বাংলা শেষ করবে ধর্মীয় ঔদ্ধত্য, ব্রিগেডে 5 লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের মঞ্চে দাবি রাজ্যপালের
হিন্দিতে ভাষণ দিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস ৷ 5 লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠে উপস্থিত রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বরা ৷

Published : December 7, 2025 at 3:02 PM IST
কলকাতা, 7 ডিসেম্বর: ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হল 5 লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠান ৷ যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষাধিক সাধু-সন্তরা উপস্থিত হলেন এবং একযোগে গীতাপাঠও করলেন ৷ সেই মঞ্চে এ দিন উপস্থিত হন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসও ৷ সেখানে 'ধর্মীয় ঔদ্ধত্য'কে বিনাসের কথা বলতে শোনা গেল রাজ্যপালকে ৷ আর তা এই বাংলা থেকেই হবে বলে দাবি করলেন তিনি ৷
এ দিন পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে রাজ্যপাল বলেন, "হিন্দি আমাদের রাষ্ট্রভাষা ৷ তাই আমি আজ না-পারলেও, হিন্দিতেই আপনাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করব ৷ ইংরেজি আমাদের মাতৃভাষা নয় ৷ ইংরেজি আমাদের দাইমা’র মতো ৷ দাইমা কখনও মা হতে পারেন না ৷"
তবে, নাম না-করেই মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের বেলডাঙায় 'বাবরি' মসজিদের শিলান্যাসকে ইঙ্গিত করেন রাজ্যপাল ৷ যেখানে ধর্মের নামে ঔদ্ধত্য প্রকাশের অভিযোগ তুললেন তিনি ৷ সিভি আনন্দ বোস বলেন, "মানুষ আমাদের শক্তি ৷ মানুষ আমাদের হাতিয়ার ৷ শত্রু আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে ৷ রাজ্যের দুর্দশায় বাংলা নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে প্রস্তুত ৷ বাংলা ধর্মীয় ঔদ্ধত্য শেষ করতে প্রস্তুত ৷"
তবে, কাদের শত্রু বলে উল্লেখ করলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস ? সে নিয়ে বিশেষ কোনও মন্তব্য অবশ্য করেননি তিনি ৷ উল্লেখ্য, এ দিন ব্রিগেড প্যারাড গ্রাউন্ডে পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ৷ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল এবং নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়রা উপস্থিত ছিলেন ৷ গীতাপাঠও করলেন তাঁরা ৷

সনাতন সংস্কৃতি মঞ্চের উদ্যোগে রবিবার পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের আয়োজন করা হয় ৷ যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু সন্তরা এসেছিলেন ৷ পাশাপাশি, কলকাতা, শহরতলি ও গ্রাম বাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষ গীতাপাঠে অংশ নিতে পৌঁছান ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ৷ ভিভিআইপি ও সাধারণের প্রবেশের জন্য মোট 25টি গেট করা হয় ৷

গীতাপাঠ উপলক্ষে মোট তিনটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ৷ মূল যে মঞ্চ থেকে গীতাপাঠ করা হয়, তার নাম রাখা হয় 'পার্থসারথি' অর্থাৎ, শ্রীকৃষ্ণের নামে ৷ আরেকটি মঞ্চের নামকরণ করা হয় 'শংকরাচার্য' ৷ এ দিন সকাল 8টার সময় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে মূল অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয় ৷ এরপর হয় বিশেষ আরতি ৷ গীতাপাঠ শুরু করার আগে হয় বেদপাঠ এবং হরিনাম সংকীর্তন ৷

