নজরে পর্যটক-নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক উড়ান, মার্কিন কনসাল জেনারেলের সঙ্গে বৈঠক পর্যটনমন্ত্রীর
বৈঠকে কলকাতা থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা সম্প্রসারণ এবং দুই তরফের পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। সুরজিৎ দত্তর প্রতিবেদন

Published : September 2, 2026 at 8:21 PM IST
কলকাতা, 2 সেপ্টেম্বর: এই রাজ্যে বিদেশি পর্যটকদের আগমন বাড়াতে এবং তাঁদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক স্তরে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য প্রশাসন। কলকাতায় নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কনসাল জেনারেল ক্যাথরিন জাইলস-ডিয়াজের সঙ্গে পর্যটন বিকাশ নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসলেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ। বৈঠকে মূলত বাংলায় আসা মার্কিন পর্যটকদের সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা, কলকাতা থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা সম্প্রসারণ এবং দুই তরফের পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রের খবর, বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গকে অন্যতম সেরা গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরাই এখন রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলি থেকে আসা ভ্রমণপিপাসুদের যাতায়াত যাতে নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ হয়, সে দিকে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটেই মার্কিন কূটনীতিকের সঙ্গে এই আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করা হচ্ছে।

বৈঠকের বিষয়ে রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ জানান, বিদেশি পর্যটকদের ভরসা জোগানোই রাজ্যের অগ্রাধিকার। তাঁর কথায়, "আমাদের লক্ষ্য, পশ্চিমবঙ্গকে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের জন্য আরও নিরাপদ, সহজলভ্য ও আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্যেই রাজ্যের প্রতিটি জেলায় 24×7 হেল্পলাইন এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে 365 দিনের স্টেট হেল্পলাইন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, জরুরি যে কোনও প্রয়োজনে যাতে পর্যটকেরা সরাসরি সরকারি সাহায্য পেতে পারেন, সে জন্যই এই সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন চালু করা হচ্ছে। বিদেশি অতিথিরা এই রাজ্যে এসে যাতে কোনও রকম প্রতারণার মুখে না পড়েন, সে ব্যাপারেও বিশেষ সতর্কতা নিচ্ছে পর্যটন দফতর। মন্ত্রী জানান, পর্যটকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সরকারি অনুমোদন পাওয়া হোটেল, হোমস্টে, নথিভুক্ত ট্রাভেল এজেন্ট এবং নির্ভরযোগ্য পরিবহণ পরিষেবা ব্যবহারের বার্তা দেওয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সরকারি প্ল্যাটফর্ম ‘অফিসিয়াল ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্যুরিস্ট অ্যাপ’-এর প্রচার ও ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে ভিনদেশি পর্যটকদের সুবিধার্থে পর্যটন অ্যাপ ও সরকারি ওয়েবসাইটে ভিসা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ও সহায়তা যুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা হচ্ছে।
এই দিনের আলোচনায় জোরালো ভাবে উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক উড়ান যোগাযোগের প্রসঙ্গটিও। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ বিভিন্ন দেশে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি রয়েছে পর্যটন মহলে। সরাসরি উড়ান থাকলে যাতায়াতের সময় কমে এবং বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহও বাড়ে। এই প্রসঙ্গে পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ বলেন, "কলকাতায় সরাসরি আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি পেলে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন আরও এগিয়ে যাবে। এই বিষয়ে আমাদের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।"
প্রশাসনের একাংশের মতে, পাহাড়ে দার্জিলিং থেকে সমুদ্রে দিঘা কিংবা ডুয়ার্সের জঙ্গল থেকে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ— বাংলার বৈচিত্র্য বরাবরই আন্তর্জাতিক পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের জায়গা। উপযুক্ত নজরদারি, উন্নত পরিকাঠামো ও আধুনিক ডিজিটাল সহায়তার মাধ্যমে সেই ক্ষেত্রটিকে আরও প্রসারিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। মার্কিন কনসাল জেনারেলের সঙ্গে এই বৈঠক রাজ্যের পর্যটন শিল্পে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলেই আশা সংশ্লিষ্ট মহলের।

