ETV Bharat / state

মসজিদ নয়, চক্রান্তে পা দেওয়ার জন্যই শাস্তি, নাম না-করে হুমায়ুনকে কড়াবার্তা কুণালের

কুণাল ঘোষ সরাসরি হুমায়ুন কবিরের নাম উচ্চারণ না করলেও তাঁর আক্রমণের অভিমুখেই স্পষ্ট, তাঁর নিশানায় মুর্শিদাবাদে সদ্য তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত নেতাই।

KUNAL GHOSH WARNING TO HUMAYUN
হুমায়ুনকে কড়া বার্তা কুণালের (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : December 6, 2025 at 2:45 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 6 ডিসেম্বর: 1992 সালের এইদিনে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনাকে সামনে রেখে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস প্রতি বছরই এই দিনটিকে ‘সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে ৷ সম্প্রীতির বার্তা দিতে আজ বিকেলে গান্ধি মূর্তির পাদদেশে সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু কলকাতার এই সম্প্রীতির সুরের ঠিক উল্টো স্রোত বইছে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গায়। সেখানে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে এদিনই বাবরি মসজিদের শিলান্যাস কর্মসূচি পালন করছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবির। সংহতি দিবসে তৈরি হওয়া এই সমান্তরাল স্রোত রুখতে এবার আসরে নামলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। নাম না-করে হুমায়ুনকে কড়া হুঁশিয়ারিও দিলেন কুণাল ৷

​শনিবার সকালে এক ভিডিও বার্তায় কুণাল ঘোষ সরাসরি হুমায়ুন কবিরের নাম উচ্চারণ করেননি। কিন্তু তাঁর বাচনভঙ্গি এবং আক্রমণের অভিমুখ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নিশানায় মুর্শিদাবাদে সদ্য তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত নেতাই। কুণাল দলের অবস্থান স্পষ্ট করে জানান, বাংলায় বা তৃণমূল কংগ্রেসে ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগত উদ্যোগে মন্দির, মসজিদ, গির্জা বা যেকোনও উপাসনালয় তৈরির ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। কোনও ব্যক্তি তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে আরাধনার স্থান নির্মাণ করতেই পারেন। তার জন্য কাউকে দল থেকে বহিষ্কার করা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ইতিহাস তৃণমূলে নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।

হুমায়ুনকে কড়া বার্তা কুণালের (ইটিভি ভারত)

​তাহলে কেন হুমায়ুনের বিরুদ্ধে এত কঠোর পদক্ষেপ ? সেই ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “যদি কোনও ব্যক্তি অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের চক্রান্তের ফাঁদে পা দেন এবং প্ররোচিত হয়ে ধর্মের মোড়কে আসলে রাজনৈতিক অঙ্ক কষতে শুরু করেন, তবে দল তা মেনে নেবে না।” কুণাল ঘোষের অভিযোগ, বিরোধীরা যখন ধর্মীয় ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে ‘বিষাক্ত মেরুকরণের মায়াজাল’ তৈরি করতে চাইছে, তখন দলেরই কোনও সদস্য যদি সেই ফাঁদে পা দিয়ে কোনও ধর্মীয় কর্মসূচিকে ‘পলিটিক্যাল ইভেন্ট’-এ পরিণত করেন, তবে তা আসলে দলবিরোধী কাজ । ভোটের রাজনীতির স্বার্থে ধর্মকে ঢাল করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করলে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থা নেওয়াই স্বাভাবিক।

​নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে গীতাপাঠের প্রাসঙ্গও টেনেছেন কুণাল। তিনি বলেন, “গীতা আমাদের হৃদয়ে থাকে। হিন্দু ধর্মাবলম্বী হিসেবে আমরা গীতাকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু যখন গীতা পাঠকে রাজনৈতিক মার্কেটিং হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন আমরা সেই ইভেন্টটেরও বিরোধিতা করছি, গীতার নয়।” ঠিক একই যুক্তি বেলডাঙ্গার ঘটনার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে কুণাল বোঝাতে চেয়েছেন, কেউ মসজিদ গড়তেই পারেন, কিন্তু 6 ডিসেম্বরকে বেছে নিয়ে বিরোধীদের রাজনৈতিক এজেন্ডাকে পুষ্ট করতে যদি কেউ মসজিদের শিলান্যাস করেন, তবে তা আর ধর্মীয় থাকে না, তা একান্তই রাজনৈতিক অভিসন্ধিমূলক।

হুমায়ুন কবির এবং তাঁর অনুগামীরা প্রচার করছেন যে, মসজিদ তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কারণেই তাঁকে দল থেকে তাড়ানো হয়েছে। এই দাবিকে ‘ডাহা মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, “কেউ যদি বলেন আমাকে অমুক তৈরির জন্য বহিষ্কার করা হলো, সেটা সর্বৈব মিথ্যা। আসলে তিনি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন এবং বিরোধীদের খেলার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেন বলেই দল ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে।”