেলে সেই সময় তাঁকে তৃণমূল নেতা বিভাস মালিকের অনুগামীরা বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ ৷ ঘটনায় আক্রান্ত হন অরুণ মহিষ ।
অপরদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে পালটা অভিযোগ তোলা হয়, বিজেপির পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি অরুণ মহিষের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ওই এলাকায় অত্যাচার চলছিল । এদিনও মদ্যপান করে অশান্তি করছিলেন বাবা-ছেলে ৷ সেই সময়ই এলাকার মানুষেরা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে মারধর করেন তাঁধের বলে তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি । পুলিশ সূত্রে খবর, দুই তরফে অভিযোগ জমা পড়েছে । পুলিশ তদন্ত করে খতিয়ে দেখছে ।

