BLA-2'কে চড় তৃণমূল 'ঘনিষ্ঠ' BLO'র ! ঠেকাতে গেলে বেধড়ক মার বিজেপি নেতাকে
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার তৃণমূলের ৷ পালটা বিজেপি অভিযুক্তদের কড়া শাস্তির দাবি তুলেছে ৷

Published : November 6, 2025 at 5:54 PM IST
বারুইপুর, 6 নভেম্বর: এসআইআর-এর এন্যুমারেশন ফর্ম বিলির কাজ নিয়ে বচসা ৷ বিজেপির বিএলএ-2 কে চড় মারার অভিযোগ উঠল মহিলা বিএলও'র বিরুদ্ধে ৷ ঠেকাতে গিয়ে ঘটনায় গুরুতর জখম হলেন এক বিজেপি নেতা ৷ ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার দক্ষিণ 24 পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার বেগমপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ৷
মঙ্গলবার থেকে রাজ্যে এসআইআর-এর কাজ শুরু হয়েছে । ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে এন্যুমারেশন ফর্ম বিলি করছেন বিএলও'রা । আর তাঁদের সঙ্গে যাচ্ছেন বিএলএ'রা ৷ সেই অনুযায়ী ফর্ম বিলির কাজ শুরু করার জন্য বুধবার বারুইপুর 200 কলোনি এলাকার অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী তথা বিএলও অঞ্জনা মণ্ডলের সঙ্গে দেখা করেন বিজেপির বিএলএ-2 সুরজিৎ বিশ্বাস ৷ কিন্তু ফর্ম বিলির কাজ শুরু করার আগেই তাঁর পরিচয়পত্র ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএলও'র বিরুদ্ধে ।
শুধু তাই নয়, সুরজিৎ বিশ্বাসকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে অঞ্জনা মণ্ডলের বিরুদ্ধে । আর সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কর্মী ও বেগমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের উপ-প্রধান রিয়া বর্মনের স্বামী চয়ন বর্মন ৷ অভিযোগ, তাঁর নেতৃত্বে তৃণমূলের লোকজনও সুরজিৎ বিশ্বাসকে বেধড়ক মারধর করে ।
দলের বিএলএ মার খাচ্ছেন দেখে ঠেকাতে যান স্থানীয় বিজেপি নেতা তাপস রায় ৷ অভিযোগ, উপ-প্রধানের স্বামী ও তাঁর দলবল ওই বিজেপি নেতাকেও বেদম পেটান । তাঁর মাথায় ও কপালে চোট লেগেছে । এরপর আক্রান্ত দলীয় নেতা তাপস রায় ও বিএলএ-2 সুরজিৎ বিশ্বাসকে উদ্ধার করে বুধবার রাতে বিজেপি কর্মীরা চিকিৎসা করাতে নিয়ে আসেন বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে ।

পরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বারুইপুর থানায় বিজেপির তরফে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে । বারুইপুরের এসডিপিও অভিষেক রঞ্জন বলেন, "বুধবারের ঘটনা নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে । উভয়পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে । সম্পূর্ণ বিষয় নিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে ।"
আক্রান্ত বিএলএ-2 সুরজিৎ বিশ্বাস বলেন, "বিএলওর সঙ্গে ফর্ম নিয়ে তর্কাতর্কির পর আমাদের মারধর করা হয় ৷ তৃণমূলের উপপ্রধানের স্বামী লোকজন নিয়ে আমাকে বাইকে করে এসে বেধড়ক মেরেছে ৷ কোনওরকমে ওখান থেকে আমি প্রাণে বেঁচে পালিয়ে আসি ৷"
যদিও সেই হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বারুইপুর পূর্ব ব্লক তৃণমূলের সহ-সভাপতি ও পঞ্চায়েত উপ-প্রধানের স্বামী চয়ন বর্মন । তাঁর পালটা দাবি, "অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে অভিযুক্ত বিএলএ-2 । আর মত্ত অবস্থায় নিজেরা মারামারি করে মিথ্যা তৃণমূলকে বদনাম করার চেষ্টা করছে বিজেপি ।"
এদিকে বিজেপির বারুইপুর পশ্চিম-1 মণ্ডল সভাপতি গৌতম চক্রবর্তী বলেন, "58 নম্বর বুথের বিএলও অঞ্জনা মণ্ডলকে তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামীই তো অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী করেছে । তার রিটার্ন দিচ্ছে এই ভাবে । ফর্ম দিতে বেরিয়ে বিজেপির বিএলএ-2-কে ডেকে নিয়ে গিয়ে ওঁর কাগজ ছিঁড়ে দেয় । চড় মারে । এর পরে উপ-প্রধানের স্বামী 15-20 জনকে নিয়ে গিয়ে আমাদের বিএলএ-2-কে মারধর করে । আমাদের দলের নেতা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁ মারধর করা হয় ৷ তিনি গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ৷"
অঞ্জনা মণ্ডল যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন । তাঁর দাবি, তাঁকে বিজেপির লোকেরা হুমকি দেয় । তিনি বলেন, "আমি 30 বছর ধরে কাজ করছি । কেউ কোনও দিন এইভাবে অপমান করেনি । আজ বিজেপি যা করল, আমার খুবই আত্মসম্মানে লেগেছে । আমার নামে মিথ্যা কথা বলে ফেসবুকে লিখেছে । আমার বদনামের চেষ্টা করছে । এই ভাবে আমি কাজ করতে ভয় পাচ্ছি । আমাকে নিরাপত্তা দেওয়া হোক ।"
বারুইপুর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি শ্যামসুন্দর চক্রবর্তী বলেন, "এটা হতে পারে না ৷ যারা বিএলও হিসাবে কাজ করছে তারা কেন মারধর করতে যাবে ৷ চয়ন বর্মনকে আমি ঝামেলার কথা শুনে পাঠিয়েছিলাম ৷ ওরা মারধর করেনি ৷ বিজেপি গণ্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করছে ৷"

