সাড়ে তিন দশক পর বাংলায় ফিরছে বিশ্ব ইজতেমা, 20 লক্ষ মানুষের সমাগম ঘিরে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
নতুন বছরের শুরুতেই হুগলির দাদপুরে বসতে চলেছে এই আন্তর্জাতিক মানের ধর্মীয় মহাসমাবেশ। চার দিনে প্রায় 18 থেকে 20 লক্ষ মানুষের সমাগম হতে পারে সেখানে।

Published : December 15, 2025 at 10:45 PM IST
কলকাতা, 15 ডিসেম্বর: কয়েকদিন আগে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড দেখেছে লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠের এক বিশাল ধর্মীয় সমাবেশ। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রাজ্যে শুরু হতে চলেছে আরও এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। দীর্ঘ 34 বছর পর বাংলায় ফের আয়োজিত হতে চলেছে বিশ্ব ইজতেমা। নতুন বছরের শুরুতেই হুগলির দাদপুর এলাকার পুইনান-পাণ্ডুয়ায় বসতে চলেছে এই আন্তর্জাতিক মানের এই ধর্মীয় মহাসমাবেশ।
আগামী 2 থেকে 5 জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই ইজতেমা। আয়োজকদের প্রাথমিক অনুমান, চার দিনে দেশ ও বিদেশ মিলিয়ে প্রায় 18 থেকে 20 লক্ষ মানুষের সমাগম হতে পারে সেখানে। এত বিপুল জনসমাগম সামাল দেওয়া এবং অনুষ্ঠানটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই সোমবার নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৈঠকে কারা কারা ছিলেন ?
রাজ্যে শেষবার এই বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছিল 1991 সালে। তারপর দীর্ঘ বিরতি। স্বাভাবিকভাবেই 2026 সালের শুরুতে এই আয়োজন ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে। এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান, সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী এবং অরূপ বিশ্বাস। এছাড়াও ছিলেন একাধিক বিশিষ্ট ইমাম এবং শীর্ষ প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্তারা। প্রশাসনের সব স্তরকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইজতেমাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনওভাবেই রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে পাখির চোখ করতে হবে।
মমতার নির্দেশ
নবান্ন সূত্রে খবর, হুগলি জেলা প্রশাসনকে ইতিমধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে সাফ জানিয়েছেন, এত বড় মাপের একটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। যাঁরা আসবেন, তাঁরা যেন অতিথি হিসেবে সব ধরনের সুবিধা পান। প্রায় 20 লক্ষ মানুষের থাকা ও খাওয়ার আয়োজন এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। সেই কথা মাথায় রেখেই পানীয় জল, শৌচালয়, বিদ্যুৎ এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, ভিড় সামলাতে পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং পুলিশি নজরদারির উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে অগ্নিকাণ্ডের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য দমকলকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব ইজতেমা কী ?
ইজতেমা হল তাবলিগি জামাতের উদ্যোগে আয়োজিত বিশ্বের অন্যতম বিরাট ইসলামিক ধর্মীয় জমায়েত। গবেষকদের মতে, হজ বা কুম্ভমেলার মতোই এই সমাবেশে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ববোধ ও 'উম্মাহ'-র ধারণা সুদৃঢ় হয়। গবেষক বুলবুল সিদ্দিকির মতে, ইজতেমায় অংশগ্রহণ মানুষের আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের ধর্মীয় জীবনে এর গভীর প্রভাব। স্বভাবতই, দীর্ঘ তিন দশক পর বাংলায় এমন একটি আয়োজন সফল করতে মরিয়া রাজ্য সরকার।
প্রশাসনিক মহলের মতে, সামনেই 2026 সালের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জন শাসকদলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই ধর্মীয় সমাবেশকে ঘিরে যাতে কোনও প্ররোচনা বা অশান্তির ছায়া না পড়ে, সে ব্যাপারে প্রশাসনকে 'জিরো টলারেন্স' নীতি নিয়ে চলার বার্তা দিয়েছেন মমতা। বিশেষ করে বহিরাগতদের উপর নজরদারি এবং সোশাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানো রুখতে সাইবার সেলকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

